Yubasathi online apply time, WB unemployment scheme 2026 | প্রতিদিন মাত্র ২ ঘণ্টা খোলা থাকবে ‘যুবসাথী’ পোর্টাল: অনলাইনে আবেদনে নতুন সময়সীমা, কীভাবে করবেন আবেদন জেনে নিন

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ★ কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বহুল আলোচিত ‘যুবসাথী’ (Yubasathi) প্রকল্পে অনলাইন আবেদনের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনল নবান্ন। এত দিন ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকলেও এবার থেকে নির্দিষ্ট সময়সীমায় অনলাইন আবেদন গ্রহণ করা হবে। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিন কেবল সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করা যাবে। দিনের অন্য সময়ে পোর্টালে প্রবেশ করতে গেলে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট সময় জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, অফলাইনে বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা পড়ায় সার্ভারের উপর চাপ কমানো এবং আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এক আধিকারিকের কথায়, ‘প্রতিদিন গড়ে প্রায় আট লক্ষ আবেদন জমা পড়ছে। সেই চাপ সামলাতে সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।’

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ব্লক ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অফলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়। বিপুল ভিড় এবং চাপের প্রেক্ষিতে ১৬ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়াও চালু করা হয়। শুরুতেই ব্যাপক সাড়া মেলে। সেই পরিস্থিতিতেই অনলাইনে আবেদন জমার সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়া হল। উল্লেখ্য, ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের লক্ষ্য, কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান। রাজ্যের অন্তর্বর্তিকালীন বাজেট পেশের সময় অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya) এই প্রকল্পের ঘোষণা করেন ৫ ফেব্রুয়ারি। প্রথমে জানানো হয়েছিল, ১৫ অগস্ট থেকে প্রকল্প কার্যকর হবে। কিন্তু ১০ ফেব্রুয়ারি নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ঘোষণা করেন, ‘১ এপ্রিল থেকেই যুবসাথী প্রকল্প কার্যকর করা হবে।’

আরও পড়ুন : Yuva Sathi unemployment allowance West Bengal | ‘যুব সাথী’ ভাতার লাইনে পিএইচডি গবেষক থেকে দিনমজুর: চাকরি নেই, তবু আশার ভরসায় জেলায় জেলায় উপচে পড়া ভিড়

সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি মাধ্যমিক উত্তীর্ণ যুবক-যুবতীরা এই প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন। কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত অথবা সর্বাধিক পাঁচ বছর পর্যন্ত মাসিক ১৫০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যের বহু যুবক-যুবতীর মধ্যে প্রকল্পটি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অনলাইন আবেদন করতে হলে আবেদনকারীকে নির্দিষ্ট সরকারি পোর্টালে প্রবেশ করতে হবে। সেখানে প্রথমে নিজস্ব মোবাইল নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। মোবাইলে পাঠানো ওটিপি (OTP) দিয়ে লগইন সম্পূর্ণ করার পর আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। আবেদন চলাকালীন একাধিক প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করতে হবে নির্দিষ্ট ফরম্যাটে। এর মধ্যে রয়েছে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড ও মার্কশিট, আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, জাতিগত শংসাপত্র (যদি প্রযোজ্য হয়), সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং সাদা কাগজে স্বাক্ষর করা নিজের নামের স্পষ্ট ছবি।

আরও পড়ুন : Tulsi Good Luck Signs | তুলসীগাছে শুভ লক্ষণ দেখা মানেই সৌভাগ্য আসন্ন! জ্যোতিষশাস্ত্র বলছে জীবনে বদলে যেতে পারে ভাগ্যের চাকা

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘সমস্ত নথি স্পষ্ট এবং নির্ধারিত মাপ অনুযায়ী আপলোড না করলে আবেদন বাতিল হতে পারে।’ আবেদন সম্পূর্ণ হওয়ার পর একটি স্বীকৃতি পত্র বা অ্যাকনলেজমেন্ট ডাউনলোড করার সুযোগ থাকবে। ভবিষ্যতের প্রয়োজনে সেই নথি সংরক্ষণ করে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ দিকে আবেদন গ্রহণের শেষ তারিখ ২৬ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত হয়েছে। ফলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন সম্পূর্ণ করার জন্য আবেদনকারীদের তৎপর হতে বলা হয়েছে। প্রশাসনের এক কর্তার বক্তব্য, ‘শেষ মুহূর্তে ভিড় বাড়লে প্রযুক্তিগত সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ধাপে ধাপে আবেদন করুন।’

অনলাইনে সময়সীমা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, ‘এটি সম্পূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বজায় রাখতেই সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।’ ওয়াকিবহাল মহলের মতে, রাজ্যে শিক্ষিত বেকার যুবকের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান। এই প্রেক্ষাপটে মাসিক ভাতা কিছুটা আর্থিক সুরাহা দিতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই বড় চ্যালেঞ্জ। এক অর্থনীতিবিদের মতে, ‘ভাতা সাময়িক স্বস্তি দেয়, কিন্তু স্থায়ী সমাধান কর্মসংস্থান।’ যুবসমাজের একাংশ অবশ্য ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, ‘চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত এই সহায়তা অনেকটা ভরসা দেবে।’ আবার কেউ কেউ বলছেন, ‘প্রক্রিয়াটি সহজ হলেও নথিপত্র জোগাড় করতে সময় লাগছে।’

সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই করে ধাপে ধাপে যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। আর্থিক সহায়তা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে ডিবিটি (Direct Benefit Transfer) ব্যবস্থার মাধ্যমে। প্রসঙ্গত, ‘যুবসাথী’ প্রকল্প ঘিরে রাজ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ ও আলোচনা। অনলাইনে নির্দিষ্ট সময়সীমা চালুর ফলে আবেদন প্রক্রিয়া কতটা মসৃণ হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে আবেদনকারী ও প্রশাসনের।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Anubhav Sinha Mamata Banerjee biopic |বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে বড়পর্দায় আনতে চান অনুভব! কেন আকর্ষণীয় চরিত্র মমতা?

Sasraya News
Author: Sasraya News