সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : দেশের কৃষকদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আবারও বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। তেলেঙ্গানার কৃষকদের উৎপাদিত রবি মৌসুমের বিভিন্ন ফসল ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বা এমএসপি-তে (MSP) কেনার জন্য প্রায় ৮৯৪ কোটি টাকার অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্র। এই সিদ্ধান্তে রাজ্যের হাজার হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান (Shivraj Singh Chouhan)’ এই সিদ্ধান্তের অনুমোদন দিয়েছেন। তিনি জানান, তেলেঙ্গানা সরকারের প্রস্তাব গ্রহণ করে রবি ২০২৬ মরসুমে মোট ১,২৫,৮৫৫ মেট্রিক টন কৃষিপণ্য এমএসপি-তে কেনা হবে। এই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে ‘প্রাইস সাপোর্ট স্কিম (Price Support Scheme বা PSS)’ -এর অধীনে। কৃষি মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পের আওতায় চারটি প্রধান ফসল কেনা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ২৯,৮৬০ মেট্রিক টন ছোলা বা গ্রাম (Gram), ৩৭,০২০ মেট্রিক টন উড়দ ডাল (Urad), ৫৫,২৮৫ মেট্রিক টন বাদাম বা গ্রাউন্ডনাট (Groundnut) এবং ৩,৬৯০ মেট্রিক টন সূর্যমুখী (Sunflower)। এই চারটি ফসল কেনার মোট আর্থিক মূল্য দাঁড়াবে প্রায় ৮৯৪ কোটি টাকারও বেশি।
সরকারি সূত্রে খবর, কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করাই এই সিদ্ধান্তের প্রধান উদ্দেশ্য। বাজারে দাম কমে গেলে বা দালালদের কারণে কৃষকরা যাতে ক্ষতির মুখে না পড়েন, সেই লক্ষ্যেই এমএসপি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার উপর জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী ‘শিবরাজ সিং চৌহান (Shivraj Singh Chouhan)’ বলেন, ‘কৃষকদের কঠোর পরিশ্রমের যথাযথ মূল্য নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। বাজারের ওঠানামা থেকে কৃষকদের রক্ষা করতে এমএসপি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘তেলেঙ্গানার কৃষকদের উৎপাদিত ফসল এমএসপি-তে কেনার এই সিদ্ধান্ত তাদের ন্যায্য মূল্য পাওয়ার সুযোগ বাড়াবে এবং একই সঙ্গে ডাল ও তেলবীজ উৎপাদনেও নতুন উৎসাহ তৈরি করবে।’ বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে ডাল এবং তেলবীজের উৎপাদন বাড়ানো এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে এখনও অনেক ক্ষেত্রেই আমদানির উপর নির্ভর করতে হয়। এমএসপি-তে ফসল কেনার মতো পদক্ষেপ কৃষকদের এই ধরনের ফসল চাষে আরও উৎসাহিত করতে পারে।
কৃষি মন্ত্রকের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে তেলেঙ্গানার হাজার হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন। বিশেষ করে যারা ছোলা, উড়দ, বাদাম এবং সূর্যমুখী চাষ করেন, তাদের জন্য এটি বড় আর্থিক সহায়তা হয়ে উঠতে পারে। কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, এই উদ্যোগ কৃষকদের ‘ডিস্ট্রেস সেলিং’ বা বাধ্য হয়ে কম দামে ফসল বিক্রি করার পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করবে। অনেক সময় বাজারে দাম কমে গেলে কৃষকরা লোকসানের ভয়ে দ্রুত ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হন। এমএসপি-তে সরকারি ক্রয় ব্যবস্থা থাকলে সেই সমস্যা অনেকটাই কমে যায়। কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী ‘শিবরাজ সিং চৌহান (Shivraj Singh Chouhan)’ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) -এর দূরদর্শী নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকার কৃষকদের আয় বাড়ানো, কৃষিক্ষেত্রকে শক্তিশালী করা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও মজবুত করার জন্য ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’ তিনি আরও জানান, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি এই সিদ্ধান্ত দেশের কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থাকেও স্থিতিশীল করবে। বিশেষ করে ডাল ও তেলবীজ উৎপাদন বাড়লে খাদ্য নিরাপত্তা শক্তিশালী হবে এবং কৃষিক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় থাকবে।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, এমএসপি-ভিত্তিক সরকারি ক্রয় ব্যবস্থা কৃষকদের জন্য এক ধরনের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে। কারণ এতে কৃষকরা আগেই জানেন যে নির্দিষ্ট মূল্যে সরকার তাদের ফসল কিনবে। ফলে উৎপাদনের সময় কৃষকদের আর্থিক ঝুঁকি কিছুটা কমে যায়। তেলেঙ্গানার কৃষি অর্থনীতির ক্ষেত্রেও এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। রাজ্যের অনেক কৃষক ডাল ও তেলবীজ চাষের উপর নির্ভর করেন। সরকারি ক্রয় ব্যবস্থা শক্তিশালী হলে এই ফসলগুলির উৎপাদন আরও বাড়তে পারে। কেন্দ্রীয় সরকারের মতে, এই উদ্যোগ শুধু কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষা দেবে না, পাশাপাশি রাজ্যের কৃষি খাতেও স্থিতিশীলতা আনবে। দীর্ঘমেয়াদে এটি কৃষকদের আয় বৃদ্ধি, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সরকারি সূত্রে খবর, তেলেঙ্গানার কৃষকদের জন্য এই পদক্ষেপ একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সহায়তা হিসেবে কাজ করবে। এর ফলে রাজ্যের কৃষিক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা এবং সমৃদ্ধির নতুন দিক উন্মোচিত হতে পারে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Narendra Modi Kolkata Brigade rally date | ব্রিগেডে মোদীর মহাসমাবেশ ১৫ মার্চ, রবিবার থেকে শুরু বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’, বঙ্গ রাজনীতিতে জোরদার প্রস্তুতি




