India Japan SDG partnership | টেকসই উন্নয়নে ভারত-জাপান জোটের নতুন ধাপ: নীতি আয়োগ-জাইকা চুক্তিতে অ্যাসপিরেশনাল জেলায় গতি

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ★ নতুন দিল্লি : নতুন দিল্লিতে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে ভারত (India) ও জাপান (Japan) উন্নয়ন-সহযোগিতায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যাপ্টার যুক্ত করল। নীতি আয়োগ (NITI Aayog) ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (Japan International Cooperation Agency বা JICA) ‘জাপান-ইন্ডিয়া কো-অপারেটিভ অ্যাকশনস টুয়ার্ডস সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলস- ফেজ টু’ শীর্ষক প্রকল্পের রেকর্ড অব ডিসকাশনস (Record of Discussions বা RoD) স্বাক্ষর করেছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রোহিত কুমার (Rohit Kumar), অতিরিক্ত সচিব ও মিশন ডিরেক্টর, অ্যাসপিরেশনাল ডিস্ট্রিক্টস অ্যান্ড ব্লকস প্রোগ্রাম, নীতি আয়োগ এবং তাকেউচি তাকুরো (Takeuchi Takuro), চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ, জাইকা ইন্ডিয়া। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করতে এই অংশীদারিত্ব মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাকে একত্র করবে।’ অ্যাসপিরেশনাল ডিস্ট্রিক্টস প্রোগ্রাম (Aspirational Districts Programme বা ADP) এবং অ্যাসপিরেশনাল ব্লকস প্রোগ্রাম (Aspirational Blocks Programme বা ABP)-এর আওতায় প্রকল্পটির দ্বিতীয় পর্যায় নীতি কাঠামো ও বাস্তবায়ন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (Sustainable Development Goals বা SDGs) সামনে রেখে ছয়টি মূল থিমে কাজ হবে। যথাক্রমে : গ্লোবাল পার্টনারশিপ, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি, শিক্ষা, কৃষি ও জলসম্পদ, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়ন এবং মৌলিক পরিকাঠামো। প্রকল্পটি তথ্যভিত্তিক শাসনব্যবস্থা, উন্নত মনিটরিং ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া এবং স্থানীয় পর্যায়ে এসডিজি’র কার্যকর রূপায়ণকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

আরও পড়ুন : Venezuela Oil Export | ভেনেজুয়েলার তেল ফের ভারতে: শেভরনের মাধ্যমে রিলায়্যান্সের বড় আমদানি, জ্বালানি বাজারে নতুন সমীকরণ

রোহিত কুমার (Rohit Kumar) বলেন, ‘অবহেলিত অঞ্চলে সমন্বিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে জাপানের সঙ্গে জ্ঞান-বিনিময় ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।’ তাঁর মতে, জেলা ও ব্লক-স্তরের সূচকভিত্তিক অগ্রগতি ট্র্যাকিং ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও ফলাফলমুখী করা হবে, যাতে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি উৎপাদনশীলতা ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তির মতো ক্ষেত্রগুলোয় স্থায়ী পরিবর্তন আসে। জাইকা ইন্ডিয়ার প্রধান প্রতিনিধি তাকেউচি তাকুরো (Takeuchi Takuro) ভারতীয় উদ্যোগগুলির অগ্রগতির প্রশংসা করে জানান, ‘জেলা ও ব্লক-স্তরে মনিটরিংয়ের যে কাঠামো তৈরি হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক পরিসরে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।’ তিনি আরও বলেন, এই প্রকল্প পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতার পথ খুলে দেবে এবং দুই দেশের উন্নয়ন-অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

ফেজ টু প্রকল্পের অধীনে মানুষে-মানুষে যোগাযোগ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি বিনিময় কর্মসূচী, জাপান-ভারত জ্ঞান ফোরাম আয়োজন, সেরা চর্চা চিহ্নিতকরণ ও প্রচার এবং নির্দিষ্ট অ্যাসপিরেশনাল জেলা ও ব্লককে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মাঠপর্যায়ে প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ, ডেটা-ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং ফলাফলভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়নে জোর দেওয়া হবে। পাশাপাশি কৃষি ও জলসম্পদ ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান, স্বাস্থ্য ও পুষ্টিতে পরিষেবা-প্রাপ্যতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষায় শেখার ফল উন্নত করার দিকেও মনোযোগ থাকবে। উন্নয়ন-সহযোগিতার এই ধাপটি ভারত-জাপান কৌশলগত সম্পর্ককে আরও গভীর করবে বলে মনে করা হচ্ছে। জাপানের অভিজ্ঞতা দুর্যোগ-সহনশীল পরিকাঠামো, দক্ষতা উন্নয়ন ও শিল্প-সংযোগ ভারতের জেলা ও ব্লক পর্যায়ে প্রয়োগযোগ্য মডেল তৈরিতে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে ভারতের বৃহৎ পরিসরের প্রশাসনিক কাঠামো ও তথ্য-নির্ভর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা যৌথ উদ্যোগকে দ্রুত বাস্তব ফল দেবে।

প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য হল, স্থানীয় প্রশাসনের হাতে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা, যাতে উন্নয়নসূচকগুলোয় স্থায়ী অগ্রগতি দেখা যায়। স্বাস্থ্য ও পুষ্টিতে মাতৃ ও শিশুকল্যাণ, শিক্ষায় উপস্থিতি ও শেখার মান, কৃষিতে উৎপাদন ও জলব্যবস্থাপনা, আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে ব্যাংকিং-প্রবেশ ও দক্ষতা প্রশিক্ষণ, এসব ক্ষেত্রকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে। মৌলিক পরিকাঠামো উন্নয়নে বিদ্যুৎ, পানীয় জল, সড়ক ও ডিজিটাল সংযোগে ঘাটতি কমানোর উদ্যোগও থাকবে। নীতিনির্ধারণ থেকে বাস্তবায়ন প্রতিটি ধাপে তথ্য-ভিত্তিক মূল্যায়নকে প্রাধান্য দিয়ে প্রকল্পটি এসডিজি অর্জনের পথে জেলা ও ব্লক পর্যায়ের অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করতে চায়। ২০৩০ লক্ষ্যপূরণের সময়সীমা সামনে রেখে এই চুক্তি দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন-সহযোগিতার বার্তা বহন করছে। সরকারি সূত্রের বক্তব্য, ‘প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রমাণ-ভিত্তিক শাসন জোরদার করেই টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।’

প্রসঙ্গত, ভারত-জাপান উন্নয়ন অংশীদারিত্বের এই নতুন ধাপ অ্যাসপিরেশনাল জেলাগুলিতে বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, দক্ষতা ও পরিকাঠামো বহুমাত্রিক ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগের ফলে অন্তর্ভুক্তিমূলক বৃদ্ধির লক্ষ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি প্রত্যাশিত। ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে জেলা ও ব্লক-স্তরের সুশাসনকে কেন্দ্র করে যে রূপরেখা নির্ধারিত হল, তা ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার দিশা দেখাবে বলেই উল্লেখ।

ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Japan obesity rate 3 percent, Hara Hachi Bu meaning | জাপানে স্থূলত্ব মাত্র ৩-৪ শতাংশ! হারা হাচি বু থেকে ইন্টারভাল ওয়াকিং, কোন অভ্যাসে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখেন জাপানিরা?

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন