সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : দীর্ঘদিনের আইনি টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে জেলেই যেতে হল বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা রাজপাল যাদবকে (Rajpal Yadav)। চেক বাউন্স মামলায় দিল্লির আদালতের কঠোর অবস্থানের পর গত বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, দিল্লির তিহার জেল (Tihar Jail) কর্তৃপক্ষের কাছে তিনি আত্মসমর্পণ করেন। সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, আত্মসমর্পণের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন দিল্লি হাইকোর্ট (Delhi High Court) খারিজ করে দেওয়ার পরই আর কোনও রাস্তা খোলা ছিল না অভিনেতার সামনে। বৃহস্পতিবার বিকেল প্রায় ৪টে নাগাদ তিহার জেলে পৌঁছন রাজপাল যাদব। যদিও তিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আইনি স্বস্তি পাওয়ার চেষ্টা চালিয়েছিলেন। আদালতের নির্দেশ কার্যকর হওয়ার আগে অভিনেতা একটি ২৫ লক্ষ টাকার চেক জমা দিয়ে আশ্বাস দেন যে, বাকি বকেয়া অর্থও খুব দ্রুত পরিশোধ করবেন। এই অর্থপ্রদানের জন্য কিছুটা অতিরিক্ত সময় প্রার্থনা করেন তিনি। কিন্তু দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি স্বর্ণকান্ত শর্মার (Justice Swarn Kant Sharma) বেঞ্চ সেই আবেদন গ্রহণ করেনি।
আদালত পরিষ্কার জানিয়ে দেয়, কোনও ধরনের আইনি ছাড় বা স্বস্তি পাওয়ার আগে আত্মসমর্পণ করা বাধ্যতামূলক। বিচারপতির পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, অভিযোগকারী সংস্থার সঙ্গে বিবাদ মেটানোর জন্য রাজপাল যাদবকে অতীতে একাধিকবার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রতিবারই তিনি নিজের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। সেই কারণেই এই মামলায় আর সহানুভূতি দেখানোর অবকাশ নেই বলে আদালত মনে করে। প্রসঙ্গত, এই মামলার দীর্ঘ ইতিহাস বিচার করলে দেখা যায়, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত এই বিতর্ক রাজপাল যাদবের পিছু ছাড়েনি। বিভিন্ন পর্যায়ে আদালত তাঁকে সময় দিয়েছে, সমঝোতার সুযোগ দিয়েছে, এমনকী অর্থ পরিশোধের জন্য বারবার ডেডলাইনও বেঁধে দিয়েছে। কিন্তু একাধিকবার সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও প্রতিশ্রুত অর্থ পুরোপুরি মেটানো হয়নি। আদালতের মতে, এই ধারাবাহিক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গই শেষ পর্যন্ত অভিনেতার বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্তের পথ প্রশস্ত করেছে।
বিচারপতি স্বর্ণকান্ত শর্মা তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘উনি অতীতে অন্তত ১৫ থেকে ২০ বার একই ধরনের আচরণ করেছেন। আগের নির্দেশেও ওঁর এই প্রবণতার উল্লেখ ছিল। কোনও আদালতের আদেশ বা নিজস্ব প্রতিশ্রুতি তিনি পালন করেননি। তাই এই পর্যায়ে ওঁর প্রতি আর কোনও লিনিয়েন্সি বা সহানুভূতি দেখানোর সুযোগ নেই।’ আদালতের এই মন্তব্যের পরেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে, রাজপাল যাদবকে জেলেই যেতে হবে।উল্লেখ্য যে, আত্মসমর্পণের জন্য রাজপাল যাদবকে আগে থেকেই কিছুটা ছাড় দেওয়া হয়েছিল। মুম্বাই (Mumbai) থেকে দিল্লি এসে আত্মসমর্পণ করার জন্য তাঁকে অতিরিক্ত দু’দিন সময়ও দেওয়া হয়। কিন্তু সেই সময়সীমার মধ্যেও তিনি মামলার নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ পুরোপুরি জমা দিতে পারেননি। ফলে শেষ পর্যন্ত আদালতের নির্দেশ মেনেই তিহার জেলে তাঁকে আত্মসমর্পণ করতে হয়।
রাজপাল যাদবের কেরিয়ার বলিউডে প্রায় ২৫ বছরেরও বেশি সময়ের। ‘হেরা ফেরি’, ‘ভুলভুলাইয়া’, ‘চুপ চুপ কে’, ‘ঢোল’ এই সমস্ত ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শকের মনে আজও হাসির রেশ রেখে যায়। সাম্প্রতিক সময়েও ‘ভুলভুলাইয়া ৩’ (Bhool Bhulaiyaa 3) এবং ‘বেবি জন’ (Baby John) -এর মতো ছবিতে কাজ করে তিনি আবারও আলোচনায় এসেছিলেন। কিন্তু ব্যক্তিগত আর্থিক লেনদেনের এই মামলা তাঁর পেশাগত সাফল্যের উপর ছায়া ফেলেছে বলেই মত চলচ্চিত্র মহলের একাংশের।
আইনজ্ঞদের মতে, চেক বাউন্স মামলা সাধারণত আর্থিক অপরাধের মধ্যে পড়লেও, আদালতের নির্দেশ অমান্য এবং বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলে শাস্তির মাত্রা কঠোর হওয়াই স্বাভাবিক। এই ক্ষেত্রে রাজপাল যাদবের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি ইচ্ছাকৃত ভাবে সময়ক্ষেপণ করেছেন এবং আদালতের বিশ্বাস ভঙ্গ করেছেন। সেই কারণেই শেষ পর্যন্ত জেলবন্দী হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এই ঘটনায় বিনোদন জগতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। একদিকে বহু অনুরাগী অভিনেতার জন্য সহানুভূতি প্রকাশ করছেন, অন্যদিকে অনেকে মনে করছেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন, সে তিনি যত বড় তারকাই হন না কেন। সামাজিক মাধ্যমে এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তর আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ বলছেন, আর্থিক পরিকল্পনার ভুল সিদ্ধান্তই একজন সফল অভিনেতাকেও এমন পরিণতির মুখে ঠেলে দিতে পারে। ওয়াকিবহাল মহলের মত, রাজপাল যাদবের তিহার জেলে আত্মসমর্পণ এটি এক অর্থে সতর্কবার্তা যে খ্যাতি, জনপ্রিয়তা বা দীর্ঘ কেরিয়ার কোনও কিছুই আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে রক্ষাকবচ হতে পারে না। এখন দেখার, আগামী দিনে এই মামলার পরিণতি কী হয় এবং রাজপাল যাদব তাঁর জীবনের এই কঠিন সময় থেকে কীভাবে ঘুরে দাঁড়ান।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Priyanka Chopra Nick Jonas daughter | ‘মাত্র ৭৬৬ গ্রাম ওজন, সারা শরীর বেগনি’: প্রিম্যাচিয়োর জন্ম থেকে হাসপাতালের ১০০ দিন, মালতী মেরির জন্য কীভাবে নাজেহাল হয়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা-নিক




