সাশ্রয় নিউজ ★ নতুন দিল্লি : আন্তর্জাতিক নারী দিবস ৮ মার্চকে সামনে রেখে সারা দেশে একযোগে ২৫০টি স্থানে ‘অস্মিতা’ (ASMITA) অ্যাথলেটিক্স লিগ আয়োজনের ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী রক্ষা নিখিল খাদসে (Raksha Nikhil Khadse)। কেন্দ্রীয় যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া মন্ত্রক (Ministry of Youth Affairs and Sports) -এর উদ্যোগে, ক্রীড়া কর্তৃপক্ষ (Sports Authority of India বা SAI) ও ‘মাই ভারত’ (MY Bharat) -এর যৌথ প্রচেষ্টায় এই বৃহৎ কর্মসূচী বাস্তবায়িত হবে। রাজধানীর মেজর ধ্যানচাঁদ ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে (Major Dhyan Chand National Stadium) আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, ‘দেশের তরুণীদের একসূত্রে বাঁধার এর চেয়ে ভালো সুযোগ আর কী হতে পারে, অস্মিতা মঞ্চ ইতিমধ্যেই জনপ্রিয়তা পেয়েছে, এবার তা জাতীয় পরিসরে একযোগে উদ্যাপন।’ ‘অস্মিতা’ কর্মসূচীর পূর্ণরূপ ‘Achieving Sports Milestone by Inspiring Women Through Action’। ২০২১ সালে ‘খেলো ইন্ডিয়া’ -এর (Khelo India) অন্তর্ভুক্ত এই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল নারী ক্রীড়াবিদদের জন্য লিগ ও প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সুযোগ বাড়ানো এবং নতুন প্রতিভা চিহ্নিত করা। রক্ষা খাদসে বলেন, ‘আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) যে স্বপ্ন দেখেছেন- গ্রাম ও ছোট শহরের মেয়েরা যেন খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে বেছে নেয়। এই লিগ সেই পথেই আরেকটি বড় পদক্ষেপ।’
মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৩৪টি ক্রীড়া শাখায় ২৬০০ -এরও বেশি লিগ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের ৫৫০টির বেশি জেলা ও ৭০০টিরও বেশি শহরে এই কর্মসূচীর বিস্তার ঘটেছে। উত্তর-পূর্বের অরুণাচল প্রদেশ (Arunachal Pradesh) ও মিজোরাম (Mizoram) -এর মতো প্রান্তিক অঞ্চলেও লিগ হয়েছে। এমনকী একসময় নকশাল-প্রভাবিত এলাকাতেও এই প্রতিযোগিতা পৌঁছেছে। ৩ লক্ষের বেশি নারী ক্রীড়াবিদ ইতিমধ্যেই অংশ নিয়েছেন বলে উল্লেখ। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ৮ মার্চের বিশেষ আয়োজনকে কেন্দ্র করে অ্যাথলেটিক্সে তিনটি ইভেন্ট : ১০০ মিটার, ২০০ মিটার ও ৪০০ মিটার আয়োজিত হবে। বয়সভিত্তিক বিভাগ রাখা হয়েছে অনূর্ধ্ব ১৩, ১৩-১৮ এবং ১৮ ঊর্ধ্ব। আয়োজকদের দাবি, একদিনেই ২ লক্ষ ৫০ হাজারের মতো নারী অংশ নেবেন, যা এক নতুন রেকর্ড গড়তে পারে। প্রতিটি ভেন্যুতে পাঁচজন কারিগরি আধিকারিক, দশজন স্বেচ্ছাসেবক, একজন প্রতিযোগিতা ব্যবস্থাপক, একজন প্রাক্তন চ্যাম্পিয়ন ক্রীড়াবিদ (PCA) এবং সংশ্লিষ্ট জেলার যুব আধিকারিক (DYO) থাকবেন।
রক্ষা খাদসে বলেন, ‘৩০টিরও বেশি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে লিগ হবে, উত্তর-পূর্বও এর অন্তর্ভুক্ত। আমাদের লক্ষ্য, প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে ছোট শহর সর্বত্র মেয়েরা যেন খেলাধুলায় আগ্রহী হয়।’ তাঁর কথায়, আন্তর্জাতিক নারী দিবসে এই আয়োজন কেবল উদ্যাপন নয়; জেলা স্তরে ক্রীড়া-পরিকাঠামো ও মানবসম্পদ গড়ে তোলারও অংশ। এই কর্মসূচী বাস্তবায়নে ‘মাই ভারত’ (MY Bharat), খেলো ইন্ডিয়া সেন্টার (Khelo India Centres বা KICs), এসএআই -এর ইকোসিস্টেম ও ন্যাশনাল সেন্টার অব এক্সেলেন্স (NCOEs), রাজ্য ও জেলা ক্রীড়া সংস্থা এবং জেলা যুব আধিকারিকদের সমন্বিত ভূমিকা থাকবে। আয়োজকদের পরিকল্পনা, প্রতিটি ভেন্যুতে নারী কারিগরি আধিকারিকদের সম্পৃক্ত করা হবে এবং অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া -এর (Athletics Federation of India) নির্ধারিত নিয়মাবলি অনুযায়ী প্রতিযোগিতা পরিচালনা শেখাতে কর্মশালা রাখা হবে। পাশাপাশি ডিজিটাল ডেটা আপলোড, প্রতিযোগিতার নথিপত্র প্রস্তুতি ও প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রসঙ্গত, ভারত যখন ২০৩০ কমনওয়েলথ গেমস (Commonwealth Games 2030) -এর প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং ২০৩৬ অলিম্পিক গেমস (Olympic Games 2036) আয়োজনে আগ্রহী, তখন রক্ষা খাদসে বলেন, ‘প্রস্তুতি শুরু হয় জেলা স্তর থেকেই। অলিম্পিক আয়োজনের জন্য শুধু স্টেডিয়াম বানানো নয়; প্রয়োজন প্রশিক্ষিত মানবসম্পদ, স্বীকৃত কারিগরি আধিকারিক এবং প্রশাসনিক দক্ষতা।’ তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক নারী দিবসের এই উদ্যোগ সেই বৃহত্তর প্রস্তুতির অংশ।
অস্মিতা লিগের মাধ্যমে নারী অংশগ্রহণ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিভা অনুসন্ধানও জোরদার করা হচ্ছে। জেলা পর্যায়ে নজরকাড়া পারফরম্যান্স ভবিষ্যতে রাজ্য ও জাতীয় স্তরের প্রশিক্ষণ শিবিরে জায়গা করে নিতে সহায়ক হতে পারে। এতে ক্রীড়াক্ষেত্রে লিঙ্গ-সমতা প্রতিষ্ঠার পথ আরও প্রসারিত হবে বলে আয়োজকদের বিশ্বাস। ক্রীড়া মহলে ধারণা, একদিনে ২৫০ ভেন্যুতে সমন্বিত অ্যাথলেটিক্স আয়োজন প্রশাসনিক সক্ষমতারও পরীক্ষা। তবে আয়োজকদের প্রস্তুতি জোরদার। মাঠপর্যায়ে নিরাপত্তা, চিকিৎসা সহায়তা ও প্রতিযোগিতার মান বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নারী দিবসকে কেন্দ্র করে ‘অস্মিতা’ অ্যাথলেটিক্স লিগ দেশের ক্রীড়া-মানচিত্রে এক অভিনব উদ্যোগ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। গ্রাম থেকে মহানগর, একই দিনে দৌড়ের ট্র্যাকে নামবে লক্ষাধিক মেয়ে। ক্রীড়া-স্বপ্নকে পেশায় রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ আগামী দিনে কী ফল বয়ে আনে, সেদিকেই নজর থাকবে ক্রীড়াপ্রেমীদের।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Modi Parliament Speech | অনুপ্রবেশ থেকে নীতি রাজনীতি, রাজ্যসভায় এক নিশ্বাসে কংগ্রেস ও তৃণমূলকে আক্রমণ নরেন্দ্র মোদীর




