Droupadi Murmu, Biraja Temple Pinda Daan | বিরজা ধামে রাষ্ট্রপতি : নবি গয়ায় পূর্বপুরুষের আত্মার শান্তিকামনায় দ্রৌপদী মুর্মু

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ ভুবনেশ্বর: ওড়িশার জাজপুর জেলায় অবস্থিত প্রাচীন ও পবিত্র বিরজা মন্দিরে মঙ্গলবার সকালে পিণ্ডদান সম্পন্ন করলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (Droupadi Murmu)। রাষ্ট্রপতির এই ধর্মীয় আচারকে কেন্দ্র করে জাজপুর জেলা জুড়ে বিশেষ তাৎপর্য তৈরি হয়। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, রাষ্ট্রপতির সফরকে ঘিরে মন্দির চত্বর ও সংলগ্ন এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং প্রায় ৬০০ জন নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়। রাষ্ট্রপতি মুর্মু বিরজা মন্দির প্রাঙ্গণে অবস্থিত ‘নবি গয়া’ নামের পবিত্র কুণ্ডে পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি ও মুক্তির উদ্দেশ্যে পিণ্ডদান করেন। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, পিণ্ডদান একটি গুরুত্বপূর্ণ শ্রাদ্ধ আচার, যার মাধ্যমে প্রয়াত পূর্বপুরুষদের আত্মার মোক্ষলাভের কামনা করা হয়। রাষ্ট্রপতির এই ধর্মীয় কর্মসূচিকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও গভীর আগ্রহ ও আবেগ লক্ষ্য করা যায়।

আরও পড়ুন : Narendra Modi, Hardeep Singh Puri | প্রমাণভিত্তিক বিতর্কই গণতন্ত্রের শক্তি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

পিণ্ডদান শুরুর আগে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বিরজা মন্দিরে বিশেষ পুজোয় অংশ নেন। এই মন্দিরটি ত্রয়োদশ শতাব্দীর একটি ঐতিহাসিক উপাসনালয় হিসেবে পরিচিত। এখানে দেবী বিরজাকে দুর্গার দ্বিভুজ রূপে পুজো করা হয়। মন্দিরের পৌরাণিক বর্ণনা অনুযায়ী, দেবী বিরজা এক হাতে মহিষাসুরের বুকে বর্শা বিদ্ধ করছেন এবং অন্য হাতে তার লেজ টেনে ধরেছেন। এই অনন্য মূর্তিরূপ ভারতের শক্তি উপাসনার এক গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন বলে মনে করা হয়। পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী, নবি গয়ার মাহাত্ম্য অত্যন্ত গভীর। বিশ্বাস করা হয়, অসুর গয়াসুরকে বধ করার পর ভগবান বিষ্ণু (Lord Vishnu) তাঁর দেহ তিন ভাগে বিভক্ত করেন। গয়াসুরের মস্তক বিহারের গয়া (Gaya) অঞ্চলে পতিত হয়, পদদ্বয় অন্ধ্রপ্রদেশের পীঠাপুরমে (Pithapuram) এবং নাভি অংশ পতিত হয় ওড়িশার জাজপুরে। সেই কারণে জাজপুরকে ‘নবি গয়া’ নামে অভিহিত করা হয় এবং এটি পিণ্ডদানের জন্য এক পবিত্র তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। ধর্মীয় মতে, এখানে পিণ্ডদান করলে পূর্বপুরুষদের আত্মা বিশেষ শান্তি ও মুক্তি লাভ করে।

রাষ্ট্রপতির এই সফরকে কেন্দ্র করে জাজপুর শহর ও সংলগ্ন এলাকায় প্রশাসনিক তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে জাজপুর শহর এবং আশপাশের এলাকার সমস্ত স্কুল মঙ্গলবার বন্ধ রাখা হয়। একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও রাষ্ট্রপতির আগমন ঘিরে বিশেষ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর এই সফরকে শুধু ধর্মীয় আচার হিসেবেই না, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। তাঁদের মতে, রাষ্ট্রপতির মতো সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদাধিকারীর এই ধরনের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় স্থানে উপস্থিতি ভারতের বহুত্ববাদী সংস্কৃতি ও ধর্মীয় সহনশীলতার প্রতীক।

পিণ্ডদান ও পুজো শেষে রাষ্ট্রপতি মুর্মু জাজপুর থেকে বালেশ্বরের (Balasore) উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সেখানে তিনি ফকির মোহন বিশ্ববিদ্যালয় (Fakir Mohan University) -এর সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন এবং কৃতী ছাত্রছাত্রীদের ডিগ্রি প্রদান করবেন। শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর এই অংশগ্রহণকে ছাত্রসমাজের কাছে এক বিশেষ সম্মান হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতির এই সফর রাজনৈতিক মহলেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। যদিও এটি মূলত একটি ধর্মীয় ও শিক্ষামূলক কর্মসূচি, তবুও রাষ্ট্রপতির নিজ রাজ্য ওড়িশায় এমন ঐতিহ্যবাহী স্থানে উপস্থিতি সাংস্কৃতিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করেছে বলে মত অনেকের। সামাজিক মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পিণ্ডদান ও বিরজা মন্দির দর্শনের ছবি ও খবর ছড়িয়ে পড়তেই বহু মানুষ শ্রদ্ধা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Indian AI Startups 2026, PM Narendra Modi AI Roundtable | ভারতের AI উদ্ভাবনে স্টার্টআপদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন