শোভনা মাইতি ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, চেন্নাই: দক্ষিণী ছবির সুপারস্টার থলপতি বিজয়কে (Thalapathy Vijay) ঘিরে এখন চর্চার ঝড়। একদিকে আসন্ন তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচন, অন্যদিকে দীর্ঘ ২৬ বছরের দাম্পত্যে ভাঙনের অভিযোগ, সব নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে তামিল ইন্ডাস্ট্রির এই প্রথম সারির নায়ক। তাঁর স্ত্রী সঙ্গীতা (Sangeeta) প্রতারণার অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বলে খবর। পাশাপাশি অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণন (Trisha Krishnan) -এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার গুঞ্জন ঘিরে বাড়ছে কৌতূহল। প্রশ্ন উঠছে, ব্যক্তিজীবনের এই অস্থিরতার মাঝেও কীভাবে নিজের কয়েকশো কোটির সাম্রাজ্য ও রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা সামলাবেন থলপতি? দক্ষিণী চলচ্চিত্র জগতে ‘গোট’ তকমা পাওয়া বিজয় বহু বছর ধরেই বক্স অফিসের নিশ্চয়তা। বলিউডে কাজ না করেও পারিশ্রমিকের অঙ্কে তিনি টক্কর দেন মুম্বাইয়ের শীর্ষ তারকাদের। ইন্ডাস্ট্রি সূত্রে জানা যায়, ছবিপিছু তাঁর পারিশ্রমিক প্রায় ১২৫ কোটি টাকা। বিশেষ প্রোজেক্টে সেই অঙ্ক ২০০ থেকে ২৫০ কোটির কাছাকাছি পৌঁছয় বলেও শোনা যায়। পাশাপাশি একাধিক বড় ব্র্যান্ডের মুখ হিসেবে বার্ষিক বিজ্ঞাপন চুক্তি থেকেও উল্লেখযোগ্য আয় রয়েছে। সেই হিসাবে বছরে কয়েকশো কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন তাঁর সঙ্গে যুক্ত।
বিজয়ের সম্পত্তির পরিমাণ নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে আগ্রহ রয়েছে অনুরাগীদের। চেন্নাইয়ে তাঁর সমুদ্রের ধারে বিলাসবহুল বাংলোর বাজারমূল্য প্রায় ৮০ কোটি টাকার আশেপাশে বলে রিয়েল এস্টেট মহলের দাবি। গ্যারাজে রয়েছে রোলস রয়েস-সহ একাধিক উচ্চমূল্যের গাড়ি, যেগুলির প্রতিটির দামই কোটির উপরে। বিভিন্ন রিপোর্ট মিলিয়ে তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৭০০ কোটির কাছাকাছি বলে অনুমান করা হচ্ছে। দক্ষিণী সুপারস্টারদের মধ্যে এই অঙ্ক নিঃসন্দেহে উল্লেখযোগ্য। কিন্তু অর্থ ও জনপ্রিয়তার ঝলকানির আড়ালে ব্যক্তিজীবনে যে টানাপোড়েন চলছে, তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরগরম আলোচনা। দীর্ঘ দাম্পত্যের পর হঠাৎ করে বিচ্ছেদের পথে হাঁটার সিদ্ধান্তে হতবাক ভক্তরা। অনেকেই বিশ্বাস করতে পারছেন না যে তাঁদের প্রিয় তারকা এমন বিতর্কে জড়াতে পারেন। আবার একাংশের মতে, ‘তারকাদের জীবন বাইরে থেকে যতটা নিখুঁত মনে হয়, ভিতরে ততটাই জটিল হতে পারে।’ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে কেউ লিখেছেন, ‘বিজয় আন্নার জন্য কঠিন সময়। আশা করি সত্যিটা সামনে আসবে।’ আবার কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, ‘রাজনৈতিক ময়দানে নামার আগে এমন ঘটনা কি কাকতালীয়?’
রাজনীতিতে প্রবেশের ইঙ্গিত আগেই দিয়েছেন থলপতি। অভিনয়জীবন থেকে ধীরে ধীরে সরে এসে পূর্ণ সময় রাজনীতিতে মনোনিবেশের পরিকল্পনা রয়েছে বলে ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি। তামিলনাড়ুতে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। ঠিক এই সময়েই ব্যক্তিগত জীবনের এই মামলা রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে কি না, তা নিয়েও চলছে জল্পনা। বিরোধীরা বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষের সুযোগ নেবেন কি না, সে দিকেও নজর রাজনৈতিক মহলের। অন্যদিকে, তৃষা কৃষ্ণনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে যে গুঞ্জন ছড়িয়েছে, তা নিয়েও স্পষ্ট কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি সংশ্লিষ্ট পক্ষের কাছ থেকে। দু’জনেই দীর্ঘদিনের সহকর্মী। একাধিক ছবিতে তাঁদের জুটি দর্শকপ্রিয় হয়েছে। ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁদের বন্ধুত্ব নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁদের ঘনিষ্ঠতা নিয়েই নাকি আপত্তি তুলেছেন সঙ্গীতা, এমনটাই শোনা যাচ্ছে বিভিন্ন সূত্রে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে এখনও সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়নি।
কয়েক মাস আগে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে বিজয়ের উপস্থিতি ঘিরে চরম উন্মাদনা তৈরি হয়। ভিড় সামলাতে গিয়ে পদপিষ্টের ঘটনাও ঘটে, প্রাণহানির খবর সামনে আসে। পরে মৃতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য করেন অভিনেতা। সেই ঘটনার পর থেকেই জনসমাগমে নিরাপত্তা ও দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। জনপ্রিয়তার এই মাত্রা যেমন তাঁর শক্তি, তেমনই কখনও তা বিপদের কারণও হয়ে দাঁড়ায়। অন্যদিকে, বর্তমানে আদালতে দায়ের হওয়া বিচ্ছেদ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে ২০ এপ্রিল। আইনি প্রক্রিয়া কী মোড় নেয়, তা দেখার অপেক্ষায় ভক্তমহল ও ইন্ডাস্ট্রি। ব্যক্তিগত সংকটের মাঝেও বিজয় তাঁর পেশাগত ও রাজনৈতিক পরিকল্পনা কতটা গুছিয়ে এগোতে পারেন, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। দক্ষিণী সিনেমা, থলপতি বিজয়ের সম্পত্তি, তৃষা কৃষ্ণনের সঙ্গে সম্পর্কের জল্পনা, সঙ্গীতার বিচ্ছেদের মামলা, এসব কিছু মিলিয়ে এই মুহূর্তে তিনি শিরোনামে। উল্লেখ্য, তারকার জীবন যেমন আলোর বৃত্তে আবদ্ধ, তেমনই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের অভিঘাতও জনসমক্ষে আলোচিত হয়। থলপতি বিজয়ের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। আগামী দিনেই জানা যাবে, এই ঝড় সামলে তিনি নতুন অধ্যায়ে কত দ্রুত পা রাখেন।
ছবি : সংগৃহীত।
আরও পড়ুন : Deepika Padukone, motherhood | দীপিকা পাড়ুকোন খোলাখুলি বললেন: ‘মা হওয়ার পরে জীবন পুরো বদলে গিয়েছে’



