Rajanya Haldar Sonarpur, Niamal Nasir Raninagar Independent candidate | সোনারপুরে নির্দল লড়াইয়ে রাজন্যা, রানিনগরে কবি নিয়ামাল নাসির, বিধানসভা ভোটে নতুন সমীকরণে তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ

SHARE:

রাজন্যা হালদার দীর্ঘদিন তৃণমূলের ছাত্র ও যুব সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এলাকায় তাঁর সাংগঠনিক উপস্থিতি এবং জনসংযোগের কারণে তিনি একটি পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। তবে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর বিজেপিতে যোগদান করলেও প্রত্যাশিত টিকিট না পাওয়ায় তিনি নিজস্ব পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট যে, তিনি এই লড়াইকে ব্যক্তিগত নয়, বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন। অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের রানিনগর বিধানসভা কেন্দ্রেও এক ভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক চিত্র দেখা যাচ্ছে। সেখানে নির্দল প্রার্থী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছেন কবি ও সাহিত্যিক নিয়ামাল নাসির (Niamal Nasir)।

সাশ্রয় নিউজ ★ কলকাতা / মুর্শিদাবাদ : আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একাধিক চমক সামনে আসছে। তার মধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেসের যুব নেত্রী রাজন্যা হালদার (Rajanya Haldar)। দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর তিনি বিজেপিতে যোগ দিলেও দলীয় টিকিট না পাওয়ায় এবার সোনারপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়াইয়ের ঘোষণা করেছেন। রাজনৈতিক মহলে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে, কারণ সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) -এর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা তিনি নিজেই জানিয়েছেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজন্যা বলেন, ‘আমি কোনও দলের ছত্রছায়ায় নয়, মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে লড়াই করতে চাই। আমার সঙ্গে হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)-এর দল আছে, বিজেপির সমর্থন আছে, এবং কিছু সাংবাদিকও পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।’ তাঁর এই মন্তব্য ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক অন্দরে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে, বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেও নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত কৌশলগত পদক্ষেপ কিনা, তা নিয়ে বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে।

রাজন্যা হালদার দীর্ঘদিন তৃণমূলের ছাত্র ও যুব সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এলাকায় তাঁর সাংগঠনিক উপস্থিতি এবং জনসংযোগের কারণে তিনি একটি পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। তবে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর বিজেপিতে যোগদান করলেও প্রত্যাশিত টিকিট না পাওয়ায় তিনি নিজস্ব পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট যে, তিনি এই লড়াইকে ব্যক্তিগত নয়, বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন। অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের রানিনগর বিধানসভা কেন্দ্রেও এক ভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক চিত্র দেখা যাচ্ছে। সেখানে নির্দল প্রার্থী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছেন কবি ও সাহিত্যিক নিয়ামাল নাসির (Niamal Nasir)। সাহিত্য জগতের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত এই ব্যক্তি এবার সরাসরি রাজনৈতিক ময়দানে নেমে পড়েছেন। তাঁর কথায়, ‘মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার পায় না। সেই অধিকার ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই আমি সাধারণ মানুষের সমর্থনে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে চাই। আমার সমর্থন আছে, হুমায়ুন কবীর ও শুভেন্দু অধিকারীরকে।’

আরও পড়ুন : West Bengal Voting-politics: পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতি: এগিয়ে কে-বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম না কংগ্রেস (আজ আঠেরো-তম কিস্তি)

আরও পড়ুন : Aamir Khan Mahabharata Movie | ‘মহাভারত’ নিয়ে স্বপ্ন ও শঙ্কার দ্বন্দ্ব: কেন এখনও বড় পর্দায় মহাকাব্য আনতে ভয় পাচ্ছেন আমির খান?

নিয়ামাল নাসির –এর রাজনৈতিক যাত্রা বেশ আলাদা। বামপন্থী পরিবারে বেড়ে উঠলেও তিনি দীর্ঘদিন সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন। ২০১১ সালের পর থেকে তিনি পুরোপুরি সাহিত্যচর্চায় মনোনিবেশ করেন এবং কলকাতায় বসবাস করে বাংলাভাষায় লেখালেখির মাধ্যমে নিজের পরিচিতি গড়ে তোলেন। নিয়ামাল নাসির -এর  কবিতা, প্রবন্ধ ও সাহিত্যকর্ম পাঠকমহলে প্রশংসিত হয়েছে। সেই জায়গা থেকেই এবার তিনি জনজীবনের সমস্যাকে সামনে রেখে ভোটের ময়দানে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা যায়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধরনের নির্দল প্রার্থীদের উত্থান রাজ্যের প্রচলিত দলীয় সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে, যেখানে প্রধান দলগুলির বিরুদ্ধে ক্ষোভ বা অসন্তোষ রয়েছে, সেখানে এই প্রার্থীরা ভোটের অঙ্কে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন। রাজন্যা হালদারনিয়ামাল নাসির দুই ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, তাঁরা নিজেদের লড়াইকে ‘মানুষের অধিকার’-এর প্রশ্নে দাঁড় করাতে চাইছেন। সোনারপুরে রাজন্যার লড়াই যেমন তৃণমূল বনাম নির্দল হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে, তেমনই রানিনগরে নিয়ামাল নাসির -এর প্রার্থী হওয়া স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। উভয় ক্ষেত্রেই তৃণমূল কংগ্রেসকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে, যা নির্বাচনী প্রচারে উত্তাপ বাড়াবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণে আরও উঠে আসছে, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এই ধরনের বিকল্প কণ্ঠস্বর ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছে। দলীয় রাজনীতির বাইরে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষের দাবি তুলে ধরার এই প্রবণতা আগামী দিনে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা দেখার অপেক্ষা। তবে এটুকু নিশ্চিত, রাজন্যা হালদার এবং নিয়ামাল নাসির এই দুই নাম এবার ভোটের আলোচনায় বারবার উঠে আসবে। উল্লেখ্য যে, নির্বাচনের আগে এই দুই নির্দল প্রার্থীর অবস্থান, তাঁদের প্রচার কৌশল এবং জনসমর্থন কতটা গড়ে ওঠে, সেটাই এখন মূল প্রশ্ন। রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে, যা শেষ পর্যন্ত ফলাফলে কী প্রভাব ফেলে, তা জানার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ভোটগণনার দিন পর্যন্ত। তবে বড় অংশের এলাকার মানুষের দাবি, রানীনগরে হুমায়ুন কবীর -এর সমর্থন থাকলে নিয়ামাল নাসির -এর জয় নিশ্চিত।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : AJUP, Humayun Kabir | হুমায়ুন কবীরের দলে বড় রদবদল: আম জনতা উন্নয়ন পার্টি নামে সিলমোহর নির্বাচন কমিশনের, প্রতীক পেতে শুরু নতুন লড়াই

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন