সাশ্রয় নিউজ ★ নিউইয়র্ক : বিশ্বের অন্যতম বিতর্কিত ও আলোচিত প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক (Elon Musk) শুধু বৈদ্যুতিক গাড়ি বা মহাকাশ প্রযুক্তির জন্যই পরিচিত নন। তাঁর ব্যক্তিগত জীবনও সমানভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। টেসলা ও স্পেসএক্সের এই বিলিয়নিয়ার উদ্যোক্তার পরিবারও কম চমকপ্রদ নয়। গত দুই দশকেরও বেশি সময়ে একাধিক সঙ্গীর সঙ্গে তাঁর অন্তত ১৪টি সন্তানের জন্ম হয়েছে, যা আধুনিক কর্পোরেট জগতের অন্যতম অস্বাভাবিক পারিবারিক কাঠামো হিসেবে আলোচিত। প্রযুক্তি বিপ্লবের অন্যতম মুখ হলেও পরিবার ও জনসংখ্যা নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি বরাবরই আলাদা। তিনি বারবার বলেছেন, বিশ্বজুড়ে জন্মহার কমে যাওয়া মানবসভ্যতার ভবিষ্যতের জন্য বড় বিপদ। ২০২১ সালে সামাজিক মাধ্যম X-এ একটি পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘জনসংখ্যা হ্রাস ভবিষ্যতে মানবসভ্যতার সবচেয়ে বড় ঝুঁকিগুলির একটি হতে পারে।’ সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি বহু সন্তান নেওয়ার ধারণাকে সমর্থন করেন, যাকে অনেকেই “প্রোনাটালিস্ট” মতবাদ বলে উল্লেখ করেন।

এই দর্শনের প্রতিফলন যেন তাঁর নিজের জীবনেই। তাঁর সন্তানদের জন্ম হয়েছে চারজন ভিন্ন সঙ্গীর মাধ্যমে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন লেখিকা Justine Wilson, সংগীতশিল্পী Grimes (আসল নাম ক্লেয়ার এলিজ বুশে), প্রযুক্তি নির্বাহী Shivon Zilis এবং রক্ষণশীল সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার Ashley St. Clair… মাস্কের পারিবারিক জীবনের সূচনা হয়েছিল তাঁর প্রথম স্ত্রী জাস্টিন উইলসনের সঙ্গে। তাঁদের প্রথম সন্তান নেভাডা আলেকজান্ডার মাস্ক (Nevada Alexander Musk) জন্মেছিল ২০০২ সালে। কিন্তু জন্মের মাত্র ১০ সপ্তাহের মাথায় আকস্মিক শিশুমৃত্যু সিনড্রোমের জটিলতায় তার মৃত্যু হয়। পরে মাস্ক একটি ই-মেলে লিখেছিলেন, ‘আমার প্রথম সন্তান আমার হাতেই শেষ নিঃশ্বাস নেয়।’ যদিও জাস্টিন পরে এই বর্ণনা নিয়ে ভিন্ন মত প্রকাশ করেন। এই দুঃখজনক ঘটনার পর দম্পতি আইভিএফ পদ্ধতির সাহায্যে সন্তান নেন। ২০০৪ সালে জন্ম হয় যমজ সন্তান গ্রিফিন মাস্ক (Griffin Musk) ও ভিভিয়ান জেনা উইলসন (Vivian Jenna Wilson) -এর। গ্রিফিন সাধারণত জনসমক্ষে খুব কমই আসেন। অন্যদিকে ভিভিয়ান সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বেশ আলোচনায় এসেছেন। ২০২২ সালে তিনি আইনগতভাবে নিজের নাম ও লিঙ্গ পরিবর্তন করেন এবং আদালতের নথিতে জানান, তিনি তাঁর জৈবিক পিতার সঙ্গে কোনও সম্পর্ক রাখতে চান না।
পরবর্তী সময়ে একটি সাক্ষাৎকারে মাস্ক তাঁর এই সিদ্ধান্তকে ‘ওয়োক মাইন্ড ভাইরাসের প্রভাব’ বলে মন্তব্য করেন, যা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। ভিভিয়ান পরে একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ। আমার জীবনকে অন্য কেউ সংজ্ঞায়িত করবে না।’ ২০০৬ সালে মাস্ক ও জাস্টিনের ঘরে জন্ম নেয় তিনটি ছেলে, কাই মাস্ক (Kai Musk), স্যাক্সন মাস্ক (Saxon Musk) এবং ড্যামিয়ান মাস্ক (Damian Musk)। এই তিন ভাইকে একসঙ্গে ‘ট্রিপলেট’ বলা হয়। যদিও তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন বেশিরভাগ সময়ই জনসমক্ষে আসে না। ২০০৮ সালে মাস্ক ও জাস্টিনের বিচ্ছেদের পর তাঁর জীবনে আসে নতুন সম্পর্ক। ২০২০ সালে কানাডীয় সংগীতশিল্পী গ্রাইমসের সঙ্গে তাঁর প্রথম সন্তান জন্মায়। সেই সন্তানের নাম দেওয়া হয় একেবারেই অদ্ভুত, X Æ A-Xii Musk। শিশুটির ডাকনাম ‘এক্স’। নামটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার ঝড় ওঠে। মাস্ক পরে জানান, নামের একটি অংশ বিখ্যাত A-12 বিমানকে নির্দেশ করে। গ্রাইমসের সঙ্গেই ২০২১ সালে সারোগেসির মাধ্যমে জন্ম নেয় তাঁদের কন্যা সন্তান এক্সা ডার্ক সিডেরেল মাস্ক (Exa Dark Sideræl Musk)। শিশুটির ডাকনাম ‘ওয়াই’। পরবর্তীতে ২০২২ সালে তাঁদের আরেক সন্তান জন্মায়, টেকনো মেকানিকাস মাস্ক (Techno Mechanicus Musk), যার ডাকনাম ‘টাউ’।
এর মাঝেই প্রযুক্তি সংস্থা নিউরালিঙ্কের নির্বাহী শিভন জিলিসের সঙ্গে মাস্কের সম্পর্কের খবর সামনে আসে। ২০২১ সালে তাঁদের যমজ সন্তান জন্মায়, স্ট্রাইডার মাস্ক (Strider Musk) এবং অ্যাজুর মাস্ক (Azure Musk)। পরে ২০২৪ সালে তাঁদের আরেক সন্তান আর্কেডিয়া মাস্ক (Arcadia Musk) -এর জন্ম হয়। ২০২৫ সালে জন্ম নেয় তাঁদের ছেলে সেলডন লাইকারগাস (Seldon Lycurgus)। মাস্কের পরিবারের তালিকায় সবচেয়ে সাম্প্রতিক সংযোজন আসে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্ব অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ারের সঙ্গে সম্পর্ক থেকে। ২০২৪ সালে জন্ম নেওয়া তাঁদের সন্তানের নাম রোমুলাস (Romulus)। এই সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে আইনি জটিলতাও তৈরি হয় এবং বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। এই বিশাল পরিবারের কথা বলতে গিয়ে জীবনীকার Walter Isaacson এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘মাস্ক বিশ্বাস করেন পৃথিবীতে আরও বেশি মানুষের জন্ম হওয়া দরকার, আর ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি সেই বিশ্বাস বাস্তবায়ন করতে চান।’ উল্লেখ্য, ইলন মাস্কের জীবন যেন প্রযুক্তি বিপ্লবের পাশাপাশি এক ব্যতিক্রমী পারিবারিক পরীক্ষার গল্প। মহাকাশে রকেট পাঠানোর পাশাপাশি নিজের পরিবারকেও তিনি গড়ে তুলেছেন এক অদ্ভুত ও বিস্তৃত পরিসরে, যা আজকের বিশ্বে সমানভাবে বিস্ময় ও বিতর্কের বিষয়।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Elon Musk Moon city 5 years, when will humans live on Moon | ‘৫-৭ বছরের মধ্যেই চাঁদে শহর!’ মানুষের স্থায়ী বসবাস কবে, নতুন সময়সীমা জানালেন ইলন মাস্ক



