শোভনা মাইতি ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, নতুন দিল্লী : দক্ষিণী সুপারস্টার যশ (Yash) -এর বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ‘টক্সিক’ (Toxic) মুক্তির আগেই প্রবল বিতর্কে জড়াল। ছবির টিজারে গোরস্থানের ভিতরে উদ্দাম যৌনতার দৃশ্য দেখানো হয়েছে, এই অভিযোগ তুলে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের একাংশ সরব হয়েছে। ইতিমধ্যেই ন্যাশনাল খ্রিস্টান ফেডারেশন (National Christian Federation) সংশ্লিষ্ট মহলে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। স্বরাষ্ট্র সচিব থেকে শুরু করে রাজ্য সরকারের মুখ্য সচিবের দপ্তর, এমনকি কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র শংসাপত্র পর্ষদ বা সেন্সর বোর্ড (CBFC)-এর কাছেও নালিশ পৌঁছেছে বলে খবর। উল্লেখ্য যে, গত ৮ জানুয়ারি মুক্তি পাওয়া ‘টক্সিক’ টিজার সোশাল মিডিয়ায় প্রকাশের পর থেকেই সমালোচনার ঝড় ওঠে। প্রায় তিন মিনিটের সেই ঝলকে অন্ধকার অপরাধ জগতের আবহ, বিস্ফোরণ, গুলি ও গ্যাংস্টার-ঘেঁষা দৃশ্যের পাশাপাশি একটি গোরস্থানের প্রেক্ষাপটে অন্তরঙ্গ মুহূর্ত দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ। আর সেই অংশ ঘিরেই আপত্তি তুলেছে খ্রিস্টান সংগঠনগুলি। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, ‘পবিত্র গোরস্থান প্রাঙ্গণে ধর্মীয় মূর্তির উপস্থিতির মধ্যেই এ ধরনের যৌনদৃশ্য দেখানো খ্রিস্টান সমাজের ভাবাবেগে আঘাত করেছে।’
ন্যাশনাল খ্রিস্টান ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, টিজারের একটি দৃশ্যে গোরস্থানের ভিতরে গাড়ির মধ্যে যৌনতা প্রদর্শিত হয়েছে এবং সেখানে আর্চেঞ্জেল মাইকেল (Archangel Michael) -সহ একাধিক ধর্মীয় প্রতীক দেখানো হয়েছে। অভিযোগপত্রে সংগঠনের দাবি, ‘গোরস্থান আমাদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র স্থান। সেখানে এই ধরনের দৃশ্য উপস্থাপন ধর্মীয় অনুভূতিকে আঘাত করে।’ সংগঠনের তরফে অবিলম্বে ওই দৃশ্য অপসারণের দাবি তোলা হয়েছে। পাশাপাশি সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলি থেকেও টিজার সরিয়ে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। এটাই প্রথম নয়, ‘টক্সিক’ টিজার ঘিরে এর আগেও আপত্তির ঝড় উঠেছিল। কর্ণাটক (Karnataka)-এর আম আদমি পার্টি (Aam Aadmi Party) -এর মহিলা শাখা অভিযোগ তোলে যে, কোনওরকম সতর্কীকরণ ছাড়াই প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী কন্টেন্ট উন্মুক্ত সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের বক্তব্য ছিল, ‘এ ধরনের অশ্লীল দৃশ্য কিশোর-কিশোরীদের মনে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে এবং নারীদের সামাজিক অবস্থান সম্পর্কেও ভুল বার্তা দিতে পারে।’ কর্ণাটক রাজ্য সম্পাদক ঊষা মোহন (Usha Mohan) উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রাপ্তবয়স্ক কন্টেন্টে সতর্কীকরণ থাকা উচিত। তা না হলে অপ্রাপ্তবয়স্কদের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’
এই প্রেক্ষাপটে কর্ণাটক মহিলা কমিশন (Karnataka Women’s Commission) -এর কাছেও অভিযোগ জানানো হয়। কমিশনের কাছে জমা দেওয়া চিঠিতে দাবি তোলা হয়, ‘রাজ্যের সাংস্কৃতিক ও নৈতিক মূল্যবোধ রক্ষায় অবিলম্বে টিজারটি নিষিদ্ধ করা হোক।’ যদিও সেই পর্যায়ে টিজার প্রত্যাহার হয়নি। বরং বিতর্কের মাঝেই দর্শকদের একাংশের মধ্যে ছবিটি নিয়ে কৌতূহল বেড়েছে। চলচ্চিত্র মহলের একাংশের মতে, ‘লার্জার দ্যান লাইফ’ উপস্থাপনা এবং গ্যাংস্টার-ভিত্তিক গল্প দক্ষিণী ছবিতে নতুন নয়। তবে ধর্মীয় স্থানকে প্রেক্ষাপট হিসেবে ব্যবহার করায় বিতর্কের মাত্রা বেড়েছে। সমালোচকদের প্রশ্ন, শিল্পের স্বাধীনতার সীমা কোথায় শেষ হবে এবং ধর্মীয় সংবেদনশীলতার শুরু কোথায়? অন্যদিকে, যশের অনুরাগীরা বলছেন, টিজারের দৃশ্যকে গল্পের প্রেক্ষাপট ছাড়া বিচার করা ঠিক নয়। তাদের দাবি, পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি মুক্তি পেলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
‘কেজিএফ’ (KGF) খ্যাত যশের এই নতুন ছবিটি একটি মেগাবাজেট প্রজেক্ট হিসেবে ইতিমধ্যেই আলোচনায় ছিল। অ্যাকশন, অপরাধ জগতের কাহিনি এবং গাঢ় ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা, সব মিলিয়ে ‘টক্সিক’ মুক্তির আগেই উচ্চ প্রত্যাশা তৈরি করেছে। তবে এখন প্রশ্ন উঠেছে, সেন্সর বোর্ড কী সিদ্ধান্ত নেয়। যদি অভিযোগের ভিত্তিতে দৃশ্য কাটছাঁটের নির্দেশ আসে, তা হলে ছবির চূড়ান্ত সংস্করণে পরিবর্তন আসতে পারে। আইনজ্ঞদের মতে, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ধারায় তদন্ত হতে পারে। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে সেন্সর বোর্ড ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের পর্যালোচনার উপর।এদিকে সোশাল মিডিয়ায় ‘টক্সিক টিজার বিতর্ক’, ‘যশ নতুন ছবি’, ‘গোরস্থানে দৃশ্য’ ইত্যাদি কী-ওয়ার্ডে ব্যাপক চর্চা চলছে। গুগল সার্চ ট্রেন্ডেও এই বিষয়টি দ্রুত উপরে উঠেছে। ফলে বিতর্ক যেমন বাড়ছে, তেমনই প্রচারও মিলছে ছবির। উল্লেখ্য যে, ধর্মীয় সংবেদনশীলতা বনাম সৃজনশীল স্বাধীনতা, এই চিরন্তন দ্বন্দ্বের নতুন অধ্যায় যেন ‘টক্সিক’। এখন দেখার, প্রশাসন ও সেন্সর বোর্ডের পদক্ষেপে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় এবং যশ (Yash) -এর বহুল আলোচিত এই ছবি শেষ পর্যন্ত কীভাবে দর্শকের সামনে আসে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Aamir Khan Relationship, Marriage Breakup Reasons | পর পর দু’টি বিচ্ছেদের পর আত্মসমালোচনায় আমির খান: কাজপাগল মানসিকতা ও নিঃসঙ্গতার অভ্যাস কি দাম্পত্যের শত্রু?




