সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ হায়দরাবাদ: বিশ্ব বিনোদন শিল্পে ভারতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ নিল জনপ্রিয় আমেরিকান ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্স (Netflix)। তেলঙ্গানার রাজধানী হায়দরাবাদে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হল ‘আইলাইন স্টুডিও’ (Eyeline Studios) -এর নতুন গ্লোবাল প্রোডাকশন ও ইনোভেশন সেন্টার। এই স্টুডিও চালু হওয়ার ফলে ভারতের দ্রুত বাড়তে থাকা অ্যানিমেশন, ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস, গেমিং এবং কমিক্স, সংক্ষেপে এভিজিসি (AVGC) শিল্পে নতুন বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই উদ্যোগকে ভারতের সৃজনশীল প্রযুক্তি ও ডিজিটাল বিনোদন শিল্পের জন্য একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তি ও দক্ষ মানবসম্পদ ব্যবহার করে এখানে ভবিষ্যতের ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট তৈরি হবে, যা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সিনেমা ও সিরিজ নির্মাণে ব্যবহৃত হতে পারে।
আরও পড়ুন : Saiyaara OTT Release | বক্স অফিসে ৫০০ কোটির পর এবার নেটফ্লিক্সে ঝড় তুলতে আসছে ‘সাইয়ারা’
স্টুডিও উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী অনুমুলা রেভন্ত রেড্ডি (Anumula Revanth Reddy), কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের সচিব সঞ্জয় জাজু (Sanjay Jaju), আইলাইন স্টুডিওর প্রধান নির্বাহী আধিকারিক জেফ শাপিরো (Jeff Shapiro) এবং ভারতীয় অভিনেতা-প্রযোজক রানা দাগ্গুবাতি (Rana Daggubati)। প্রায় ৩২ হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে তৈরি এই অত্যাধুনিক স্টুডিওতে উন্নত ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস প্রযুক্তি, ভার্চুয়াল প্রোডাকশন সিস্টেম এবং হাইব্রিড ক্লাউড অবকাঠামো ব্যবহার করা হবে। আন্তর্জাতিক মানের ডিজিটাল প্রোডাকশন ও পোস্ট-প্রোডাকশন সুবিধা নিয়ে এটি আইলাইন স্টুডিওর বিশ্বব্যাপী নেটওয়ার্কের অংশ হয়ে উঠবে। এই নেটওয়ার্কে ইতিমধ্যেই লস অ্যাঞ্জেলেস, ভ্যাঙ্কুভার, সিওল এবং লন্ডনে একাধিক কেন্দ্র রয়েছে। সমালোচকদের মতে, এই স্টুডিওর মাধ্যমে ভারত শুধু আন্তর্জাতিক কনটেন্ট তৈরির বাজারে অংশ নেবে না, বরং ভিজ্যুয়াল প্রযুক্তি ও সৃজনশীল শিল্পে নেতৃত্বের দিকেও এগিয়ে যাবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী অনুমুলা রেভন্ত রেড্ডি বলেন, ‘হায়দরাবাদ এখন সৃজনশীলতা, প্রযুক্তি এবং বৈশ্বিক প্রতিভার মিলনস্থল হয়ে উঠেছে। আইলাইন স্টুডিওর মতো উদ্যোগ এই শহরকে চলচ্চিত্র, প্রযুক্তি এবং এভিজিসি শিল্পের আন্তর্জাতিক কেন্দ্র হিসেবে আরও জনপ্রিয় করে তুলবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই ধরনের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ভারতের সৃজনশীল শিল্পকে বিশ্বমানের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং এখানকার প্রতিভাবান শিল্পী ও প্রযুক্তিবিদদের বিশ্বমঞ্চে নিজেদের দক্ষতা দেখানোর সুযোগ দেবে।’
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের সচিব সঞ্জয় জাজু বলেন, ‘ভারতের সমৃদ্ধ চলচ্চিত্র ঐতিহ্য এবং দ্রুত বাড়তে থাকা প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিনোদন শিল্পের সম্প্রসারণকে নতুন গতি দিচ্ছে। হায়দরাবাদ ইতিমধ্যেই অ্যানিমেশন ও ভিজ্যুয়াল ইফেক্টসের ক্ষেত্রে শক্তিশালী ঐতিহ্য তৈরি করেছে।’ তিনি জানান, ভবিষ্যতে হায়দরাবাদে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজিস (Indian Institute of Creative Technologies বা IICT) প্রতিষ্ঠা করা হবে। এই প্রতিষ্ঠান সৃজনশীল প্রযুক্তি ক্ষেত্রে দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সঞ্জয় জাজু আরও বলেন, ‘গত বছর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) সৃজনশীল অর্থনীতি বা অরেঞ্জ ইকোনমি -এর বিকাশের উপর বিশেষ জোর দিয়েছিলেন। জ্ঞান, সংস্কৃতি, শিল্প এবং মেধাস্বত্বভিত্তিক এই অর্থনীতি ভবিষ্যতের বড় শিল্পক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।’ তিনি জানান, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী সারা দেশে প্রায় ১৫ হাজার কনটেন্ট ক্রিয়েটর ল্যাব স্থাপন করা হবে। এই উদ্যোগের ফলে সৃজনশীল অর্থনীতিতে প্রায় ২০ লক্ষ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
তেলঙ্গানা সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক্স ও শিল্পমন্ত্রী ডি. শ্রীধর বাবু (D. Sridhar Babu) বলেন, রাজ্য সরকার অ্যানিমেশন ও ভিজ্যুয়াল ইফেক্টসের মতো সৃজনশীল প্রযুক্তি খাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘দ্রুত প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং সৃজনশীল শিল্পের বিস্তারের ফলে হায়দরাবাদ এখন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র নির্মাণ এবং ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে উঠে আসছে।’ আইলাইন স্টুডিওর প্রধান নির্বাহী আধিকারিক জেফ শাপিরো বলেন, ‘বিশ্বের ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস শিল্পে ভারতীয় প্রতিভা বহু বছর ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। হায়দরাবাদের শক্তিশালী প্রযুক্তি পরিবেশ এবং চলচ্চিত্র সংস্কৃতি এটিকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য আদর্শ জায়গা করে তুলেছে।’
ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের জনপ্রিয় অভিনেতা ও প্রযোজক রানা দাগ্গুবাতি বলেন, ‘গত দুই দশকে হায়দরাবাদের চলচ্চিত্র ও সৃজনশীল শিল্পে অসাধারণ উন্নতি হয়েছে। আইলাইন স্টুডিওর মতো উদ্যোগ এই শহরের সৃজনশীল পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করবে।’ বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যানিমেশন, ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস, গেমিং ও কমিক্স শিল্প আগামী দশকে বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে। আন্তর্জাতিক স্টুডিওগুলির বিনিয়োগের ফলে ভারতীয় শিল্পীরা নতুন প্রযুক্তি শিখতে পারবেন এবং আন্তর্জাতিক প্রজেক্টে কাজ করার সুযোগ পাবেন। এর ফলে শুধু চলচ্চিত্র শিল্পই নয়, গেমিং, ডিজিটাল মিডিয়া, ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি এবং নতুন প্রজন্মের কনটেন্ট শিল্পেও ভারতের উপস্থিতি বাড়বে।ওয়াকিবহাল মহল মনে করছেন, হায়দরাবাদে এই নতুন গ্লোবাল ইনোভেশন স্টুডিও চালু হওয়া ভারতের সৃজনশীল প্রযুক্তি শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে এবং বিশ্ব বিনোদন শিল্পে দেশের প্রভাব আরও বাড়াতে সাহায্য করবে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : মোবাইল রিচার্জের দাম ঊর্ধ্বমুখী: ভারতে বাড়ছে ডিজিটাল খরচের চাপ, বিপাকে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবার




