Donald Trump Iran statement | ইরান অভিযানের শেষের ইঙ্গিত ট্রাম্পের, আন্তর্জাতিক বাজারে কমল অশোধিত তেলের দাম

SHARE:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শেষের পথে বলে জানানোর পর আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম দ্রুত কমতে শুরু করেছে।

সাশ্রয় নিউজ ★ ওয়াশিংটন : পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত পরিস্থিতি নিয়ে কয়েক দিনের অনিশ্চয়তার পর আন্তর্জাতিক বাজারে বড় পরিবর্তন দেখা গেল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ঘোষণা করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান ‘শেষের দিকে এগোচ্ছে’। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত নিম্নমুখী হতে শুরু করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের উত্তেজনা কিছুটা কমবে, এই প্রত্যাশাতেই বাজারে নতুন আশাবাদ তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। তথ্য অনুযায়ী, দাম প্রায় ৮.১৮ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৮৭.৮৪ ডলারে নেমে এসেছে। ভারতীয় মুদ্রায় যার মূল্য প্রায় ৮০৬৯ টাকা। যুদ্ধের আশঙ্কায় গত কয়েক দিন ধরে যে ঊর্ধ্বগতি চলছিল, তা হঠাৎই থেমে যায় ট্রাম্পের মন্তব্যের পরে।

আরও পড়ুন : Indian farmers benefit US trade deal | কৃষিতে ‘ট্রাম্প কার্ড’ খেলেই বাজিমাত নতুন দিল্লির, ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য সমঝোতায় শুল্ক ছাড়ে লাভবান হবেন ভারতীয় কৃষকরাই

ভারতের মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ (Multi Commodity Exchange বা MCX) -এর তথ্য অনুযায়ী, মার্চ ডেলিভারির চুক্তিতে অশোধিত তেলের দাম ৭১৯ টাকা কমেছে। একইভাবে এপ্রিল ডেলিভারির চুক্তিতেও বড় পতন দেখা গেছে। সেখানে দাম ৫৩১ টাকা কমে ব্যারেল প্রতি প্রায় ৮০১৭ টাকায় নেমে এসেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ‘যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হবে না, এই ধারণা থেকেই বাজারে ঝুঁকি কমেছে, ফলে দাম পড়েছে।’ উল্লেখ্য যে, সোমবার পর্যন্ত পরিস্থিতি ছিল একেবারেই উল্টো। যুদ্ধের আশঙ্কায় অশোধিত তেলের দাম হু হু করে বেড়ে গিয়েছিল। মার্চ চুক্তিতে দাম একসময় ব্যারেল প্রতি ১১৪.৮৪ ডলার বা প্রায় ১০,৫৪৯ টাকায় পৌঁছে গিয়েছিল। পরে কিছুটা কমে গেলেও বাজারে অস্থিরতা বজায় ছিল। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত যত দীর্ঘস্থায়ী হয়, তেলের বাজার ততই অস্থির হয়ে ওঠে। কারণ বিশ্বের একটি বড় অংশের জ্বালানি সরবরাহ এই অঞ্চল থেকেই আসে। তাই যুদ্ধের খবর এলেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়।

এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের মন্তব্য বড় প্রভাব ফেলেছে। সোমবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি (Miami) শহরের একটি গল্ফ রিসর্টে রিপাবলিকান নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ‘কিছু দুষ্ট শক্তিকে সরিয়ে দিতে আমরা মধ্যপ্রাচ্যে গিয়েছিলাম। তবে এটি দীর্ঘ সফর নয়, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তা শেষ হবে।’ পরবর্তীতে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। সিবিএস নিউজ (CBS News) -এর সাংবাদিক ওয়েইজা জিয়াংকে (Weijia Jiang) ট্রাম্প ফোনে বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে সংঘাত কার্যত শেষ হয়ে গিয়েছে। ইরানের সামরিক শক্তি অনেকটাই ভেঙে পড়েছে। তাদের নৌবাহিনী নেই, যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই, বিমানবাহিনীর শক্তিও কার্যত ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।’ এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন করে আলোড়ন তৈরি হয়। বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, যদি সংঘাত দ্রুত শেষ হয় তবে জ্বালানি সরবরাহের উপর চাপ কমবে।

এদিকে বিশ্ববাজারে এপ্রিল ডেলিভারির জন্য ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (West Texas Intermediate বা WTI) অশোধিত তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। মঙ্গলবার তা ৬.৬৫ ডলার বা প্রায় ৭.০২ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৮৮.১২ ডলারে নেমে আসে। ভারতীয় মুদ্রায় যার মূল্য প্রায় ৮০৯৪ টাকা। শুধু সংঘাত পরিস্থিতি নয়, তেল সরবরাহ নিয়ে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র তেল পরিবহণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগী হবে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে তেলবাহী জাহাজ যাতে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে, তার জন্য মার্কিন নৌবাহিনী মোতায়েন করা হবে। বিশ্লেষকদের মতে, ‘হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ। যদি সেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়, তবে বাজারে আতঙ্ক অনেকটাই কমে যাবে।’ কারণ বিশ্বে ব্যবহৃত মোট তেলের একটি বড় অংশ এই প্রণালী দিয়েই পরিবহণ হয়। অন্যদিকে ট্রাম্পের একটি মন্তব্য নতুন বিতর্কও তৈরি করেছে। যুদ্ধ শেষ হলে ইরানের তেলক্ষেত্রের ভবিষ্যৎ কী হবে, এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সাংবাদিকরা জানতে চান, আমেরিকা কি ইরানের তেলক্ষেত্রের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে?

এই প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প এনবিসি নিউজকে (NBC News) বলেন, ‘এই বিষয়ে এখনই আলোচনা করতে চাই না। তবে অনেকেই এই নিয়ে কথা বলছেন।’ তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে। এদিকে বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলির সংগঠন জি৭ (G7) ও পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে। গোষ্ঠীর অর্থমন্ত্রীরা জানিয়েছেন, প্রয়োজনে কৌশলগত মজুত থেকে তেল বাজারে ছাড়া হতে পারে। যদিও এখনও পর্যন্ত সে ধরনের কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি জি৭ দেশগুলি মজুত থেকে তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম আরও কমতে পারে। কারণ এতে সরবরাহ বাড়বে এবং বাজারে চাপ কমবে। ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য এই পরিস্থিতি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলে দেশের জ্বালানি ব্যয় কমতে পারে। তার প্রভাব পড়তে পারে পেট্রোল, ডিজেল এবং রান্নার গ্যাসের দামের উপরও। উল্লেখ্য, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের ভবিষ্যৎ এখন আন্তর্জাতিক বাজারের অন্যতম বড় নির্ধারক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্রাম্পের মন্তব্য আপাতত বাজারে স্বস্তির হাওয়া বইয়ে দিলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল হবে কি না, তা নির্ভর করছে যুদ্ধের পরবর্তী গতিপ্রকৃতির উপর।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : India Russia oil import decision, Donald Trump India oil claim | রাশিয়ার তেল নিয়ে ধোঁয়াশা কাটল না: ট্রাম্পের দাবির পরে দিল্লির বার্তা ‘১৪০ কোটির জ্বালানি নিরাপত্তাই অগ্রাধিকার’

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন