পার্বতী কাশ্যপ ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : জীবনের প্রতিটি নতুন-শুরু মানুষের মনে আশা এবং উদ্বেগ দুই অনুভূতিই জাগিয়ে তোলে। নতুন বছর, নতুন মাস কিংবা নতুন কোনও কাজের শুরুতে আমরা প্রায় সকলেই চাই দিনগুলি যেন শান্তি, সাফল্য এবং সুখে ভরে ওঠে। জ্যোতিষশাস্ত্র ও হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, কোনও সময়ের শুরু যদি শুভভাবে করা যায়, তাহলে তার প্রভাব পুরো সময়জুড়ে ইতিবাচকভাবে পড়ে। সেই কারণেই শাস্ত্রে মাসের শুরুতে কিছু বিশেষ আধ্যাত্মিক উপায় পালন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ভক্তদের কাছে অত্যন্ত শক্তিশালী দেবতা হিসেবে পূজিত হন হনুমানজি (Lord Hanuman) বা বজরংবলী (Bajrangbali)। বিশ্বাস করা হয়, তাঁর আশীর্বাদ পেলে জীবনের বহু বাধা দূর হয়ে যায় এবং দুর্ভাগ্য কাটতে শুরু করে। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, প্রতি মাসের শুরুতে হনুমানজির মন্দিরে কয়েকটি সাধারণ সামগ্রী অর্পণ করলে গোটা মাস সুখে ও স্বস্তিতে কাটতে পারে।

ধর্মীয় শাস্ত্রে বলা হয়েছে, মাসের প্রথম দিকে হনুমানজির মন্দিরে চারটি বিশেষ দ্রব্য অর্পণ করলে ভক্তরা বিশেষ ফল লাভ করতে পারেন। এই চারটি সামগ্রী হল কমলা সিঁদুর, চামেলির তেল, একটি ছোট রুপোর পাত এবং রোলি। ভক্তরা বিশ্বাস করেন, এই চারটি সামগ্রী বজরংবলীর কাছে অর্পণ করলে তাঁর কৃপা লাভ করা যায় এবং জীবনের নানা সমস্যা ধীরে ধীরে দূর হতে শুরু করে। ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী, এই উপায়টি পালন করার সময় মনের মধ্যে ভক্তি এবং ইতিবাচক ভাব থাকা অত্যন্ত জরুরি। শাস্ত্রজ্ঞদের মতে, ‘যদি ভক্তি সহকারে বজরংবলীর কাছে এই সামগ্রীগুলি অর্পণ করা যায়, তবে তাঁর আশীর্বাদে জীবনের বহু বাধা দূর হতে পারে।’ মাসের প্রথম দিন এই উপায়টি পালন করা সবচেয়ে শুভ বলে মনে করা হয়। তবে যদি কোনও কারণে প্রথম দিনে মন্দিরে যাওয়া সম্ভব না হয়, তাহলে মাসের অন্য যে কোনও দিনেও এটি করা যেতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ভক্তি সহকারে হনুমানজির আরাধনা করা।
এই চারটি প্রধান সামগ্রীর পাশাপাশি ভক্তরা চাইলে আরও কিছু উপহারও দিতে পারেন। যেমন : দেশলাই, হনুমানজির পতাকা, নৈবেদ্য, ঘিয়ের প্রদীপ বা হনুমানজির জন্য বিশেষ বস্ত্র। তবে শাস্ত্রে বলা হয়েছে, অন্য সামগ্রী দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। কিন্তু কমলা সিঁদুর, চামেলির তেল, রুপোর পাত এবং রোলি এই চারটি দ্রব্য অবশ্যই অর্পণ করা উচিত। ধর্মীয় আচার অনুযায়ী, হনুমানজির পূজায় চামেলির তেল এবং সিঁদুরের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, এই দুই উপাদান বজরংবলীর অত্যন্ত প্রিয়। তাই তাঁর পূজায় এগুলি ব্যবহার করলে তিনি দ্রুত সন্তুষ্ট হন এবং ভক্তদের মনস্কামনা পূরণ করেন। জ্যোতিষশাস্ত্রের অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, নিয়মিত এই উপায় পালন করলে মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। অনেকের মতে, ‘এই উপায়টি নিয়মিত করলে ভাগ্যের চাকা ঘুরতে বেশি সময় লাগে না।’
বিশ্বাসীদের মতে, এই পূজা করার ফলে জীবনের নানা আর্থিক সমস্যা থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়। অনেকের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, বজরংবলীর কৃপায় ধীরে ধীরে অর্থসংক্রান্ত সংকট দূর হতে পারে এবং জীবনে স্থিতি ফিরে আসে। শুধু আর্থিক উন্নতি নয়, জীবনের নানা বাধা-বিপত্তিও এই উপায়ে দূর হতে পারে বলে বিশ্বাস করা হয়। অনেক সময় মানুষ নানা কারণে মানসিক চাপ বা সমস্যার মধ্যে পড়ে যান। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, হনুমানজির পূজা করলে সাহস এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়। ভক্তদের ধারণা, ‘যদি এই উপায় নিয়মিত পালন করা যায়, তাহলে মাসজুড়ে জীবনে শান্তি এবং ইতিবাচকতা বজায় থাকে।’ বিশেষ করে যারা জীবনে নানা বাধা বা অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হচ্ছেন, তাঁদের জন্য এই উপায়টি শুভ বলে মনে করা হয়। কারণ বজরংবলীকে শক্তি, সাহস এবং রক্ষার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।
কিন্তু, জ্যোতিষ বিশেষজ্ঞরা এও মনে করিয়ে দেন যে এই ধরনের আচার বা উপায় মূলত বিশ্বাস এবং আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে যুক্ত। তাই এগুলিকে জীবনের একমাত্র সমাধান হিসেবে না দেখে ইতিবাচক মানসিকতার অংশ হিসেবে গ্রহণ করাই ভাল। তবুও বহু ভক্তের বিশ্বাস, ‘মাসের শুরুতে বজরংবলীর কাছে এই চারটি সামগ্রী অর্পণ করলে গোটা মাস শান্তি, সৌভাগ্য এবং সাফল্যে ভরে ওঠে।’
এই কারণেই প্রতি মাসের শুরুতে হনুমানজির মন্দিরে ভক্তদের ভিড় দেখা যায়। কেউ কেউ নিজের জীবনের উন্নতির জন্য, কেউ আবার পরিবারে শান্তি কামনা করে বজরংবলীর কাছে প্রার্থনা করেন। ধর্মীয় আচার ও বিশ্বাসের এই প্রাচীন উপায় আজও বহু মানুষের জীবনে আশার আলো জাগিয়ে রাখে। আর সেই বিশ্বাস থেকেই প্রতি মাসের শুরুতে অনেকেই বজরংবলীর মন্দিরে গিয়ে এই চারটি সাধারণ দ্রব্য অর্পণ করেন, এই আশায় যে তাঁর আশীর্বাদে নতুন মাসটি সুখ ও সমৃদ্ধিতে ভরে উঠবে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Lord Hanuman blessings | হনুমানজির আশীর্বাদে ভাগ্য পরিবর্তন! এই তিন রাশির জীবনে আসছে শুভ সময়




