সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ পূর্ব বর্ধমান: আনন্দঘন পারিবারিক অনুষ্ঠানের আবহ এক রাতেই দুঃস্বপ্নে পরিণত হল। পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারি (Memari) থানার অন্তর্গত মণ্ডল গ্রামে শাশুড়ির ঘরে ঢুকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন একজন যুবক। অভিযুক্তের নাম শ্যামল মহালি (Shyamal Mahali)। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে আটক করে পরে আদালতে তোলা হলে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ ছড়িয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার মণ্ডল গ্রামে নির্যাতিতার বাড়িতে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠান ছিল। আত্মীয়স্বজনদের নিমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। অভিযুক্ত শ্যামল, যিনি নির্যাতিতার ভাগ্নি-জামাই, তিনিও আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকায় ছিলেন। দিনভর খাওয়া-দাওয়া ও হইহুল্লোড়ের পর রাত গভীর হলে সকলেই নিজ নিজ ঘরে বিশ্রাম নিতে যান। অভিযোগ, সেই সময়েই নেশাগ্রস্ত অবস্থায় শ্যামল ছাদের টালি খুলে নির্যাতিতার ঘরে প্রবেশ করেন। সূত্রের খবর, নির্যাতিতা, বয়স আনুমানিক পঁয়তাল্লিশ। পুলিশের কাছে দায়ের করা অভিযোগে জানিয়েছেন, ‘রাতের অন্ধকারে আচমকা কেউ ঘরে ঢোকে। বুঝে ওঠার আগেই আমাকে আক্রমণ করা হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি চিৎকার করি, কিন্তু প্রথমে কেউ টের পায়নি।’ পরিবারের কয়েকজন সদস্যের দাবি, উৎসব উপলক্ষ্যে অনেকেই ক্লান্ত ও নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন, ফলে চিৎকার শোনার পরও মুহূর্তে পরিস্থিতি বোঝা যায়নি। পরে সন্দেহ হওয়ায় বাড়ির লোকজন ছুটে এসে অভিযুক্তকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন।
পরিবারের সদস্যরা প্রথমে অভিযুক্তকে একটি ঘরে আটকে রাখেন। তবে অভিযোগ, সেখান থেকেও সে ছাদের টালি সরিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। শেষপর্যন্ত রবিবার সকালে নির্যাতিতাকে নিয়ে পরিবারের সদস্যরা সরাসরি মেমারি থানায় যান এবং লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্ত শুরু করে পুলিশ। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শ্যামল মহালিকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার তাঁকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হলে বিচারক পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। তদন্তকারী একজন আধিকারিকের কথায়, ‘অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। মেডিক্যাল পরীক্ষা ও প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে। ঘটনার সময় অভিযুক্তের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা কী ছিল, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ পুলিশের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে নির্যাতিতার বয়ান ও ঘটনাস্থলের পরিস্থিতির সঙ্গে অভিযোগের সামঞ্জস্য মিলেছে।
গ্রামের বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, ‘পারিবারিক অনুষ্ঠানে এমন নৃশংস ঘটনা অকল্পনীয়।’ স্থানীয় একজন প্রবীণ ব্যক্তির কথায়, ‘নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে এসে এ ধরনের কাণ্ড ঘটবে, তা কেউ ভাবতে পারেনি।’ প্রতিবেশীদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়েছে। অনেকেই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন। নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ‘যার উপর ভরসা করে বাড়িতে ডাকা হয়েছিল, সেই-ই বিশ্বাসঘাতকতা করল।’ আইনজ্ঞদের মতে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় কঠোর শাস্তি হতে পারে। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এখনও সব তথ্য প্রকাশ করছে না। তবে সূত্রের খবর, ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ, ফরেনসিক পরীক্ষা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দী রেকর্ড করা হচ্ছে। নির্যাতিতার শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, ‘পারিবারিক পরিসরে বিশ্বাসভঙ্গের ঘটনা ভুক্তভোগীর উপর দীর্ঘমেয়াদি মানসিক প্রভাব ফেলতে পারে।’ তাই শুধু আইনি প্রক্রিয়া নয়, কাউন্সেলিং ও মানসিক সহায়তাও প্রয়োজন বলে তাঁরা মনে করছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, এই ঘটনার পর মণ্ডল গ্রামে রীতিমতো ছিছিক্কার পড়ে গিয়েছে। অনেকে বলছেন, ‘মদ্যপান ও অসংযম থেকে এমন অপরাধের জন্ম হয়।’ আবার কারও মত, ‘অপরাধের দায় ব্যক্তিগত; কোনও অজুহাতই গ্রহণযোগ্য নয়।’ সব মিলিয়ে পূর্ব বর্ধমানের মেমারিতে এই ঘটনা সমাজকে নাড়া দিয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যাবে না। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ চলবে। প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে একথা পরিষ্কার, পারিবারিক উৎসবের রাতে ঘটে যাওয়া এই অভিযোগ গোটা এলাকায় তীব্র আলোড়ন তুলেছে এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : Kasba molestation case Kolkata | কসবায় রাতের আতঙ্ক: গাড়িতে তুলে যুবতীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ, পাঁচ অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি জোরদার




