সুজয়নীল দাশগুপ্ত ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, গুয়াহাটি : টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ঠিক আগে ভারতীয় দল যে ভয়ংকর ছন্দে রয়েছে, গুয়াহাটির মাঠে তা আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল সূর্যকুমার যাদবদের দল। রবিবার নিউ জিল্যান্ডের (New Zealand) বিরুদ্ধে একতরফা লড়াইয়ে মাত্র ১০ ওভারে ম্যাচ শেষ করে দিয়ে টি২০ সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত। শুধু সিরিজ জয় নয়, একই সঙ্গে গত দুই সিরিজে টেস্ট ও একদিনের ক্রিকেটে কিউয়িদের কাছে হারের হিসাবও চুকিয়ে নিল টিম ইন্ডিয়া।প্রথমে ব্যাট করে নিউ জিল্যান্ড ৯ উইকেটে তোলে ১৫৩ রান। কিন্তু সেই স্কোর যে ভারতের কাছে একেবারেই কোনও চ্যালেঞ্জ নয়, তা প্রমাণ করতে সময় লাগেনি। জবাবে মাত্র ১০ ওভারে ২ উইকেটে ১৫৫ রান তুলে নেয় ভারত। ৮ উইকেটের এই দাপুটে জয়ের পর আন্তর্জাতিক মহলে সাফ বার্তা, টি২০ বিশ্বকাপের আগে ভারত এখন অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার।
রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় ভারত। প্রথম বলেই আউট হয়ে যান সঞ্জু স্যামসন (Sanju Samson)। কিন্তু এই উইকেট ভারতীয় শিবিরে কোনও উদ্বেগ তৈরি করতে পারেনি। পাশাপাশি এরপর যা দেখা গেল, তা ছিল সম্পূর্ণ আধিপত্যের প্রদর্শনী। ঈশান কিশন (Ishan Kishan) ২৮ রান করে ফিরলেও ম্যাচের রাশ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেন অভিষেক শর্মা (Abhishek Sharma) ও অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব।অভিষেকের ব্যাট থেকে নেমে আসে এক অভূতপূর্ব ইনিংস। মাত্র ১৪ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করে তিনি ভারতের হয়ে টি২০ ক্রিকেটে দ্বিতীয় দ্রুততম ফিফটির নজির গড়েন। শেষ পর্যন্ত ২০ বলে অপরাজিত ৬৮ রান করেন অভিষেক। তাঁর ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ৫টি ছক্কা। স্ট্রাইক রেট দাঁড়ায় অবিশ্বাস্য ৩৪০। এমন তাণ্ডব দেখে ম্যাচ শেষে নিউ জ়িল্যান্ডের অলরাউন্ডার গ্লেন ফিলিপ্স (Glenn Phillips) নাকি অভিষেকের ব্যাট হাতে নিয়ে দেখেন, সত্যিই কি কোনও ‘বিশেষ রহস্য’ লুকিয়ে রয়েছে তাতে!
অন্য প্রান্তে, সমান তালে আগ্রাসী ছিলেন সূর্যকুমার যাদব। ২৬ বলে ৫৭ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। মারেন ৬টি চার ও ৩টি ছক্কা। এই দুই তারকার জুটিতে আসে ১০২ রান, যা ম্যাচকে কার্যত ১০ ওভারেই শেষ করে দেয়। কিউয়ি বোলারদের অসহায় দেখিয়েছে এই জুটি। ম্যাট হেনরি (Matt Henry), ইশ সোধি (Ish Sodhi) ও মিচেল স্যান্টনার (Mitchell Santner) সবাইকেই প্রতি ওভারে গড়ে ১৪ রান খরচ করতে হয়েছে। এর আগে নিউ জিল্যান্ডের ইনিংসেও পুরোপুরি দাপট দেখিয়েছেন ভারতীয় বোলাররা। গুয়াহাটির উইকেটে শুরু থেকেই চাপ তৈরি করেন জসপ্রীত বুমরাহ (Jasprit Bumrah), হার্দিক পাণ্ড্য (Hardik Pandya) ও হর্ষিত রানা (Harshit Rana)। নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট পড়ায় বড় জুটি গড়তে পারেনি সফরকারী দল। ব্যাটিং বিপর্যয়ের মধ্যেও লড়াই চালান গ্লেন ফিলিপ্স ও মার্ক চাপম্যান (Mark Chapman)। ফিলিপ্স ৪০ বলে ৪৮ রান করেন, আর চাপম্যান ২৩ বলে ৩২ রানের ইনিংস খেলেন। চতুর্থ উইকেটে তাঁদের ৫২ রানের জুটিই কিউয়িদের ইনিংসকে কিছুটা সম্মানজনক জায়গায় পৌঁছে দেয়।
অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনারও শেষদিকে চেষ্টা করেন। ১৭ বলে ২৭ রান করেন তিনি। তবে ভারতীয় বোলারদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণের সামনে অন্য কেউ দাঁড়াতে পারেননি। বুমরাহ ১৭ বলে ৩ উইকেট তুলে নেন। হার্দিক পাণ্ড্য ২৩ রানে নেন ২ উইকেট। রবি বিষ্ণোই (Ravi Bishnoi) ১৮ রানে ২ উইকেট নিয়ে নিজের কার্যকারিতা প্রমাণ করেন। এই জয়ের ফলে একদিকে যেমন ভারতের ব্যাটিং গভীরতা ও আগ্রাসী মানসিকতা স্পষ্ট হল, তেমনই কিছু প্রশ্নও রয়ে গেল। লোয়ার মিডল অর্ডারের ব্যাটারেরা পর্যাপ্ত সময় ব্যাট করার সুযোগ পাচ্ছেন না, যা বিশ্বকাপের আগে টিম ম্যানেজমেন্টের ভাবনার কারণ হতে পারে। অন্যদিকে, নিউ জ়িল্যান্ডের কাছে এই সিরিজ আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা। বিশেষ করে উপমহাদেশের পিচে বোলারদের কার্যকারিতা নিয়ে চিন্তা বাড়ছে কিউয়ি শিবিরে। ক্রিকেট সমালোচকদের মতে, গুয়াহাটির এই ম্যাচ শুধু প্রতিপক্ষদের উদ্দেশ্যে ভারতের বার্তা, টি২০ বিশ্বকাপের মঞ্চে এবার তারা আসতে চলেছে ভয়ংকর প্রস্তুতি নিয়েই।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : India T20 victory, Ishan Kishan-Suryakumar Yadav | সূর্যোদয়ের রাতে ঈশানের ঝড়, টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে দ্রুত ২০০+ রান তাড়া ভারতের




