সাশ্রয় নিউজ ★ সুপৌল : বলিউডের জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী উদিত নারায়ণ (Udit Narayan) আবারও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। সম্প্রতি ‘চুম্বন বিতর্ক’ ঘিরে আলোচনায় আসার পর এবার তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে উঠল গুরুতর অভিযোগ। গায়কের প্রথম স্ত্রী রঞ্জনা নারায়ণ ঝা (Ranjana Narayan Jha) পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের তির শুধু উদিতের দিকেই নয়, তাঁর দুই দাদা সঞ্জয় কুমার ঝা (Sanjay Kumar Jha), ললিত নারায়ণ ঝা (Lalit Narayan Jha) এবং দ্বিতীয় স্ত্রী দীপা নারায়ণ (Deepa Narayan) -এর বিরুদ্ধেও। রঞ্জনার বিস্ফোরক দাবি, ‘চিকিৎসার অজুহাতে আমার অজ্ঞাতে শরীর থেকে জরায়ু অপসারণ করা হয়েছিল।’ এই অভিযোগ সামনে আসতেই শোরগোল পড়েছে বিনোদন মহলে।

পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযোগপত্রে রঞ্জনা জানিয়েছেন তিনি বিহারের সুপৌল (Supaul) জেলার বাসিন্দা, বর্তমানে তাঁর বয়স ৬১ বছর। ১৯৮৪ সালের ৭ ডিসেম্বর হিন্দু রীতি মেনে উদিত নারায়ণের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয় বলে দাবি। রঞ্জনার বক্তব্য, ‘বিয়ের পরের বছরই তিনি আমাকে রেখে মুম্বাই চলে যান।’ তাঁর অভিযোগ, পরবর্তীকালে তাঁকে না জানিয়েই উদিত মুম্বাইয়ে দীপা নারায়ণকে বিয়ে করেন। এই বৈবাহিক জটিলতা নিয়ে অতীতেও প্রকাশ্যে বিতর্ক হয়েছে। একসময় আইনি লড়াইয়ের পর উদিত নারায়ণ রঞ্জনাকে প্রথম স্ত্রী হিসেবে স্বীকার করেছিলেন বলেও জানা যায়। এমনকি আদালতের হস্তক্ষেপে সমঝোতার পথও খোঁজা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান অভিযোগে পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে।
রঞ্জনার সাম্প্রতিক অভিযোগ অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালে উদিতের একজন দাদা চিকিৎসার জন্য তাঁকে দিল্লিতে নিয়ে যান। তাঁর দাবি, ‘সেই সময় চিকিৎসার নামে ষড়যন্ত্র করে আমার অজ্ঞাতে জরায়ু অপসারণ করা হয়।’ তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন দীপা নারায়ণও। রঞ্জনার কথায়, ‘পরবর্তী সময়ে অন্য চিকিৎসার জন্য পরীক্ষা করাতে গিয়ে জানতে পারি, আমার শরীরে জরায়ু নেই।’ এই দাবি ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, কোন পরিস্থিতিতে এমন বড় শল্যচিকিৎসা হল এবং রোগীকে না জানিয়ে তা কীভাবে সম্ভব?
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ২০০৬ সালে রঞ্জনা মুম্বাইয়ে উদিতের বাড়িতে গেলে তাঁকে ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। তাঁর কথায়, ‘আমার সঙ্গে অত্যন্ত খারাপ ব্যবহার করা হয়েছিল।’ এমনকী নেপালে শ্বশুরবাড়িতে গিয়েও একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয় বলে অভিযোগ। সেখান থেকেও তাঁকে জোর করে বের করে দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেছেন। এই ঘটনার পর থেকেই রঞ্জনা বাবার বাড়িতে থাকছেন বলে জানিয়েছেন। পরবর্তীকালে তিনি সুপৌলের পারিবারিক আদালত এবং মহিলা কমিশনের দ্বারস্থ হন। সেই সময় উদিত নারায়ণ তাঁকে প্রথম স্ত্রী হিসেবে স্বীকার করেছিলেন এবং একটি রফাচুক্তিও হয়েছিল বলে দাবি। তবে রঞ্জনার অভিযোগ, ‘আদালতে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কোনও সম্মান রাখা হয়নি।’
আইনজ্ঞদের মতে, যদি চিকিৎসার নামে জোরপূর্বক বা প্রতারণার মাধ্যমে অস্ত্রোপচার করা হয়ে থাকে, তবে তা গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে। বিষয়টি প্রমাণ সাপেক্ষ এবং তদন্তের উপর নির্ভরশীল। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা নথি, হাসপাতালের রেকর্ড ও সাক্ষ্যপ্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। তবে রঞ্জনার অভিযোগের ভিত্তিতে উদিত নারায়ণ বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। কিন্তু এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।বিনোদন জগতের একাংশ মনে করছে, ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতা যখন আইনি পথে গড়ায়, তখন তা শিল্পীর পেশাগত জীবনের উপরও প্রভাব ফেলে। আবার অন্য অংশের মত, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী বলা যায় না।
উল্লেখ্য, উদিত নারায়ণ দীর্ঘ কেরিয়ারে অসংখ্য হিট গান উপহার দিয়েছেন এবং জাতীয় পুরস্কারসহ একাধিক সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। কিন্তু তাঁর ব্যক্তিগত জীবন বারবার বিতর্কের শিরোনামে এসেছে। এবার অভিযোগের গুরুত্ব অনেক বেশি, কারণ তা সরাসরি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের প্রশ্ন তুলছে। অন্যদিকে, পুলিশ তদন্ত শুরু করলে ঘটনার প্রকৃত সত্য সামনে আসবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। রঞ্জনার দাবি ও নথিপত্র খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সূত্রের খবর। কিন্তু, এই মুহূর্তে প্রশ্ন একটাই যে চিকিৎসার নামে কী সত্যিই কোনও অনৈতিক বা বেআইনি কাজ হয়েছিল, নাকি এটি দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের নতুন অংশ? তদন্তের অগ্রগতির দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সকলেই।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Priyanka Chopra Turns Pirate in The Bluff, Bloody Mary Look Shocks Bollywood | জলদস্যু অবতারে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, ‘দ্য ব্লাফ’ -এর ব্লাডি মেরি লুকে শোরগোল




