সাশ্রয় নিউজ ★ দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা : ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ পর্যালোচনা অভিযান বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু থেকেই নানা অভিযোগ উঠছিল। এনুমারেশন ফর্ম জমা, শুনানি, নথি যাচাই সব নিয়ে গত প্রায় তিন মাস ধরে চলা এই প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তির ছবি সামনে এসেছে একাধিকবার। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগমুহূর্তে যে ঘটনা সামনে এল, তা রীতিমতো চমকে দিয়েছে প্রশাসনকেও। মৃত ব্যক্তির ‘ডেথ সার্টিফিকেট’ জমা পড়ার পরও তাঁর নাম থেকে গেল ভোটার তালিকায় এমনই অভিযোগ উঠেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মন্দিরবাজারে। সূত্রের খবর, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বর্তমানে এসআইআর প্রক্রিয়ার নথি পুনর্যাচাই চলছে। আপলোড করা তথ্য ও জমা দেওয়া নথি মিলিয়ে দেখা হচ্ছে খুঁটিনাটি। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা। তার আগেই যাচাইপর্বে ধরা পড়ে বিস্ময়কর এই গাফিলতি। সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিকদের ভাষায়, ‘নথি মিলিয়ে দেখতে গিয়েই বিষয়টি চোখে পড়ে। মৃত ব্যক্তির নামের পাশে বৈধ ভোটার হিসেবে সবুজ সঙ্কেত দেওয়া রয়েছে।’
ঘটনাটি মন্দিরবাজার ব্লকের অন্তর্গত। অভিযোগ, শহিদুল হক গাজী নামে এক ভোটারকে গত ৩ ফেব্রুয়ারি শুনানির জন্য ডাকা হয়। পরিবারের সদস্যেরা হাজির হয়ে তাঁর মৃত্যু সংক্রান্ত সরকারি শংসাপত্র বা ‘ডেথ সার্টিফিকেট’ জমা দেন। তাঁরা স্পষ্ট করে জানান যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী নাম মুছে দেওয়ার আবেদন জানান। কিন্তু পরবর্তী পর্যায়ে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট এইআরও (AERO- Assistant Electoral Registration Officer) নথি গ্রহণ করার পরও মৃত ব্যক্তিকেই ‘ভোটার’ হিসেবে অনুমোদন দিয়েছেন। এই অসঙ্গতি ধরা পড়ে রোল অবজারভার ও মাইক্রো অবজারভারদের সুপার চেকিংয়ের সময়। তাঁরা আপলোড করা তথ্যের সঙ্গে নথি মিলিয়ে দেখতে গিয়ে অসামঞ্জস্য লক্ষ্য করেন। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই রিপোর্ট পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India) -এর কাছে। প্রাথমিকভাবে এটি প্রশাসনিক গাফিলতি বলে মনে করা হলেও, তদন্তে সব দিক খতিয়ে দেখা হবে।
এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই বহু নাগরিক অভিযোগ করেছিলেন যে অযথা হয়রানি করা হচ্ছে। অসুস্থ ও প্রবীণ ভোটারদেরও নথি যাচাইয়ের জন্য হাজির হতে হয়েছে শুনানি কেন্দ্রে। একাধিক ক্ষেত্রে নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কায় মানুষ দফতরের দ্বারস্থ হয়েছেন। সেই প্রেক্ষাপটে মৃত ব্যক্তির নাম তালিকায় থেকে যাওয়ার ঘটনা প্রশাসনিক দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। নাম৷ প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নির্বাচন আধিকারিক ‘যদি সত্যিই ডেথ সার্টিফিকেট জমা পড়ার পরও নাম বহাল থাকে, তা হলে তা অত্যন্ত গুরুতর ত্রুটি। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে বিষয়টি সংশোধন করা হবে।’ তিনি আরও জানান, আপলোডিং ও ডাটা এন্ট্রির সময় কোথাও ভুল হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ভোটার তালিকা গণতন্ত্রের ভিত্তি। সেখানে মৃত ব্যক্তির নাম থাকা যেমন বেআইনি, তেমনই তা ভবিষ্যতে নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। যদিও সংশ্লিষ্ট মহল আশ্বাস দিচ্ছে যে চূড়ান্ত প্রকাশের আগে সমস্ত তথ্য আবার মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। ‘এ ধরনের ভুল যাতে আর না হয়, তার জন্য অতিরিক্ত নজরদারি রাখা হচ্ছে’ এমনটাই দাবি প্রশাসনের একাংশের। রাজনৈতিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। রাজ্যের বিরোধী শিবিরের একজন নেতা বলেন, ‘এসআইআর-এর নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে, অথচ প্রশাসন নিজের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করতে পারছে না।’ যদিও শাসকদলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা এবং দ্রুত সংশোধন হবে। উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিতব্য চূড়ান্ত ভোটার তালিকার দিকে এখন নজর সকলের। তার আগেই এই ত্রুটি সামনে আসায় একদিকে যেমন প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে প্রশাসনও সতর্ক হয়েছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হলে এ ধরনের ভুলের দ্রুত সমাধান জরুরি, এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : Temperature Drops in Kolkata, Cold Wave Grips Bengal | কলকাতায় পারদপতন, শীতের দাপটে জমে উঠল শহর, আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস




