সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : ফাল্গুনের শুরুতেই বদলে যাচ্ছে আবহাওয়ার মেজাজ। ভোরে এখনও টের মিলছে হালকা শীতের, কিন্তু বেলা বাড়তেই প্রখর রোদে জ্বালা ধরাচ্ছে চামড়ায়। এরই মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের উপর একটি নিম্নচাপ অঞ্চল শক্তি সঞ্চয় করছে বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর (Alipore Meteorological Department)। ফলে রাজ্যের আবহাওয়ায় ধীরে ধীরে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। আবহাওয়া দফতরের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ‘দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের উপর অবস্থান করা নিম্নচাপ অঞ্চলটি ক্রমশ শক্তি বৃদ্ধি করে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে।’ তবে এই সিস্টেমের সরাসরি প্রভাব পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) উপর কতটা পড়বে, তা এখনও স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি। তবুও বিশেষজ্ঞদের মতে, উপকূলবর্তী অঞ্চলে আর্দ্রতার মাত্রা বাড়তে পারে এবং রাতের তাপমাত্রায় পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
বর্তমানে দক্ষিণবঙ্গের (South Bengal) একাধিক জেলায় রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম রয়েছে। তবে এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলেই ইঙ্গিত। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ‘আগামী দু’দিন দক্ষিণবঙ্গে রাতের তাপমাত্রার বিশেষ হেরফের হবে না। এরপর ধাপে ধাপে ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।’ অর্থাৎ শীতের আমেজ আরও ফিকে হবে, এবং বসন্তের আবহ স্পষ্ট হয়ে উঠবে। শুক্রবার থেকে রবিবারের মধ্যে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৮ থেকে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করবে বলে পূর্বাভাস। উপকূল সংলগ্ন জেলাগুলিতে তাপমাত্রা থাকতে পারে ১৭ থেকে ১৯ ডিগ্রির মধ্যে। পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে, বিশেষ করে পুরুলিয়া (Purulia) ও সংলগ্ন এলাকায়, তাপমাত্রা ১৫ থেকে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকবে। বুধবার কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৭.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের কাছাকাছি। সকালের দিকে হালকা কুয়াশা দেখা দিতে পারে দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায়। বিশেষত পূর্ব মেদিনীপুর (Purba Medinipur) ও পশ্চিম মেদিনীপুরে (Paschim Medinipur) কুয়াশার প্রবণতা বেশি থাকতে পারে। দৃশ্যমানতা কিছু এলাকায় কমে যেতে পারে, ফলে ভোরের পথে বেরোলে গাড়িচালকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যদিও আপাতত রাজ্যের কোথাও বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস।
উত্তরবঙ্গের (North Bengal) পরিস্থিতি তুলনামূলক স্থিতিশীল। আগামী সাত দিন সেখানে তাপমাত্রার বড়সড় ওঠানামার সম্ভাবনা নেই। তবে ভোরের দিকে ঘন কুয়াশার দাপট বজায় থাকবে। কয়েকটি জেলায় দৃশ্যমানতা ৯৯৯ মিটার থেকে নেমে ২০০ মিটার পর্যন্ত হতে পারে। পাহাড়ি অঞ্চল, বিশেষ করে দার্জিলিং (Darjeeling) ও সংলগ্ন এলাকায়, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আগামী কয়েক দিন ৬ থেকে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করবে। বুধবার দার্জিলিঙে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সমতলের জেলাগুলির মধ্যে কোচবিহারে (Cooch Behar) সবচেয়ে কম তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই তাপমাত্রা ছিল কল্যাণী (Kalyani) ও কাকদ্বীপে (Kakdwip)। এই তথ্য থেকে স্পষ্ট, উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ার চরিত্রে এখনও কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, ‘ফাল্গুন মাসে দিনের তাপমাত্রা দ্রুত বাড়তে শুরু করাই স্বাভাবিক। রাতের শীত কমে গেলে দিন-রাতের তাপমাত্রার পার্থক্যও কমে আসবে।’ বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ যদি আরও শক্তি সঞ্চয় করে, তা হলে উপকূলবর্তী অঞ্চলে আর্দ্রতা বাড়তে পারে, যদিও বৃষ্টির সম্ভাবনা আপাতত নেই। এই আবহে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ‘সকালের ঠাণ্ডা ও দুপুরের গরম এই তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে সর্দি-কাশি বা জ্বরের প্রবণতা বাড়তে পারে। তাই সকাল ও সন্ধ্যায় হালকা গরম পোশাক ব্যবহার করা উচিত।’ কৃষি বিশেষজ্ঞদেরও নজর রয়েছে এই পরিবর্তনের দিকে, কারণ বসন্তের শুরুতে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ফসলের বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলতে পারে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ায় এখন ঋতুবদলের ইঙ্গিত। শীতের অনুভূতি ধীরে ধীরে বিদায় নিচ্ছে, আর ফাল্গুনের রোদ ক্রমেই চড়া হচ্ছে। বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপের গতিপথের উপর নির্ভর করছে আগামী দিনের আবহাওয়ার চরিত্র। আপাতত বৃষ্টি নেই, তবে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ধারাই আগামী সপ্তাহে প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠতে চলেছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Sachin Tendulkar Anjali Love Story | অর্জুনের বিয়ের আবহে ভাইরাল সচিন-অঞ্জলির প্রেমকাহিনি: ৫ বছরের বড় ডাক্তারি ছাত্রী কীভাবে জিতে নেন সচিনকে?




