NFDC DCDCF Scheme | ভারতীয় সিনেমাকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে বড় উদ্যোগ, NFDC-র DCDCF স্কিমে বাড়ছে সৃজনশীলতা, উৎসব ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পকে আরও শক্তিশালী করা, নতুন সৃজনশীল প্রতিভাকে সামনে আনা এবং বিশ্বমঞ্চে ভারতীয় সিনেমার উপস্থিতি বাড়ানোর লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে ‘ডিসিডিসিএফ স্কিম (Development, Communication and Dissemination of Film Content বা DCDCF)’। এই প্রকল্পের মাধ্যমে চলচ্চিত্র নির্মাণ, সংরক্ষণ, প্রচার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে ন্যাশনাল ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (NFDC), যা ভারতের চলচ্চিত্র শিল্পকে এগিয়ে নিতে বহু বছর ধরে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে চলেছে। ভারতের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক (Ministry of Information and Broadcasting) এই প্রকল্পের জন্য নিয়মিত অর্থ বরাদ্দ করে থাকে। সেই অর্থ ব্যবহার করে NFDC বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসব, কর্মশালা, প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র সহযোগিতা প্রকল্প পরিচালনা করে। এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য হল নতুন চলচ্চিত্র নির্মাতা, শিল্পী, প্রযুক্তিবিদ এবং সৃজনশীল পেশাদারদের জন্য একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রকল্প শুধু চলচ্চিত্র নির্মাণেই সীমাবদ্ধ নয়। পাশাপাশি ভারতীয় সিনেমার ঐতিহ্য রক্ষা, পুরোনো চলচ্চিত্র পুনরুদ্ধার, ডিজিটালাইজেশন এবং আর্কাইভ সংরক্ষণের কাজও এর অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অডিও-ভিজ্যুয়াল সহ-প্রযোজনা এবং বিদেশি চলচ্চিত্র নির্মাতাদের ভারতীয় লোকেশনে শুটিংয়ের জন্য উৎসাহিত করার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ভারতীয় চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার জন্য নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হল আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবগুলিতে ভারতীয় সিনেমার প্রদর্শনী এবং অংশগ্রহণ বাড়ানো। বিশেষ করে ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব ইন্ডিয়া (IFFI) গোয়ায় প্রতি বছর আয়োজিত হয় এবং এটি ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম বড় আন্তর্জাতিক মঞ্চ হিসেবে পরিচিত।

আরও পড়ুন : Quantum research in India | কোয়ান্টাম কম্পিউটিং থেকে ৬জি প্রযুক্তি, ভারতে উচ্চপ্রভাব গবেষণায় বড় জোর, সংসদে জানালেন ড. জিতেন্দ্র সিং

সরকারি সূত্রে আরও খবর, ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত IFFI-তে মোট ৩৮০টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয় এবং প্রায় ১৭,৯৯৯ জন প্রতিনিধি ও অংশগ্রহণকারী এই উৎসবে যোগ দেন। তার আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে এই উৎসবে ৪৩৫টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়েছিল এবং প্রায় ১৫,৩৮৪ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেছিলেন। এর ফলে স্পষ্ট যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারতীয় চলচ্চিত্র উৎসবের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। এছাড়াও মুম্বাই ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল (MIFF) -এর মতো গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবও এই প্রকল্পের আওতায় সংগঠিত হয়। ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত MIFF-এ ৩১৪টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয় এবং প্রায় ১২,০২৭ জন অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন। ২০২২ সালের MIFF-এও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চলচ্চিত্র এবং আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি অংশ নেন।

২০২৫ সালে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছিল, যার নাম ওয়ার্ল্ড অডিও ভিজ্যুয়াল অ্যান্ড এন্টারটেনমেন্ট সামিট (WAVES)। মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত এই বিশাল সম্মেলনে এক লক্ষেরও বেশি প্রতিনিধি অংশ নেন। চলচ্চিত্র, টেলিভিশন, ডিজিটাল মিডিয়া এবং বিনোদন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞরা এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। এই ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও চলচ্চিত্র উৎসব ভারতীয় সিনেমাকে বৈশ্বিক দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সঙ্গে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি করছে।

চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে নতুন প্রতিভা গড়ে তুলতেও DCDCF স্কিম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। উদাহরণস্বরূপ, মহারাষ্ট্রে অবস্থিত বিখ্যাত মহারাষ্ট্র ফিল্ম সিটি-তে একটি ‘রেসিডেনশিয়াল রাইটার্স ল্যাব’ আয়োজন করা হয়েছিল। এই কর্মশালাটি আয়োজিত হয়েছিল মহারাষ্ট্র ফিল্ম স্টেজ অ্যান্ড কালচারাল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড (MFSCDCL)-এর সহযোগিতায়। এখানে তরুণ লেখক ও চলচ্চিত্র নির্মাতাদের গল্প লেখা, স্ক্রিপ্ট উন্নয়ন এবং চলচ্চিত্র নির্মাণের নানা দিক নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সরকারি পরিসংখ্যানে প্রকাশ, গত কয়েক বছরে এই প্রকল্পে বরাদ্দ অর্থও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবর্ষে NFDC-কে ৮৪.৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৭৭.৬৯ কোটি টাকা ব্যবহার করা হয়েছে। ২০২২-২৩ সালে বরাদ্দ ছিল ১২৭ কোটি টাকা এবং তার মধ্যে ১২২.৭৮ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। এরপর ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে বরাদ্দ বেড়ে দাঁড়ায় ৩৪৮.১২ কোটি টাকা এবং তার মধ্যে ৩৩৯.৮৯ কোটি টাকা ব্যবহার করা হয়। ২০২৪-২৫ সালে বরাদ্দ ছিল ৩৪০.৬৮ কোটি টাকা, যার মধ্যে ৩২৪.২১ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৩২.৪৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং তার মধ্যে ১৫৬.৮৬ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই ব্যবহার হয়েছে।

সমালোচকরা মনে করছেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য একটি শক্তিশালী অবকাঠামো তৈরি হচ্ছে। চলচ্চিত্র নির্মাতারা যেমন নতুন সুযোগ পাচ্ছেন, তেমনি আন্তর্জাতিক বাজারেও ভারতীয় সিনেমার উপস্থিতি বাড়ছে। এই বিষয়ে লোকসভায় এক লিখিত উত্তরে তথ্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংসদীয় বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী
ড. এল. মুরুগান (Dr. L. Murugan)। তিনি জানান, ‘ডিসিডিসিএফ স্কিমের মাধ্যমে সরকার চলচ্চিত্র শিল্পের সৃজনশীল উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক প্রচার এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণ, এই তিন ক্ষেত্রেই সমান গুরুত্ব দিচ্ছে।’ বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল যুগে চলচ্চিত্র শিল্প দ্রুত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সরকার পরিচালিত এই ধরনের উদ্যোগ ভারতীয় চলচ্চিত্রকে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে এবং নতুন প্রজন্মের সৃজনশীল শিল্পীদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করবে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন :PM Narendra Modi | পশ্চিম এশিয়া পরিস্থিতি : ‘অত্যন্ত উদ্বেগে’ নতুন দিল্লি, শান্তি ফেরাতে কূটনৈতিক উদ্যোগে তৎপর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

Sasraya News
Author: Sasraya News