Donald Trump Global Tariff 15 Percent | সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই শুল্ক বাড়ালেন ডোনাল্ড ট্রাম্প! ১০% থেকে ১৫% ‘গ্লোবাল ট্যারিফ’ ঘোষণা, নজরে দিল্লি

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : মার্কিন রাজনীতিতে ফের চমক। আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টের ধাক্কা খাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নতুন করে শুল্ক বৃদ্ধির ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। প্রথমে ১০ শতাংশ হারে ‘সাময়িক গ্লোবাল শুল্ক’ আরোপের কথা জানালেও, একদিনের মধ্যেই তা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। এই পদক্ষেপে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলে জোর চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে নতুন দিল্লিও। শুক্রবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, জাতীয় জরুরি অবস্থার আইনের আওতায় বিভিন্ন দেশের উপর যে আমদানি শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প, তা আইনি ভিত্তিহীন। আদালতের পর্যবেক্ষণ, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এই ধরনের একতরফা সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার সীমা লঙ্ঘন করে। এই রায়ের পরই হোয়াইট হাউস থেকে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, আইইইপিএ (IEEPA) অনুযায়ী আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক আর কার্যকর থাকবে না এবং দ্রুত তা আদায় বন্ধ করা হবে।

কিন্তু, আদালতের পর্যবেক্ষণের পরও পিছিয়ে যাননি ট্রাম্প। বরং নতুন কৌশলে এগিয়েছেন। সমাজমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ নিজের হ্যান্ডলে তিনি লেখেন, ‘আমেরিকার রাষ্ট্রপতি হিসাবে আমি অবিলম্বে বিভিন্ন দেশের উপর গ্লোবাল শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করব। বহু দেশ দশকের পর দশক ধরে আমেরিকাকে নিংড়ে নিয়েছে।’ তাঁর দাবি, এই পদক্ষেপ আমেরিকার অর্থনীতিকে রক্ষা করার জন্য জরুরি। প্রাথমিকভাবে ১০ শতাংশ হারে ‘সাময়িক শুল্ক’ ঘোষণা করেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তা ১৫ শতাংশে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর প্রেসিডেন্টের এই দ্রুত পদক্ষেপ রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে। এক বিশ্লেষকের কথায়, ‘ট্রাম্প দেখাতে চাইছেন, তিনি আদালতের রায় সত্ত্বেও বাণিজ্য নীতিতে দৃঢ় অবস্থানে আছেন।’

আরও পড়ুন : Donald Trump China Tariff, Trump 155 Percent Tariff | চুক্তি না-হলে ১৫৫ শতাংশ শুল্ক! চিনকে কড়া বার্তা ডোনাল্ড ট্রাম্পের, ভাল সম্পর্ক রেখেও চাপ বাড়ালেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট

এ ক্ষেত্রে ১৯৭৪ সালের মার্কিন বাণিজ্য আইনের ১২২ নম্বর ধারার উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। ওই ধারায় প্রেসিডেন্টকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আমদানি শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তবে আইন বলছে, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এই শুল্ক ১৫০ দিনের বেশি কার্যকর রাখা যাবে না। ফলে রাজনৈতিক ও আইনি টানাপড়েন আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের প্রতিক্রিয়াও গুরুত্বপূর্ণ। নতুন দিল্লি থেকে চার লাইনের এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বাণিজ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, ‘মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায় আমাদের নজরে এসেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিক বৈঠকে কিছু পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তগুলির সম্ভাব্য প্রভাব আমরা খতিয়ে দেখছি।’ ঘটনাচক্রে, ভারতের এই বিবৃতির কিছু সময় পরেই ট্রাম্প ১৫ শতাংশ শুল্কের ঘোষণা করেন।অন্যদিকে, ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়েও মুখ খুলেছেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একজন মহান ব্যক্তি। তিনি অন্য দেশের সঙ্গে আলোচনায় যতটা কঠোর ছিলেন, আমেরিকার ক্ষেত্রে ততটা কঠোর ছিলেন না।’ ট্রাম্পের দাবি, ভারতের সঙ্গে একটি ‘ন্যায্য চুক্তি’ হয়েছে এবং তা অপরিবর্তিত থাকবে। উল্লেখ্য, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) -এর সঙ্গে বাণিজ্যিক বোঝাপড়া নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক বার ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ১৫ শতাংশ গ্লোবাল শুল্ক কার্যকর হলে বহুজাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলে চাপ তৈরি হতে পারে। আমদানি-নির্ভর শিল্পে ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশেষত ইলেকট্রনিক্স, অটোমোবাইল এবং ভোক্তা পণ্যের ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের রায় ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় ধাক্কা। কিন্তু তার পরপরই নতুন শুল্ক ঘোষণা করে তিনি সমর্থক গোষ্ঠীর কাছে শক্ত বার্তা দিয়েছেন। এক কংগ্রেস সদস্যের মন্তব্য, ‘আদালতের রায়কে পাশ কাটিয়ে প্রশাসন নতুন পথ খুঁজছে। বিষয়টি কংগ্রেসে আলোচনার দাবি রাখে।’

বিশ্ববাজারে ইতিমধ্যে মুদ্রা ও শেয়ার সূচকে ওঠানামা শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাময়িক হলেও ১৫ শতাংশ শুল্ক বহু দেশের রপ্তানিতে প্রভাব ফেলতে পারে। দিল্লির বাণিজ্য মহল পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে। কারণ, আমেরিকা ভারতের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানি বাজার। উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং তার পর ট্রাম্পের ধারাবাহিক শুল্ক সিদ্ধান্ত বিশ্ববাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগামী দিনে কংগ্রেসের অনুমোদন, আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া এবং বাজারের প্রতিকূলতার উপরই নির্ভর করবে এই সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব। আপাতত স্পষ্ট, ওয়াশিংটন থেকে ঘোষিত ১৫ শতাংশ ‘গ্লোবাল ট্যারিফ’ আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে নতুন আলোড়ন তুলেছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Gaza reconstruction fund, Donald Trump Board of Peace | গাজ়ার পুনর্গঠনে ৫০০ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি! বোর্ড অফ পিস নিয়ে বড় দাবি ডোনাল্ড ট্রাম্পের, বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ?

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন