সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: বিশ্বের শ্রমবাজারে ভারতীয় দক্ষ কর্মীদের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে ভারতীয় দক্ষ কর্মীদের প্রবেশ সহজ করতে স্কিল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড এন্টারপ্রেনারশিপ মন্ত্রক (Ministry of Skill Development and Entrepreneurship সংক্ষেপে MSDE) একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করল গতি ফাউন্ডেশন (GATI Foundation) -এর সঙ্গে। বৃহস্পতিবার স্বাক্ষরিত এই সমঝোতা চুক্তির মূল লক্ষ্য হল দক্ষ ভারতীয় কর্মীদের জন্য বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দক্ষতার চলাচলকে আরও সুসংগঠিত ও টেকসই করা। কেন্দ্রের এই উদ্যোগকে বিশেষজ্ঞরা ভারতের ‘গ্লোবাল স্কিল হাব’ হয়ে ওঠার পথে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। সরকারি সূত্রে খবর, এই চুক্তির মাধ্যমে ভারতীয় যুবকদের আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রবেশের জন্য একটি সুসংহত কাঠামো তৈরি করা হবে। এতে বিশ্বজুড়ে কোন কোন ক্ষেত্রে দক্ষ কর্মীর চাহিদা বেশি, কোন দেশগুলোতে ভারতীয়দের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে এবং কোন কোন দক্ষতা আন্তর্জাতিক মানের, এসব বিষয়ে তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা তৈরি করা হবে।
আরও পড়ুন :
এই উপলক্ষ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোগ মন্ত্রকের সচিব দেবশ্রী মুখার্জি (Debashree Mukherjee) বলেন, ‘ভারতের জনসংখ্যাগত শক্তিকে বিশ্ব অর্থনীতির শক্তিতে রূপান্তরিত করতে হলে আমাদের কর্মশক্তিকে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতায় প্রশিক্ষিত করতে হবে। গতি ফাউন্ডেশনের সঙ্গে এই অংশীদারিত্ব সেই লক্ষ্য পূরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা এমন একটি কাঠামো গড়ে তুলতে চাই যেখানে ভারতীয় যুবকেরা বিদেশের শ্রমবাজারে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা, ভাষা জ্ঞান এবং সাংস্কৃতিক প্রস্তুতি অর্জন করতে পারবেন। এতে তারা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বৈশ্বিক কর্মক্ষেত্রে অংশ নিতে পারবেন।’ গতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী আধিকারিক অর্ণব ভট্টাচার্য (Arnab Bhattacharya) এই উদ্যোগকে ভারতের দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক বলে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, ‘এই সমঝোতা ভারতের বৈশ্বিক দক্ষতা চলাচলের জন্য একটি ঐক্যবদ্ধ জাতীয় কৌশল তৈরির পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে দক্ষতা উন্নয়নের প্রচেষ্টা আরও কার্যকর করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হল ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে বিশ্বের গ্লোবাল স্কিল ক্যাপিটাল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। এই অংশীদারিত্ব সেই যাত্রাকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাবে।’ এই চুক্তির অংশ হিসেবে গতি ফাউন্ডেশন নতুন দিল্লির কৌশল ভবনে একটি প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ইউনিট (PMU) স্থাপন করবে। এই ইউনিট মন্ত্রককে প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত সহায়তা প্রদান করবে। গবেষণা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, নীতি বাস্তবায়ন এবং দক্ষ কর্মীদের বৈশ্বিক কর্মসংস্থানের জন্য প্রস্তুত করার মতো বিভিন্ন বিষয়ে এই ইউনিট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এছাড়াও এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্কিল ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারস (Skill India International Centres বা SIICs) গড়ে তোলা এবং সেগুলিকে কার্যকরভাবে পরিচালনার কাজেও সহযোগিতা করা হবে। আইটিআই (ITI) এবং পলিটেকনিকের মতো প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গে অংশীদারিত্ব বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিদেশি নিয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো হবে যাতে দক্ষ ভারতীয় যুবকদের আন্তর্জাতিক চাকরির সুযোগ বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি বিদেশে কাজ করতে গেলে যে ভাষা শিক্ষা, সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা এবং নথিপত্র সংক্রান্ত প্রক্রিয়া দরকার, সেই ক্ষেত্রেও বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একাধিক মন্ত্রকের সমন্বয় থাকবে। দক্ষতা উন্নয়ন মন্ত্রক বিদেশ মন্ত্রক (Ministry of External Affairs) এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রক (Ministry of Labour and Employment) -এর সঙ্গে সমন্বয় করে বিদেশে কর্মসংস্থান সংক্রান্ত নীতি ও উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির সঙ্গেও সহযোগিতা বাড়ানো হবে। এই সমঝোতা চুক্তির মেয়াদ প্রাথমিকভাবে তিন বছর। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই চুক্তির ক্ষেত্রে দুই সংস্থার মধ্যে কোনও আর্থিক লেনদেন থাকবে না। প্রত্যেক সংস্থা নিজেদের কার্যক্রমের ব্যয় নিজ নিজভাবে বহন করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বজুড়ে দক্ষ কর্মীর চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। স্বাস্থ্য পরিষেবা, নির্মাণ, তথ্যপ্রযুক্তি, আতিথেয়তা, উৎপাদন শিল্পসহ একাধিক ক্ষেত্রে প্রশিক্ষিত কর্মীর প্রয়োজন রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত যদি দক্ষ কর্মীদের আন্তর্জাতিক মানে প্রশিক্ষিত করতে পারে, তবে তা দেশের অর্থনীতির জন্য বড় সুযোগ হয়ে উঠবে।
ভারত সরকারের ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ (Viksit Bharat 2047) লক্ষ্য বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও দক্ষ মানবসম্পদকে গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে ভারতীয় দক্ষ কর্মীদের উপস্থিতি বাড়লে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সরকার ইতিমধ্যেই স্কিল ইন্ডিয়া (Skill India) মিশনের মাধ্যমে দেশের কোটি কোটি যুবক-যুবতীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রবেশের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। নীতিনির্ধারকদের মতে, এই ধরনের উদ্যোগ ভারতের যুবসমাজের জন্য নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়লে শুধু ব্যক্তিগত আয়ই বাড়বে না, বরং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ফলে দক্ষতা উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থান এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ভারতের অবস্থান, এই তিনটি ক্ষেত্রেই এই নতুন উদ্যোগ বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Malda Mission Hospital job scam | মালদহে ‘চাকরি’ প্রতিশ্রুতির আড়ালে কোটি টাকার প্রতারণা? মালদহ মিশন হাসপাতালকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য




