সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় লিখলেন নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) দেশের কেন্দ্র ও রাজ্য দুই স্তরের নির্বাচিত সরকারের প্রধান হিসেবে সবচেয়ে বেশি দিন দায়িত্ব পালনের রেকর্ড এখন তাঁর দখলে। রবিবার তিনি স্পর্শ করলেন মোট ৮,৯৩১ দিনের মাইলফলক, যা প্রায় ২৪ বছর ১৭১ দিনের সমান। এর আগে এই রেকর্ড ছিল পবন কুমার চামলিং -এর দখলে। রাজনৈতিক কেরিয়ারের শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত দীর্ঘ পথচলায় নরেন্দ্র মোদীর এই সাফল্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ২০০১ সালে Gujarat (গুজরাত) -এর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তাঁর প্রশাসনিক যাত্রা শুরু। টানা ১২ বছরেরও বেশি সময় সেই দায়িত্ব সামলানোর পর ২০১৪ সালে জাতীয় রাজনীতিতে পা রাখেন নরেন্দ্র মোদী।
আরও পড়ুন : মোবাইল রিচার্জের দাম ঊর্ধ্বমুখী: ভারতে বাড়ছে ডিজিটাল খরচের চাপ, বিপাকে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবার
২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে জয়লাভ করে প্রথমবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হন নরেন্দ্র মোদী। এরপর ২০১৯ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে ফের ক্ষমতায় ফিরে এসে টানা তিন দফায় তিনি দেশের শাসনভার সামলাচ্ছেন। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রিত্বের মেয়াদ ১১ বছর ছাড়িয়েছে। তার সঙ্গে গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রিত্বের সময়কাল যোগ করতেই এই দীর্ঘ সময়ের রেকর্ড তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী -এর এই রেকর্ডের আগে দেশের নির্বাচিত সরকারপ্রধান হিসেবে দীর্ঘতম সময় দায়িত্বে থাকার রেকর্ড ছিল পবন কুমার চামলিং-এর। ১৯৯৪ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি সিকিম (Sikkim) -এর মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। তাঁর মোট দায়িত্বকাল ছিল ৮,৯৩০ দিন। এবার সেই রেকর্ড একদিনের ব্যবধানে ছাড়িয়ে গেলেন নরেন্দ্র মোদী।
ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার উদাহরণ অবশ্য এর আগেও রয়েছে। স্বাধীনতার পর দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু (Jawaharlal Nehru) প্রায় ১৭ বছর দেশের শাসনভার সামলান। ১৯৪৭ সালের ১৫ অগস্ট থেকে ১৯৬৪ সালের মে মাস পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর পর ইন্দিরা গান্ধী ( Indira Gandhi) দু’দফায় মিলিয়ে ১৫ বছরেরও বেশি সময় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। পরবর্তী সময়ে মনমোহন সিং (Manmohan Singh) টানা দুই দফায় প্রায় ১০ বছর দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে তাঁদের কারও ক্ষেত্রেই রাজ্য ও কেন্দ্রদুই স্তরের সরকারপ্রধান হিসেবে মিলিত সময়কাল মোদীর মতো এত দীর্ঘ হয়নি। এছাড়াও রাজ্য রাজনীতিতেও দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার নজির রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট শাসনের সময় জ্যোতি বসু (Jyoti Basu) প্রায় ২৩ বছর মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। তাঁর উত্তরসূরি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য (Buddhadeb Bhattacharjee) ১০ বছরেরও বেশি সময় সেই দায়িত্ব সামলান। তবুও কেন্দ্র ও রাজ্য দুই স্তরে মিলিয়ে এত দীর্ঘ সময় কোনও নেতার ক্ষমতায় থাকা রেকর্ড হিসেবে উঠে আসেনি আগে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এই দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা শুধু সময়ের হিসাবেই নয়, ধারাবাহিক নির্বাচনী সাফল্যের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। গুজরাতে একাধিক বার জিতে মুখ্যমন্ত্রী হওয়া থেকে শুরু করে জাতীয় স্তরে টানা তিনবার ক্ষমতায় ফেরা, এই ধারাবাহিকতা তাঁকে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। এই সাফল্যের পেছনে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, সংগঠনের উপর নিয়ন্ত্রণ এবং ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ, এই সব বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্বে থাকার ফলে নীতি নির্ধারণ এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা কোনও নেতার ক্ষেত্রে যেমন সাফল্যের দিক থাকে, তেমনই থাকে নানা চ্যালেঞ্জ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনিক চাপ, বিরোধীদের সমালোচনা এবং জনমানসে প্রত্যাশার পরিবর্তন, সব কিছুর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হয়। নরেন্দ্র মোদীর ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে ৮,৯৩১ দিনের এই রেকর্ড ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। ভবিষ্যতে এই রেকর্ড ভাঙা কতটা সম্ভব, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে ইতিমধ্যেই।
বর্তমানে দেশের প্রশাসনিক কাঠামো, রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নির্বাচনী ধারা বিবেচনা করলে এত দীর্ঘ সময় একটানা সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সহজ নয়। তাই মোদীর এই সাফল্যকে অনেকেই ঐতিহাসিক বলে মনে করছেন। ভারতের রাজনৈতিক পরিসরে এই রেকর্ড নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্য, দুই স্তরের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা নিয়ে একজন নেতা কত দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকতে পারেন, তার একটি উদাহরণ হয়ে রইলেন নরেন্দ্র মোদী।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Modi Eid letter Bangladesh PM | ঈদের শুভেচ্ছায় কূটনৈতিক বার্তা, তারেক রহমানকে চিঠিতে সম্পর্ক জোরদারের ইঙ্গিত দিলেন মোদী




