সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ভারত ও শ্রীলঙ্কার সম্পর্ককে আরও গভীর করতে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মুহূর্ত তৈরি হল সংসদ ভবনে। শ্রীলঙ্কার সংসদীয় প্রতিনিধি দল সোমবার ভারতের লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, উন্নয়ন এবং পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করল। এই বৈঠকে ভারতের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন লোকসভা স্পিকার ওম বিড়লা (Om Birla), তিনি দুই দেশের সম্পর্ককে ‘হাজার বছরের ঐতিহ্যে গড়া বন্ধন’ হিসেবে উল্লেখ করেন। শ্রীলঙ্কার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন এস.এম. মারিক্কার (S. M. Marikkar)। সংসদের পরিকাঠামো ও কৌশলগত বিষয়ক তদারকি কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি এই বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক, ভাষাগত ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের পাশাপাশি ভবিষ্যতের উন্নয়ন সহযোগিতা।
আরও পড়ুন : মোবাইল রিচার্জের দাম ঊর্ধ্বমুখী: ভারতে বাড়ছে ডিজিটাল খরচের চাপ, বিপাকে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবার
বৈঠকে ওম বিড়লা বলেন, ‘ভারত ও শ্রীলঙ্কা কেবল প্রতিবেশী দেশ নয়, আমাদের সম্পর্ক বহু প্রাচীন ঐতিহ্যের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে।’ তিনি জানান, গত এক দশকে ভারতের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার পিছনে রয়েছে গবেষণা ও প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান ব্যবহার। তাঁর কথায়, ‘নতুন প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবন দেশের পরিকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।’ ভারতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে নানা অনিশ্চয়তা থাকা সত্ত্বেও ভারত দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে।’ দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে তিনি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত দেশের লক্ষ্যে পৌঁছনোর কথা উল্লেখ করেন। এই বৈঠকে ‘Neighbourhood First’ নীতির কথাও তুলে ধরা হয়। ভারতের এই নীতি অনুযায়ী প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা হয়, যাতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়। ওম বিড়লা বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ালে দুই পক্ষেরই লাভ হবে এবং উন্নয়নের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।’
আলোচনায় পরিকাঠামো উন্নয়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে আসে। দুই দেশই মনে করছে, ভবিষ্যতে এই ক্ষেত্রটি সহযোগিতার নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। ভারতের বিস্তৃত জাতীয় সড়ক নেটওয়ার্ক, বন্দর ও বিমানবন্দর উন্নয়নের অভিজ্ঞতা শ্রীলঙ্কার জন্যও কার্যকর হতে পারে বলে মত প্রকাশ করা হয়। এছাড়াও সংসদীয় সহযোগিতার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। দুই দেশের মধ্যে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির কার্যকারিতা বাড়াতে নিয়মিত যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই প্রসঙ্গে ওম বিড়লা জানান, ভারত-শ্রীলঙ্কা সংসদীয় মৈত্রী গোষ্ঠী গঠন করা হয়েছে, যেখানে ১১ জন সদস্য রয়েছেন। এই গোষ্ঠীর মাধ্যমে দুই দেশের সংসদের মধ্যে সম্পর্ক আরও মজবুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বৈঠকে সংসদীয় কমিটিগুলির ভূমিকার কথাও উল্লেখ করা হয়। প্রশাসনিক জবাবদিহি ও কার্যকারিতা বাড়াতে এই কমিটিগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দুই দেশের প্রতিনিধি দল এই বিষয়ে মতবিনিময় করে এবং ভবিষ্যতে যৌথভাবে কাজ করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করে।
ওম বিড়লা ‘Vasudhaiva Kutumbakam’ দর্শনের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, ‘বিশ্ব এক পরিবার’ এই ধারণাকে সামনে রেখেই ভারত তার প্রতিবেশী দেশগুলির পাশে দাঁড়াতে চায়। তিনি বলেন, ‘বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলিকে সাহায্য করতে ভারত সবসময় প্রস্তুত।’ উল্লেখ্য যে, এই বৈঠকে কমনওয়েলথ দেশগুলির সংসদীয় সম্মেলনের কথাও উঠে আসে। ওম বিড়লা জানান, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ২৮তম CSPOC সম্মেলন অত্যন্ত সফল হয়েছে এবং এতে সর্বাধিক সংখ্যক প্রতিনিধির অংশগ্রহণ দেখা গেছে। এই ধরনের আন্তর্জাতিক মঞ্চে আলোচনা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে।
শ্রীলঙ্কার প্রতিনিধি দল তাদের সফরের অংশ হিসেবে ভারতের সংসদের আবাসন ও নগর বিষয়ক কমিটির সঙ্গেও বৈঠক করবে। পাশাপাশি আগামী ২৪ মার্চ ভারত-শ্রীলঙ্কা সংসদীয় মৈত্রী গোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁদের আরও একটি বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে। এই সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কূটনৈতিক ও সংসদীয় স্তরে এই ধরনের যোগাযোগ ভবিষ্যতে আরও সহযোগিতার পথ খুলে দিতে পারে। ভারত ও শ্রীলঙ্কার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক নতুন প্রেক্ষাপটে আরও দৃঢ় হয়ে উঠবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi : জ্বালানি ও সারের জোগান নিয়ে বড় বার্তা মোদীর




