সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লী : প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে অবস্থিত হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে আবারও জেগে উঠেছে বিশ্বের অন্যতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরি। টানা সাত ঘণ্টা ধরে লাভা উগরে আকাশ রাঙাল Kilauea। জ্বলন্ত লাভার ফোয়ারা প্রায় ৩০০ মিটার উঁচুতে উঠে ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে। সেই ভয়াল অথচ মুগ্ধকর দৃশ্য ক্যামেরাবন্দী হয়ে মুহূর্তে ভাইরাল হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে। লাইভ ওয়েবক্যামের মাধ্যমে গোটা বিশ্বের মানুষ প্রত্যক্ষ করেছেন এই অগ্ন্যুৎপাতের দৃশ্য। ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ নতুন করে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয় বলে স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের দাবি। এরপর টানা প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে চলতে থাকে লাভা উদ্গিরণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে কিলাউইয়ার জ্বালামুখে সক্রিয়তা বাড়ছিল। এবার শুরু হয়েছে অগ্ন্যুৎপাতের ৪২তম পর্ব। এর আগের পর্বটি প্রায় ১৯ দিন আগে থেমেছিল। নতুন বিস্ফোরণ সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।
ভাইরাল ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, আগ্নেয়গিরির একাধিক ফাটল থেকে গলিত লাভা আগুনের ঝর্ণার মতো উপরে উঠে চারদিকে ছিটকে পড়ছে। রাতের অন্ধকারে সেই লাল আভা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আকাশের নীল পটভূমি মুহূর্তে রক্তলালে রূপান্তরিত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষায়, ‘প্রকৃতির ভয়ঙ্কর সৌন্দর্যের এক অভাবনীয় মুহূর্ত’। হাওয়াইয়ের মাউন্ট কিলাউইয়ার এই অগ্ন্যুৎপাতের ফলে দু’টি প্রধান লাভাস্রোত প্রায় ৩০০ মিটার উঁচুতে উঠে যায়। বিজ্ঞানীদের অনুমান, অগ্ন্যুৎপাতের ছাই প্রায় ৩৫ হাজার ফুট উচ্চতা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। ফলে বিমান চলাচলেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত বড়সড় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবু পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রশাসন।
হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের এই আগ্নেয়গিরি বহুদিন ধরেই বিশ্বের গবেষকদের আগ্রহের কেন্দ্র। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা United States Geological Survey (USGS) নিয়মিতভাবে কিলাউইয়ার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে। তাঁদের মতে, কিলাউইয়া বিশ্বের সবচেয়ে সক্রিয় আগ্নেয়গিরিগুলির একটি এবং এখানে মাঝেমধ্যেই অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। লাভার রাসায়নিক গঠন ও বিস্ফোরণের ধরণ বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা আগ্নেয়গিরির অভ্যন্তরীণ গতিবিধি বোঝার চেষ্টা করেন। উল্লেখ্য যে, সামাজিক মাধ্যমে ‘পারালাকস-টিআর’ নামে একটি এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডল থেকে অগ্ন্যুৎপাতের ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। হাজার হাজার মানুষ ভিডিয়োটি শেয়ার করেছেন (যদিও ভিডিয়োর সত্যতা সাশ্রয় নিউজ পরীক্ষা করেনি)। একজন নেটাগরিক মন্তব্য করেছেন, ‘জীবনের এক বিরল দৃশ্য দেখলাম। প্রকৃতির শক্তির সামনে মানুষ কত ক্ষুদ্র!’ যদিও ভাইরাল ভিডিয়োর সত্যতা স্বাধীন ভাবে যাচাই করা হয়নি, তবু বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও ঘটনাটির কথা জানিয়েছে।
অগ্ন্যুৎপাতের সময় লাভা সাধারণত গলিত পাথরের মতো প্রবাহিত হয়। কিলাউইয়ার লাভা তুলনামূলকভাবে তরল প্রকৃতির হওয়ায় তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, তবে বিস্ফোরণ তুলনামূলকভাবে কম ধ্বংসাত্মক। বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘কিলাউইয়ার অগ্ন্যুৎপাত সাধারণত পূর্বাভাসযোগ্য এবং স্থানীয় প্রশাসন আগে থেকেই সতর্কতা জারি করে।’ ফলে প্রাণহানির সম্ভাবনা তুলনামূলক কম থাকে। তবে, এই ঘটনার পর আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে আগ্নেয়গিরি পর্যটন। বহু পর্যটক দূর থেকে নিরাপদ স্থানে দাঁড়িয়ে অগ্ন্যুৎপাতের দৃশ্য উপভোগ করেন। তবে প্রশাসনের কড়া নির্দেশ, বিপজ্জনক অঞ্চলে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আগ্নেয়গিরির আশপাশে গ্যাস নির্গমন ও লাভার তাপমাত্রা অত্যন্ত বেশি হওয়ায় অসতর্কতা প্রাণঘাতী হতে পারে। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছেন, এই অগ্ন্যুৎপাত কয়েক দিন পর্যন্ত চলতে পারে, যদিও তার তীব্রতা ওঠানামা করবে। পৃথিবীর অন্তর্গত ম্যাগমা চেম্বারের চাপের উপর নির্ভর করছে পরবর্তী পরিস্থিতি। আপাতত কিলাউইয়ার জ্বলন্ত রূপ বিশ্ববাসীকে আবারও মনে করিয়ে দিল, প্রকৃতির শক্তির সামনে মানবসভ্যতা কতটা অসহায়। কিন্তু, সাত ঘণ্টার টানা লাভা উদ্গিরণ এবং ৩০০ মিটার উঁচু আগুনের ফোয়ারা কিলাউইয়াকে আবারও আন্তর্জাতিক শিরোনামে এনে দিয়েছে। ভয় ও বিস্ময়ের এই যুগলবন্দি মুহূর্ত এখন সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Donald Trump, Trump 2000 dollars | “প্রতি আমেরিকান পাবেন ২ হাজার ডলার” বিস্ফোরক ঘোষণা ডোনাল্ড ট্রাম্পের, শুল্ক আয়ের টাকা ফেরত দেবে ট্রাম্প সরকার




