West Bengal gas pipeline delay, Samik Bhattacharya Statement | ক্লিন এনার্জির পথে একমাত্র বাধা কী পশ্চিমবঙ্গ? গ্যাস পাইপলাইন ইস্যুতে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দাবি বিজেপির

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট ঘিরে নতুন করে উত্তাল হয়ে উঠল রাজ্য-রাজনীতি। রাজ্য সভার সাংসদ তথা পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) একটি বিস্ফোরক মন্তব্যে দাবি করেন, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিকাঠামো প্রকল্প জগদীশপুর-হলদিয়া-বোকরো-ধামরা গ্যাস পাইপলাইন বাস্তবায়নের পথে একমাত্র বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে প্রশাসনিক দেরি, অনুমোদনের জটিলতা এবং রাজ্য সরকারের অনীহার অভিযোগ, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা। উল্লেখ্য, এই গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্পকে দেশের ক্লিন এনার্জি ট্রানজিশনের মেরুদণ্ড হিসেবে ধরা হয়। উত্তরপ্রদেশের জগদীশপুর থেকে শুরু করে ঝাড়খণ্ডের বোকরো, ওড়িশার ধামরা হয়ে পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত এই পাইপলাইন শিল্পাঞ্চল, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং সাধারণ মানুষের কাছে পরিষ্কার জ্বালানি পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে পরিকল্পিত। সংসদে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয়ের সরকারি উত্তরের তথ্য উদ্ধৃত করে শমীক ভট্টাচার্য জানান, সারা দেশে প্রকল্পটির কাজ প্রায় ৯৮.৭ শতাংশ সম্পূর্ণ হলেও পশ্চিমবঙ্গেই মূল সমস্যা রয়ে গিয়েছে।

আরও পড়ুন : PM Modi Parliament Speech | অনুপ্রবেশ থেকে নীতি রাজনীতি, রাজ্যসভায় এক নিশ্বাসে কংগ্রেস ও তৃণমূলকে আক্রমণ নরেন্দ্র মোদীর

শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া দেশের প্রায় সমস্ত রাজ্যেই তাদের অংশের পাইপলাইন নেটওয়ার্ক কমিশন হয়ে গিয়েছে। অথচ পশ্চিমবঙ্গে আজও গুরুত্বপূর্ণ দু’টি অংশ কলকাতা-হলদিয়া প্রায় ৩০ কিলোমিটার এবং ধামরা-হলদিয়া প্রায় ২৬ কিলোমিটার অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। অন্যদিকে, প্রতিবেশী রাজ্য ওড়িশা তাদের নির্ধারিত অংশ সম্পূর্ণ করে ফেলেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই বিলম্বের পেছনে রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে কড়া প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপি নেতা। তাঁর অভিযোগ, ২০১৯ সালেই পশ্চিমবঙ্গে এই প্রকল্পের কাজ বরাদ্দ হলেও বাস্তবে কাজ শুরু করার অনুমতি দেওয়া হয় ২০২১ সালে। সেই সময়সীমার ব্যবধানেই বহু জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে তাঁর দাবি। বিশেষ করে হুগলি, হাওড়া, পূর্ব বর্ধমান ও পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ক্ষেত্রে ‘রাইট অফ ইউজ’ (RoU) অনুমতি, মৎস্য দপ্তরের ক্লিয়ারেন্স, জমি সমীক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সহযোগিতায় ধারাবাহিক দেরির অভিযোগ তোলা হয়েছে।

শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) তাঁর পোস্টে পরিষ্কার ভাষায় লিখেছেন, এটি শুধুমাত্র প্রশাসনিক অদক্ষতার ফল নয়, তা পরিকল্পিত প্রশাসনিক অন্তর্ঘাত। তাঁর মতে, কেন্দ্রীয় সরকার একাধিকবার বিষয়টি নিয়ে ফলো-আপ করেছে, এমনকি মুখ্যমন্ত্রী স্তরেও আলোচনা হয়েছে। তবুও রাজ্য প্রশাসনের তরফে কাজের গতি ইচ্ছাকৃতভাবে ধীর রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই বিলম্বের প্রভাব যে শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ নয়, সেটিও তুলে ধরেছেন তিনি। প্রথমত, জাতীয় কোষাগারের আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি সামনে এসেছে। কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগ থাকা সত্ত্বেও প্রকল্পের সম্পূর্ণ সুফল মিলছে না। দ্বিতীয়ত, সাধারণ মানুষ এখনও CNG ও PNG পরিষেবার সুবিধা থেকে বঞ্চিত, যা পরিবেশবান্ধব ও তুলনামূলকভাবে সস্তা জ্বালানির একটি বড় উৎস হতে পারত। তৃতীয়ত, হলদিয়া রিফাইনারিতে পরিষ্কার জ্বালানি সরবরাহে বিলম্ব হওয়ায় শিল্প উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের উপরও প্রভাব পড়ছে বলে দাবি।

সবচেয়ে বড় অভিযোগ, এই বিলম্বের ফলে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের ক্লিন এনার্জি ট্রানজিশনের মূল স্রোত থেকে ছিটকে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। যখন সারা দেশ ধীরে ধীরে দূষণকারী জ্বালানি থেকে সরে এসে পরিবেশবান্ধব শক্তির দিকে এগোচ্ছে, তখন পশ্চিমবঙ্গের মতো শিল্পসমৃদ্ধ রাজ্যের পিছিয়ে পড়া দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতি ও পরিবেশ দু’টির পক্ষেই ক্ষতিকর হতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের। এই পোস্টের পর রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও দ্রুত সামনে আসতে শুরু করেছে। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব এই বক্তব্যকে সামনে রেখে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ‘বিলম্বের রাজনীতি’ করার অভিযোগ তুলেছে। তাদের দাবি, উন্নয়নের স্বার্থে যেখানে কেন্দ্র ও অন্যান্য রাজ্য একসঙ্গে কাজ করছে, সেখানে পশ্চিমবঙ্গ রাজনৈতিক কারণেই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প আটকে রাখছে। অন্যদিকে, রাজ্য শাসক দলের তরফে এখনও পর্যন্ত এই নির্দিষ্ট অভিযোগগুলির বিস্তারিত জবাব আসেনি, যদিও অতীতে তারা কেন্দ্রীয় প্রকল্পে জমি ও প্রশাসনিক জটিলতার কথা তুলে ধরে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে।

উল্লেখ্য যে, জগদীশপুর-হলদিয়া-বোকরো- ধামরা গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প ঘিরে এই বিতর্ক আবারও সামনে এনে দিল কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের টানাপড়েন, প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাব এবং উন্নয়নের রাজনীতির বাস্তব চিত্র। প্রশ্ন উঠছে, যখন সারা ভারত এগিয়ে যাওয়ার পথে, তখন কী পশ্চিমবঙ্গ সত্যিই বিলম্বের রাজনীতির জালে আটকে পড়ছে, নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও জটিল বাস্তবতা যার পূর্ণ উত্তর এখনও অধরাই।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : West Bengal Voting-politics: পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতি: এগিয়ে কে-বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম না কংগ্রেস (আজ বাইশ-তম কিস্তি)

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন