সুজয়নীল দাশগুপ্ত ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, লখনউ : আইপিএল শুরুর আগে অনুশীলনেই নজর কেড়ে নিলেন মহম্মদ শামি (Mohammed Shami)। দীর্ঘ দিন জাতীয় দলে জায়গা না পেলেও তাঁর বোলিংয়ের ধার যে এতটুকুও কমেনি, তা প্রমাণ হয়ে গেল লখনউ সুপার জায়ান্টস-এর অনুশীলনে। একের পর এক নিখুঁত ইয়র্কারে স্টাম্প ভেঙে দিয়ে তিনি যেন জানিয়ে দিলেন, এখনও তিনি প্রতিপক্ষের জন্য সমান ভয়ের নাম। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি অনুশীলনের ভিডিও ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। সেখানে দেখা যায়, নেটে দু’টি স্টাম্প রেখে অনুশীলন করছেন মহম্মদ শামি। তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন দলের পেস বোলিং কোচ ভরত অরুণ। জাতীয় দলের সময় থেকেই শামির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্ক রয়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, শামির প্রতিটি ডেলিভারি নিখুঁত লক্ষ্যে গিয়ে আঘাত করছে। একটি বল অফ স্টাম্পের গোড়ায়, পরেরটি লেগ স্টাম্পে। আবার একটি বল দুই স্টাম্পের মাঝখান দিয়ে ঢুকে যায়। প্রতিটি বলেই নিয়ন্ত্রণ ও নিখুঁততা ছিল চোখে পড়ার মতো। ভরত অরুণের মুখের অভিব্যক্তিই বলে দিচ্ছিল, এই পারফরম্যান্স তাঁকে কতটা সন্তুষ্ট করেছে। অনুশীলনের পর দলের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে শামির প্রশংসায় মুখর হন লখনউয়ের প্রধান কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার। তিনি শামির দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘তোমার ইয়র্কারগুলো, ওই ইয়র্কারগুলো, শ্বাসরোধ করে দেয়।’ এই মন্তব্য শোনার পর দলের অন্য ক্রিকেটারেরা হাততালিতে ফেটে পড়েন। তবে শামির প্রতিক্রিয়া ছিল শান্ত। যেন এই ধরনের পারফরম্যান্স তাঁর কাছে নতুন কিছু নয়। এক সময় ভারতীয় দলের প্রধান অস্ত্র ছিলেন মহম্মদ শামি। ২০২৩ সালের এক দিনের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেট নিয়ে তিনি নজর কেড়েছিলেন গোটা ক্রিকেট দুনিয়ার। কিন্তু এরপর চোটের কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাঁকে। ফিরে এসে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি-তে খেললেও তাঁর পারফরম্যান্স আগের মতো নজর কাড়েনি। এরপরই জাতীয় দলে তাঁর জায়গা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকর এবং প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর-এর পরিকল্পনায় তাঁকে আর দেখা যায়নি। এমনকি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড-এর কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকেও বাদ পড়েন তিনি। ফলে অনেকেই মনে করতে শুরু করেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর পথ প্রায় শেষের দিকে। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সে তার কোনও প্রভাব পড়তে দেননি শামি। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত খেলছেন তিনি। বাংলার হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে লাল বলের ক্রিকেট হোক বা সাদা বলের ফরম্যাটে সাইয়দ মুস্তাক আলি ট্রফি, সব ক্ষেত্রেই তাঁর ধারাবাহিকতা নজরে পড়েছে। তাঁর বোলিং এখনও প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
আইপিএলের মঞ্চেও তাঁকে ঘিরে আগ্রহ কমেনি। এবারের নিলামে সানরাইজ়ার্স হায়দরাবাদ থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকায় তাঁকে দলে নিয়েছে লখনউ সুপার জায়ান্টস। দলের পেস আক্রমণে তাঁর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। দলে ইতিমধ্যেই রয়েছেন আবেশ খান এবং মায়াঙ্ক যাদব-এর মতো তরুণ পেসাররা। তাঁদের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব যে শামির উপরই থাকবে, তা পরিষ্কার। তাঁর অভিজ্ঞতা এবং ম্যাচ পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতা দলের জন্য বড় সম্পদ হয়ে উঠতে পারে। আইপিএলে শামির পরিসংখ্যানও যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য। ২০১৩ সাল থেকে এই লিগে খেলছেন তিনি। ২০১৫ এবং ২০২৪ বাদ দিলে প্রায় প্রতি বছরই অংশ নিয়েছেন। এখনও পর্যন্ত ১১৯টি ম্যাচে তিনি ১৩৩টি উইকেট নিয়েছেন। তাঁর সেরা বোলিং ফিগার ১১ রান দিয়ে ৪ উইকেট।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, শামির বোলিং দক্ষতায় কোনও ভাটা পড়েনি বলেই মনে করছেন অনেকেই। মাঝে মাঝেই চোট সমস্যা দেখা দিলেও, মাঠে নামলে তিনি নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেন। আইপিএলের মঞ্চে তাঁর এই ফর্ম যদি বজায় থাকে, তাহলে জাতীয় দলে ফেরার দরজা আবার খুলতে পারে, এমন আশাও করছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। যদিও শামি নিজে এই সব জল্পনায় খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তিনি শুধু নিজের খেলায় মন দিয়েছেন। অন্যদিকে আইপিএল শুরু হওয়ার আগে এই পারফরম্যান্স নিঃসন্দেহে তাঁকে আত্মবিশ্বাস জোগাবে। আর প্রতিপক্ষ দলগুলির জন্য এটি একটি সতর্ক সংকেত, অভিজ্ঞ এই পেসার এখনও খেলার মোড় ঘোরানোর ক্ষমতা রাখেন।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Rinku Singh job, KKR IPL 2026 | আইপিএলের আগে বড় দায়িত্ব, রিঙ্কু সিংহ হলেন স্পোর্টস অফিসার




