সাশ্রয় নিউজ ★ কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন জল্পনার জন্ম দিল বিজেপির প্রার্থী তালিকা। বহুদিন ধরে যে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল খড়্গপুর সদরে বিজেপির প্রার্থী কে হবেন, অবশেষে তার উত্তর মিলল। সোমবার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে বিজেপি জানিয়ে দিল, খড়্গপুর সদর আসনে এবার প্রার্থী হচ্ছেন দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। ফলে প্রায় তিন বছর পর আবারও সেই কেন্দ্রে ‘ফিরে’ এলেন তিনি, যাকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। বিজেপি সোমবার একযোগে ১৪৪ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে। সেই তালিকায় খড়্গপুর সদরের প্রার্থী হিসেবে দিলীপ ঘোষের নাম প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। কারণ গত পাঁচ বছর ধরে ওই আসনের বিজেপি বিধায়ক ছিলেন অভিনেতা-রাজনীতিক হিরণ চট্টোপাধ্যায়। ফলে তিনি আবারও টিকিট পাবেন কি না, তা নিয়ে জোর জল্পনা চলছিল। শেষ পর্যন্ত সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিজেপি হিরণকে সরিয়ে দিলীপ ঘোষের নাম ঘোষণা করেছে।

খড়্গপুর সদরের সঙ্গে দিলীপ ঘোষের রাজনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেপ্পন তিনি। সেই নির্বাচনে তিনি হারিয়েছিলেন কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা Gyan Singh Sohanpal-কে, যিনি স্থানীয় রাজনীতিতে ‘চাচাজি’ নামে পরিচিত ছিলেন। সোহনপাল ১৯৬৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় ধরে এই আসনের বিধায়ক ছিলেন। মাঝখানে একবার বাদে প্রায় পাঁচ দশক তিনি এই কেন্দ্রের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ফলে তাঁকে হারিয়ে দিলীপ ঘোষ রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় আলোচনায় উঠে আসেন। সেই সময় তিনি বিজেপির রাজ্য সভাপতি হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন। ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত খড়্গপুর সদরের বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দিলীপ। পরে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে তিনি Medinipur কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে সাংসদ নির্বাচিত হন। সাংসদ হওয়ার কারণে তাঁকে বিধায়ক পদ ছাড়তে হয়। এর পরেই খড়্গপুর সদরে উপনির্বাচন হয় এবং সেই নির্বাচনে জয়ী হন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী Pradip Sarkar। যদিও ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আবারও এই আসন বিজেপির দখলে যায়। সেই নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে জয়ী হন অভিনেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায়। তাই এবারের নির্বাচনে খড়্গপুর সদরে বিজেপির টিকিট কাকে দেওয়া হবে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জল্পনা চলছিল। হিরণ নিজেও আবার টিকিট পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী ছিলেন। অন্যদিকে গত লোকসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকে দিলীপ ঘোষও খড়্গপুরে যাতায়াত বাড়িয়ে দেন। স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর উপস্থিতি আবারও স্পষ্ট হতে শুরু করে। তবে মাঝখানে একটি সময় বিজেপির সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বেড়েছিল বলেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা ছিল। গত বছরের এপ্রিল মাসে দিঘায় জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) -এর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। সেই ঘটনার পর কিছুদিন বিজেপির অনেক কর্মসূচিতে তাঁকে দেখা যায়নি। ফলে অনেকেই মনে করেছিলেন তিনি হয়তো দলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেছেন।
কিন্তু পরিস্থিতি বদলায় গত বছরের শেষদিকে। সেই সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) -এর বঙ্গ সফরের সময় তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেন দিলীপ ঘোষ। সেই সাক্ষাতের পর থেকেই তাঁকে আবার দলের সক্রিয় কর্মসূচিতে দেখা যেতে শুরু করে। রাজনৈতিক মহলের মতে, সেই সময় থেকেই তাঁর ‘রিটার্ন’-এর ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল। এদিকে খড়্গপুরের বর্তমান বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও সম্প্রতি বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ ওঠে, প্রথম স্ত্রীকে আইনত ডিভোর্স না দিয়েই তিনি দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছেন। এই ঘটনায় তাঁর প্রথম স্ত্রী Anindita Chatterjee অভিযোগ দায়ের করেন। সেই ঘটনার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক এবং সামাজিক মহলে আলোচনা শুরু হয়। অন্যদিকে দিলীপ ঘোষও গত বছর বিয়ে করেছিলেন, যা নিয়েও একসময় কিছু আলোচনা হয়েছিল। তবে তাঁর ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন ছিল, কারণ তিনি দীর্ঘদিন অবিবাহিত ছিলেন। ফলে দুই নেতার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও রাজনৈতিক মহলে তুলনা শুরু হয়। এই প্রেক্ষাপটে বিজেপির প্রার্থী তালিকায় হিরণকে বাদ দিয়ে দিলীপ ঘোষকে প্রার্থী করা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তাঁদের মতে, খড়্গপুর সদরে দলের পুরনো ও পরিচিত মুখকে সামনে রেখে ভোটের লড়াইয়ে নামতে চাইছে বিজেপি। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ২০১৬ সালের মতো আবারও কি খড়্গপুর সদরে জয় ছিনিয়ে আনতে পারবেন দিলীপ ঘোষ? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সেই উত্তর দেবে আসন্ন ভোটের ফলাফলই।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Narendra Modi Assam Visit 2026 | অসমে উন্নয়নের মেগা ঝড়! ৪৭,৮০০ কোটি টাকার প্রকল্প উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, উত্তর-পূর্বে রেল-সড়ক-গ্যাস অবকাঠামোয় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত




