Nandini Chakraborty removal | শীর্ষ আমলাদের অপসারণে ক্ষোভ তৃণমূলের, রাজ্যসভা থেকে ওয়াকআউট ডেরেকদের

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক মহলে বড়সড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত। বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যের শীর্ষ আমলাদের একাধিক পদে বড়সড় রদবদল করা হয়েছে। মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ তীব্র হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সোমবার রাজ্যসভা থেকে ওয়াকআউট করল তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, ‘গভীর রাতে হঠাৎ করে এ ভাবে প্রশাসনের শীর্ষস্তরে বদলি করা অস্বাভাবিক এবং প্রশ্নের জন্ম দেয়।’ এই ইস্যুতে সংসদের উচ্চকক্ষে সরব হন তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। তিনি বিষয়টি রাজ্যসভায় তুলে ধরে নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেন এবং পরে প্রতিবাদস্বরূপ দলীয় সাংসদদের নিয়ে অধিবেশনকক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভোট ঘোষণার রাতেই রাজ্যের মুখ্যসচিব পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় নন্দিনী চক্রবর্তীকে (Nandini Chakraborty)। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্রসচিবের দায়িত্ব থেকেও অপসারিত হন জগদীশ প্রসাদ মীনা (Jagadish Prasad Meena)। প্রশাসনিক মহলের মতে, নির্বাচন ঘোষণার পর বিভিন্ন রাজ্যে কিছু প্রশাসনিক বদলি হওয়া নতুন নয়, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে এই সিদ্ধান্তের সময় এবং পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন : Suvendu Adhikari Nandigram Bhabanipur | নন্দীগ্রাম থেকে ভবানীপুর : আবার মমতা বনাম শুভেন্দু! ১৪৪ আসনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা বিজেপির, চমক একাধিক কেন্দ্রে

রাজ্যসভায় ‘জিরো আওয়ার’ -এর আগে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, ‘গভীর রাতে নির্বাচন কমিশন রাজ্যের মুখ্যসচিব, প্রধান সচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবকে তাঁদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছে। এই ক্ষমতা কমিশনের আছে, কিন্তু কেন এ ভাবে মধ্যরাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল, সেটাই প্রশ্ন।’ তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল যে তৃণমূল এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। রাজ্যসভায় সেই দিন একটি সাদা জামা পরে উপস্থিত হয়েছিলেন ডেরেক। নিজের পোশাকের প্রসঙ্গ টেনে তিনি ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, ‘কমিশন চাইলে বলতে পারে আমি সাদা জামা পরিনি, নীল জামা পরেছি।’ এরপরই তিনি ঘোষণা করেন, ‘এই ঘটনার প্রতিবাদে আজ আমরা তৃণমূল সাংসদেরা অধিবেশনকক্ষ ত্যাগ করছি।’ এই ঘোষণার পরই তৃণমূলের সাংসদেরা রাজ্যসভা থেকে ওয়াকআউট করেন। এই রাজনৈতিক প্রতিবাদের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনে আরও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ স্তরেও বড়সড় রদবদল হয়েছে। রাজ্যের ডিজিপি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে পীযুশ পাণ্ডেকে (Piyush Pandey)। তাঁর পরিবর্তে নতুন পুলিশপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে Siddh Nath Gupta-কে। শুধু তাই নয়, কলকাতা পুলিশের শীর্ষ পদেও বদল আনা হয়েছে। কলকাতার পুলিশ কমিশনারের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে Supratim Sarkar-কে। তাঁর পরিবর্তে শহরের নতুন পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে Ajay Kumar Nand-কে। ফলে নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই প্রশাসনিক এবং পুলিশি স্তরে দ্রুত পরিবর্তনের একটি ধারাবাহিকতা তৈরি হয়েছে।

প্রশাসনিক কাঠামোতেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হয়েছে। মুখ্যসচিব পদে নতুন করে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে Dushmanta Nariwala-কে। অন্যদিকে নতুন স্বরাষ্ট্রসচিব হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে Sanghamitra Ghosh-কে। নির্বাচন কমিশনের এই ধারাবাহিক বদলি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, রবিবার বিকেলে দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার Gyanesh Kumar পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা করেন। তাঁর ঘোষণায় জানানো হয়, এ বার রাজ্যে দু’দফায় ভোটগ্রহণ হবে। নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী আগামী ২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল ভোট অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের দিন ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রশাসনিক স্তরে এই বড়সড় রদবদলের সিদ্ধান্ত সামনে আসে। নির্বাচন কমিশনের যুক্তি, নির্বাচনের সময় প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রাখতে এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তবে শাসকদল তৃণমূলের মতে, ‘এই পদক্ষেপের সময় এবং পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচন ঘোষণার পর প্রশাসনিক বদলি নতুন কিছু নয়, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ দ্রুত বেড়েছে। বিশেষ করে শাসকদলের সংসদীয় প্রতিবাদ বিষয়টিকে জাতীয় স্তরেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। কিন্তু, পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক স্তরে এই বড়সড় পরিবর্তন রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। নির্বাচন যত এগোবে, এই ইস্যু ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Narendra Modi, Brigade Rally | ব্রিগেডে মোদীর হুঙ্কার ‘বাংলার মা নিঃস্ব, মাটি লুণ্ঠিত, মানুষ চলে যাচ্ছে’ পরিবর্তনের ডাক, ১৮,৭০০ কোটি টাকার প্রকল্প ঘোষণা

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন