সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ গ্যাংটক : অবিরাম ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত সিকিমের একাধিক এলাকা (Sikkim landslide 2026)। বিশেষ করে উত্তর সিকিমে ধস নেমে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। গ্যাংটক থেকে লাচেন এবং চুংথাং থেকে লাচেন যাওয়ার পথে একাধিক জায়গায় ভূমিধসের ঘটনায় আটকে পড়েছেন শতাধিক পর্যটক। প্রশাসন জানিয়েছে, আপাতত তাঁদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেলাশাসক অনন্ত জৈন জানান, টানা বৃষ্টির জেরে পাহাড়ি রাস্তায় একাধিক জায়গায় ধস নামে। ফলে লাচেনমুখী সমস্ত যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। তিনি বলেন, ‘গ্যাংটক এবং চুংথাং থেকে লাচেনের পথে বহু জায়গায় রাস্তা ভেঙে পড়েছে। এই কারণে পর্যটকদের যাত্রা মাঝপথে থামাতে হয়েছে।’ প্রশাসনের প্রাথমিক হিসেব অনুযায়ী, ১০০-রও বেশি পর্যটক চুংথাং এলাকায় আটকে রয়েছেন। প্রশাসন সূত্রে খবর, আটকে পড়া পর্যটকদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইন্দো-তিব্বত সীমা পুলিশ (আইটিবিপি) শিবির এবং স্থানীয় গুরুদ্বারগুলিতে তাঁদের থাকার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। সেখানে খাদ্য ও প্রাথমিক প্রয়োজনীয় জিনিসও সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ‘পর্যটকদের নিরাপত্তা আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার। যতক্ষণ না রাস্তা নিরাপদ হচ্ছে, ততক্ষণ তাঁদের সরানো হবে না।’
আরও পড়ুন : মোবাইল রিচার্জের দাম ঊর্ধ্বমুখী: ভারতে বাড়ছে ডিজিটাল খরচের চাপ, বিপাকে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবার
আরও পড়ুন : PM Janman Yojana Odisha | ওড়িশায় পিএম জনমন প্রকল্পে গতি, হাজার হাজার জনজাতি পরিবারে পৌঁছচ্ছে উন্নয়ন
লাচেনের দিকে যাওয়ার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বহু গাড়ি মাঝপথে আটকে রয়েছে। রাস্তা পরিষ্কার করার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। তবে পাহাড়ি এলাকায় বৃষ্টির কারণে কাজের গতি ব্যাহত হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, আবহাওয়ার উন্নতি হলেই দ্রুত ধস সরিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হবে। অন্যদিকে, লাচুং-এর দিকে যে ধস নেমেছিল, তা ইতিমধ্যেই পরিষ্কার করা হয়েছে। ফলে ওই পথে আটকে থাকা পর্যটকদের ধীরে ধীরে গ্যাংটক-এ ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। তবে লাচেন রুট এখনও সম্পূর্ণভাবে বিপর্যস্ত। এই পরিস্থিতিতে পর্যটকদের জন্য সতর্কবার্তা জারি করেছে প্রশাসন। আপাতত উত্তর সিকিমে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যাঁরা ইতিমধ্যেই ওই অঞ্চলে রয়েছেন, তাঁদের স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলতে বলা হয়েছে।
এদিকে আবহাওয়া দফতরও সতর্ক করেছে। ভারতীয় আবহাওয়া অধিদফতর-এর আলিপুর কেন্দ্র জানাচ্ছে, আগামী কয়েক দিন উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ২৭ মার্চ দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। শুধু বৃষ্টিই নয়, ২৮ এবং ২৯ মার্চ ওই জেলাগুলিতে ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। ফলে পাহাড়ি অঞ্চলে নতুন করে ধস নামার আশঙ্কা থাকছে। প্রশাসন ইতিমধ্যেই দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি শুরু করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি প্রতি বছরই দেখা যায়, তবে এবারের বৃষ্টির তীব্রতা তুলনামূলক বেশি। পাহাড়ি এলাকায় জল জমে মাটি আলগা হয়ে যাওয়ায় ধসের ঝুঁকি বেড়ে যায়। ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত ভেঙে পড়ে।
পর্যটন শিল্পের উপরও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। উত্তর সিকিমে পর্যটকদের ভিড় সাধারণত এই সময় বাড়তে থাকে। কিন্তু এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে অনেকেই ভ্রমণ পরিকল্পনা স্থগিত করছেন। হোটেল এবং ট্যুর অপারেটরদেরও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ধাপে ধাপে পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে আনা হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা দ্রুত মেরামতের কাজও শুরু করা হবে। আবহাওয়ার দিকে নজর রেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, উত্তর সিকিমের এই পরিস্থিতি ফের মনে করিয়ে দিচ্ছে পাহাড়ি অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ কতটা দ্রুত জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে দিতে পারে। আপাতত সকলের নজর আবহাওয়ার দিকে, কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, তার অপেক্ষায় পর্যটক থেকে প্রশাসন সকলেই।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : West Bengal Voting-politics: পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতি: এগিয়ে কে-বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম না কংগ্রেস (আজ বাইশ-তম কিস্তি)




