Sasraya News Sunday’s Literature Special | 25th January 2026 | Edition 97 | সাশ্রয় নিউজ রবিবারের সাহিত্য স্পেশাল| সংখ্যা ৯৭| ২৫ জানুয়ারি ২০২৫

SHARE:

সম্পাকীয়

সময়ের বদলাচ্ছে। আবার তার সঙ্গে বদলাচ্ছে ভাষা। অনুভব। প্রকাশের ভঙ্গি। তবু সাহিত্য আজও সেই একমাত্র পরিসর। যেখানে মানুষের গভীরতম প্রশ্নগুলো নিঃশব্দে এসে দাঁড়ায়। সাহিত্য মানে কোনও সাজসজ্জার আয়োজন নয়। এটি সময়ের সামনে দাঁড়িয়ে আত্মাকে উন্মুক্ত করার নির্ভীক অনুশীলন। আজকের বিশ্বে দ্রুততা একমাত্র নীতি। স্ক্রল, ক্লিক, রিল এসবেতেই তাড়াহুড়োর ভিড়ে মনোযোগ হারাচ্ছে গভীর পাঠ। কিন্তু সাহিত্য তাড়হুড় শেখায় না! শেখায় থামতে। শুনতে। অনুভব করতে।

একটি কবিতার পঙ্‌ক্তি, একটি গল্পের নিঃশ্বাস। একটি প্রবন্ধের যুক্তি। এ-সব মিলিয়ে সাহিত্য আমাদের ভাঙা সময়কে জোড়া লাগানোর কাজ করে। সাহিত্য শুধুই শিল্প নয়, সাহিত্য নাগরিক দায়িত্বও। বাংলা সাহিত্য বিশেষভাবে বহমান তার স্মৃতিতে আছে লোককথা। তার কণ্ঠে আছে বিদ্রোহ। তার চোখে আছে প্রেম ও বেদনা। আজকের লেখকের সামনে চ্যালেঞ্জ দ্বিমুখী। একদিকে বাজারের চাপ অন্যদিকে সত্যের দায়। জনপ্রিয়তার মোহে ভাষা যদি ফাঁপা হয়ে ওঠে তবে সাহিত্যের প্রাণ ক্ষয়ে যায়। আবার কেবল দুর্বোধ্যতার দেওয়াল তুললে পাঠক দূরে সরে যায়। এই দুইয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে সত্যনিষ্ঠ, সংবেদনশীল, সময়-সচেতন লেখা এই হল আমাদের প্রত্যাশা। সাহিত্য বেশ সেই পরিসর তৈরি করতে চায়। যেখানে নবীন কণ্ঠ নির্ভয়ে কথা বলবে। প্রবীণ’রা অভিজ্ঞতা দিশা দেখাবে। অন্যদিকে পাঠক হবে সহযাত্রী। আমরা বিশ্বাস করি সাহিত্য প্রশ্ন তোলে। উত্তর চাপিয়ে দেয় না! বোধের সৃষ্টি করে। এই সবের জন্য কারও কখনওই চোখ ধাঁধায় না। মানুষের সম্ভাবনাকে একসঙ্গে রাখার প্রয়াস দেখায় সাহিত্য। শেষ পর্যন্ত সাহিত্যই আমাদের মনে করিয়ে দেয় মানুষ কেবল ভোক্তা নয়! সে স্বপ্নদ্রষ্টা। সে দর্শক নয় সে স্রষ্টা-ও। এই বিশ্বাসেই সাহিত্য সময়কে ছুঁয়ে মানুষের পাশে অমরত্ব লাভ করে আছে।

 

 

🍂মহামিলনের কথা

শ্রীশ্রীগুরবে নমঃ
অন্য শৈবকর্ম্ম করুক আর না করুক যে ব্যক্তি সর্ব্বদা শিব নাম জপ করে সে মুক্ত হয়।
একটা কথা বলবো?
বল।
আচ্ছা ধর যার রাম ইষ্ট— শিব রামে ভেদ নাই সে গুরুমুখে সাধু মুখে শুনেছে, তার যেমন রাম নামটি মিষ্ট লাগে ঠিক কি শিব নাম লাগে?
গুরুরূপী শিব তাকে রাম নাম করতে উপদেশ করেছেন; কাজে কাজেই রাম নামটি তার প্রিয় হবেই, রামের উপর একটি স্বাভাবিক আকর্ষণ থাকবেই।
এতে কোন অপরাধ হয় না তো?
অপরাধ কেন হবে? শিব তাকে সর্ব্বদা রাম নাম করতে বলেছেন— শিবের আজ্ঞা যে পালন করে— শিব তাতে সন্তুষ্ট হবেন।

শ্রীশ্রীঠাকুর সীতারাম দাস ওঙ্কারনাথ দেব

হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
এই মহামন্ত্র যেখানে সঙ্কীর্ত্তন হয় সেখানে দাস্য সখ্য বাৎসল্য মধুর সকল প্রকার ভাবের ভক্তগণের হৃদয়ে আপন আপন ভাব অনুযায়ী লীলাস্ফূর্ত্তি হয়। নারায়ণ ভক্ত, রাম ভক্ত, কৃষ্ণভক্ত, শিবভক্ত, দুর্গাভক্ত, সূর্য্যোপাসক,
গণেশ উপাসক সকলের হৃদয়ে স্ব স্ব ইষ্টের লীলাস্ফূর্তি হয়ে থাকে, এইজন্য কলিযুগে মহামন্ত্র কীর্ত্তনই শ্রেয়স্কর এই কথা মহাপুরুষগণ বলেন। এই মহামন্ত্র কীর্ত্তনের ও শ্রবণের সকলেই অধিকারী, সকল প্রকার ভক্তের, স্বীয় ইষ্টদেবতার লীলাস্ফূর্ত্তির জন্য সর্ব্বলোক হিতকর।
আচ্ছা নামের মহিমা শোনো। যাঁর নাম নিত্য স্মরণ করলে নিশ্চয় সত্য সত্যই অজ্ঞান-বন্ধন ছিন্ন হয় সেই রাঘবকে ভজনা করি। যে ভক্ত পরম শ্রদ্ধাসহকারে রাম নামে অতি আসক্তচিত্ত— শ্রীজানকীরমণ পুনঃ পুনঃ তাঁর চিন্তা করে থাকেন।
রাম নামের মত পবিত্র আর কিছু নাই—
রাম নাম উচ্চারণে করো নাক হেলা।
ওরে দাস সীতারাম চলে গেল বেলা॥
সব ছেড়ে যেতে হবে ভাব একবার।
জপ দাস সীতারাম নাম সুধাসার॥
শ্রীরাম জয় রাম জয় জয় রাম।
শ্রীরাম জয় রাম জয় জয় রাম॥

🍁শ্রীশ্রীনামামৃত লহরী | শ্রীওঙ্কারনাথ রচনাবলী
(বানান সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত)

 

🍂ফিরেপড়া 

 

স্বামী বিবেকানন্দ -এর চিঠি

 

স্বামী বিবেকানন্দ

২২৮, পশ্চিম ৩৯ সংখ্যক রাস্তা
নিউইয়র্ক
২৩শে ডিসেম্বর, ১৮৯৫

 

প্রিয় শরৎ,

তোমার পত্রে আমি শুধু অধিক দুঃখিতই হয়েছি। আমি দেখছি, তুমি একেবারে নিরুৎসাহ হয়ে পড়েছ। আমি তোমাদের সকলকে — তোমাদের ক্ষমতা ও অক্ষমতাকে — জানি। তুমি কোন কাজে অপারগ হলে আমি তোমায় তাতে ডাকতুম না; আমি তোমায় শুধু সংস্কৃতের প্রাথমিক বিষয়গুলি শিখাতে বলতুম এবং অভিধান প্রভৃতির সাহায্যে অনুবাদ ও অধ্যাপনার কাজে ষ্টার্ডির সহায়তা করতে বলতুম। আমি তোমাকে ঐ কাজের জন্য গড়ে নিতুম। বস্তুতঃ যে কেউ ঐ কাজ চালাতে পারত — একান্ত প্রয়োজন ছিল সংস্কৃতের শুধু একটু চলনসই জ্ঞানের। যাক্, যা হয় সব ভালর জন্যই! এটা যদি ঠাকুরের কাজ হয়, তবে ঠিক জায়গার জন্য ঠিক লোক যথা সময়ে এসে যাবে। তোমাদের কারও নিজেকে উত্ত্যক্ত মনে করার প্রয়োজন নেই। হাইভিউ, কেভার্শ্যাম্, রিডিং, ইংলণ্ড — এই ঠিকানায় ষ্টার্ডির কাছে টাকা পাঠিয়ে দিও।

সা —র বিষয়ে বক্তব্য এই — টাকা কে নিচ্ছে বা না নিচ্ছে তা আমি গ্রাহ্য করি না; কিন্তু বাল্যবিবাহকে আমি অত্যন্ত ঘৃণা করি। এ জন্য আমি ভয়ানক ভুগেছি, আর এই মহাপাপে আমাদের জাতকে ভুগতে হচ্ছে। অতএব এরূপ পৈশাচিক প্রথাকে যদি আমি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সমর্থন করি, নিজেই তবে নিজের কাছে ঘৃণ্য হব। আমি তোমাকে এ বিষয়ে স্পষ্টই লিখেছিলাম; **** বাল্য-বিবাহরূপ এই আসুরিক প্রথার উপর দৃঢ়ভাবে পদাঘাত করতে হবে — সে জন্য তোমাতে কোন দোষ বর্তাবে না। তোমার ভয় হয় ত তুমি দূর হতে নিজেকে বিপদ থেকে বাঁচাও। আমার সঙ্গে তোমার কোন সম্বন্ধ আছে — এটা অস্বীকার করলেই হল, আর আমিও তা দাবী করার জন্য অতিমাত্রায় আগ্রহান্বিত নই। আমি দুঃখিত — অতি দুঃখিত যে, খুকীদের জন্য বর যোগাড়ের ব্যাপারের সঙ্গে আমি মোটেই নিজেকে জড়াতে পারব না; ভগবান আমার সহায় হোন! আমি এতে কোন দিন ছিলাম না এবং কোন দিন থাকবও না। ম — বাবুর কথা ভাব দেখি! এর চেয়ে বেশী কাপুরুষ বা পশুপ্রকৃতির লোক কখন দেখেছ কি? মোদ্দা কথা এই — আমার সাহায্যের জন্য এরূপ লোক চাই যারা সাহসী, অদমনীয় ও বিপদে অপরাম্মুখ — আমি খোকাদের ও ভীরুদের চাই না। প্রত্যুত আমি একাই কাজ করব। আমায় একটা ব্রত উদ্যাপন করতে হবে। আমি একাই তা সম্পন্ন করব। কে আসে বা কে যায় তাতে আমি ভ্রূক্ষেপ করি না। সা—- ইতিমধ্যেই সংসারে ডুবেছে, আর তোমাতেও দেখছি তার ছোঁয়াচ লাগছে! বাবা, সাবধান! এখনও সময় আছে। তোমায় এইটুকু মাত্র উপদেশ দেওয়া আমার কর্তব্য মনে করেছিলাম। অবশ্য এখন তোমরা স্বস্বপ্রধান বড় লোক — আমার কথা তোমাদের কাছে মোটেই বিকাবে না। কিন্তু আমি আশা করি যে, এমন সময় আসবে যখন তোমরা স্পষ্টতর দেখতে পাবে, জানতে পাবে এবং সম্প্রতি যেরূপ ভাবছ তা থেকে অন্যরূপ ভাববে।

আমি যোগেনের জন্য অত্যন্ত দুঃখিত। আমার মনে হয় না যে, কলকাতা তার পক্ষে অনুকূল। ঠাণ্ডা আবহাওয়াতে হজমের অপূর্ব্ব উপকার হয়।…

এবার আসি! আর তোমাদের বিবক্ত করব না; তোমাদের সকলের সর্ব্বপ্রকার কল্যাণ হোক! আমি অতি আনন্দিত যে, কখনও তোমাদের কাজে লেগেছি — অবশ্য তোমরাও যদি তাই মনে কর। অন্ততঃ গুরুমহারাজ আমার উপর যে কর্ত্তব্য অর্পণ করেছিলেন তা সম্পন্ন করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি — এই ভেবে আমি আত্মপ্রসাদ লাভ করছি; তা সুসম্পন্ন হোক আর নাই হোক আমি চেষ্টা করছি জেনেই খুশী আছি। সুতরাং তোমাদের নিকট বিদায়! তোমাদের যথেষ্ট শক্তি আছে; আর আমার পক্ষে যতটা হওয়া সম্ভব তোমরা তার চেয়েও উঁচু; সুতরাং তোমরা নিজের পথে চল। সা—–কে বলবে যে, আমি তার উপর মোটেই রাগ করিনি— পরন্তু আমি দুঃখিত, পরম দুঃখিত হয়েছি। এটা টাকার জন্য নয় — টাকাতে আর কি যায় আসে! কিন্তু সে একটা নীতি লঙ্ঘন করেছে এবং আমার উপর ধাপ্পাবাজি করেছে বলেই আমি ব্যথিত হয়েছি। তার কাছে বিদায় নিচ্ছি, আর তোমাদেরও সকলের কাছে। আমার জীবনের একটা পরিচ্ছেদ শেষ হয়ে গেল। অপরেরা তাদের পালা অনুযায়ী আসুক — তারা আমায় প্রস্তুত দেখতে পাবে। তুমি আমার জন্য মোটেই ব্যতিব্যস্ত হয়ো না। আমি কোন দেশের কোন মানুষের তোয়াকা রাখি না। সুতরাং বিদায়! ঠাকুর তোমাদেরকে চিরকাল, সুচিরকাল আশীর্ব্বাদ করুন! ইতি

তোমাদের
বিবেকানন্দ

 

 

 

 

🍂ধারাবাহিক উন্যাস | ১
কবি ও সাহিত্যিক বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায় আদ্যোপান্ত একটি সাহিত্য পরিমণ্ডলে বড় হয়ে উঠেছেন। তাঁর লেখায় আমরা দেখতে পাই, সমাজের নানান দিক উঠে আসতে, যা পাঠকদের ভাবতে বাধ্য করে, এবং লেখক পাঠকদের একটি নিজস্ব জগতে নিয়ে যান। শুধু কবিতা, গল্প বা উপন্যাস নয় সাহিত্যের অন্য সমস্ত দিকেই লেখকের চমকপ্রদ অবাধ বিচরণ। সাহিত্যিক বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায় অজস্র পুস্তকের প্রণেতা। যা ওঁর সাহিত্যকর্মের দলিল হয়ে রয়েছে। এছাড়াও সম্পাদনা করেন ‘কেতকী’ নামে একটি স্বনামধন্য সাময়িকপত্র। সাশ্রয় নিউজ-এ তাঁর লেখা ধারাবাহিক উপন্যাস, আজকে ‘রবিবারের সাহিত্য স্পেশাল’ -এ।

 

ব্দদের রাত্রি

বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়

শরীরের নীরব দেশ

১৬.
বেল্লা জানে না কবে থেকে নিজের শরীরটাকে ভয় পেতে শুরু করেছে। প্রথমে সেটা কেবল আয়নার সামনে অস্বস্তি ছিল, স্নানের পর ভেজা তোয়ালে মুছতে মুছতে সে নিজেকে দেখে ভাবত, ‘সব মেয়ের মতো আমার শরীরটা কেন এমন নয়?’ তার সহপাঠীরা, একই ক্লাসের মেয়েরা, এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। কারও চুলে নতুন ক্লিপ, কারও হাতঘড়িতে গোলাপি স্ট্র্যাপ, কারও চোখে নতুন কাজল।তারা একে অপরকে হাসতে হাসতে বলে, ‘ওরে, আমার মা বলেছে এখন থেকে ব্রা পরব।’ বেল্লা তখন মাথা নিচু করে থাকে, মুখে হাসি রাখে যেন কিছুই শুনছে না, কিন্তু বুকের ভেতরে সেই হাসি কাঁটার মতো ঢুকে যায়।

খাতার প্রান্তে আঁকা থাকত অর্ধেক মুখ, একটি চোখ, একটুখানি ঠোঁট, কিন্তু কখনও সম্পূর্ণ মুখ নয়। একদিন সায়ো আবার বলল, ‘তুই গেলে ভাল হয়, একটা জায়গা জানি, ম্যাসাজ পার্লার।
ওরা নাকি শরীর ঠিক করে দেয়। সবাই যায় এখন, আমি নিজেও ভাবছি যাব।’ বেল্লা কিছু বলল না। তার বুকের মধ্যে যেন হঠাৎ কোনও কিছু থেমে গেল। ‘শরীর ঠিক করে দেয়’ এই কথাটার অর্থ সে বোঝে না, কিন্তু জানে, শরীর মানেই এখন তার লজ্জা। রাতে বিছানায় শুয়ে সে নিজেকে খুব ছোট মনে করল। একটা অনাহূত কান্না গলার কাছে এসে থেমে গেল।

বাড়ি ফিরে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সে নিজেকে দেখেছিল, না, সে এখনও ঠিক তেমন হয়নি। তার বুক সমান, চোখের নিচে কালি, ত্বক ফ্যাকাশে, যেন রোদে না ফোটা ফুল। সে চুপচাপ তোয়ালে টেনে নেয় বুকের ওপর, মনে মনে ভাবে, ‘আমি কি ঠিক আছি?’
রাতে খেতে বসে মা জিজ্ঞেস করে, ‘তোর কী হয়েছে? কিছু খাস না কেন?’
সে বলে, ‘না কিছু না।’
কিন্তু ‘কিছু না’-এর পেছনে আছে এক গভীর শূন্যতা, যে শূন্যতা সে কাউকে ব্যাখ্যা করতে পারে না। পরদিন স্কুলে ক্লাসে সায়ো তার পাশের বেঞ্চে বসে। সায়ো তার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বান্ধবী, কিন্তু সেও এমন কথা বলে যা বেল্লার বুক ঠেলে দেয় শূন্যতার দিকে। সায়ো বলেছিল, ‘তুই এত ভাবিস কেন? ওসব স্বাভাবিক ব্যাপার। আমার এক আপা বলেছে, প্রেম করলেই ঠিক হয়ে যায়। কেউ যদি তোর হাত ধরে, আলতো করে বুকের উপর রাখে, সব ঠিক হয়ে যাবে।’ বেল্লা সেই মুহূর্তে হাসেনি। তার চোখ কেবল জানলার দিকে গিয়েছিল, যেখানে হাওয়ায় পাতাগুলো দুলছিল নিঃশব্দে। তার মনে হয়েছিল, প্রেম মানে তাহলে শরীরকে ঠিক করে দেওয়ার কোনও রাসায়নিক প্রক্রিয়া? ভালবাসা তাহলে ওষুধ? তবে সে কি এখন অসুস্থ? রাতে ডায়েরিতে লিখেছিল, ‘আমার শরীর আমাকে চিনতে দেয় না। আমি আয়নায় তাকাই, কিন্তু মনে হয় আমি অন্য কেউ।’ দিনগুলো ধীরে ধীরে ভারী হতে লাগল। সে কথা বলতে পারত না, হাসত না, স্কুলে শুধু নিজের খাতার মধ্যে মুখ গুঁজে রাখত।
তার খাতার প্রান্তে আঁকা থাকত অর্ধেক মুখ, একটি চোখ, একটুখানি ঠোঁট, কিন্তু কখনও সম্পূর্ণ মুখ নয়।
একদিন সায়ো আবার বলল, ‘তুই গেলে ভাল হয়, একটা জায়গা জানি, ম্যাসাজ পার্লার।
ওরা নাকি শরীর ঠিক করে দেয়। সবাই যায় এখন, আমি নিজেও ভাবছি যাব।’ বেল্লা কিছু বলল না।
তার বুকের মধ্যে যেন হঠাৎ কোনও কিছু থেমে গেল। ‘শরীর ঠিক করে দেয়’ এই কথাটার অর্থ সে বোঝে না, কিন্তু জানে, শরীর মানেই এখন তার লজ্জা। রাতে বিছানায় শুয়ে সে নিজেকে খুব ছোট মনে করল। একটা অনাহূত কান্না গলার কাছে এসে থেমে গেল।
পরদিন সোমদত্তা ক্লাসে নতুন একটা বিষয় পড়াচ্ছিলেন, ‘শরীর আমাদের প্রথম ঘর।’
তিনি বোর্ডে লিখলেন: ‘নিজের শরীরকে শ্রদ্ধা করো, লজ্জা নয়।’
সবাই চুপ। বেল্লা মাথা নিচু করে বসেছিল। তার চোখে জল জমছিল, কিন্তু সে জানত, কেউ বুঝতে পারবে না।
ক্লাস শেষে সবাই বেরিয়ে গেলে বেল্লা একা দাঁড়াল দরজার কাছে।সোমদত্তা তখন খাতা গুছাচ্ছিলেন।
বেল্লা ধীরে বলল, ‘দিদিমণি, একটু কথা বলব?’
সোমদত্তা তাকালেন, চোখে মায়া আর কৌতূহল,
‘বলো বেল্লা।’
‘দিদিমণি,’ তার গলা কাঁপছিল, ‘শরীরও কি কখনও দোষী হতে পারে?’ এই প্রশ্নে সোমদত্তা মুহূর্তের জন্য স্থির হয়ে গেলেন। তার মনে পড়ল নিজের কৈশোর, নিজের ভয়, যখন কেউ শেখায়নি যে শরীরও একটা গল্প।
তিনি নরম কণ্ঠে বললেন, ‘না বেল্লা, শরীর দোষী হয় না। যে সমাজ তোমাকে লজ্জা শেখায়, যে চোখ তোমার শরীরকে বিচার করে, দোষ তাদের।’
বেল্লা চুপচাপ শুনছিল। তার চোখে প্রথমবার একটু জল টলমল করল। সোমদত্তা বললেন, ‘তুমি তোমার শরীরের প্রতি যত ভয় পাবে, ততই সেটা অপরিচিত হয়ে উঠবে। শরীরও তোমাকে ভয় পেতে শুরু করবে।
তুমি তাকে গ্রহণ করো, যেভাবে তুমি আকাশের আলো গ্রহণ করো, না চেয়ে, না লুকিয়ে।’
বেল্লা কিছু বলল না। তার ঠোঁট কাঁপছিল। সোমদত্তা খাতার কোণে একটা বাক্য লিখে দিলেন কাগজে।
‘তুমি সম্পূর্ণ।’ এবং সেটা বেল্লার হাতে দিয়ে বললেন, ‘এটা রাখো নিজের কাছে।’
বাড়ি ফেরার পথে বেল্লা কাগজটা বারবার খুলে পড়েছিল। ‘তুমি সম্পূর্ণ।’ দু’টি শব্দ, কিন্তু যেন সারা পৃথিবীর ওজন সেই শব্দে। সেই রাতে, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে। সে প্রথমবার নিজের বুকের দিকে তাকাল ভয়ে নয়, কৌতূহলে নয়, এক ধরনের মমতায়। সে দেখল, ত্বকের নিচে কেবল শরীর নয়, একটা জীবন আছে, যা তার সঙ্গে কথা বলে।
ডায়েরিতে লিখল, ‘আজ আমি নিজেকে প্রথমবার ছুঁয়েছি লজ্জায় নয়, করুণায়। আমার শরীর আমার ঘর।
এখানেই আমি বাস করি।’
পরের সপ্তাহে সোমদত্তা তাকে আবার ডাকলেন। ‘বেল্লা, কেমন আছো এখন?’
‘ভালো, দিদিমণি। মাঝে মাঝে ভয় পাই, কিন্তু এখন আর ঘৃণা করি না।’
সোমদত্তা হেসে বললেন, ‘ভয় থাকা মানেই তো তুমি বেঁচে আছো। ভয়কে গ্রহণ করতে শেখাই সাহস।’ বেল্লা ক্লাসে ধীরে ধীরে আবার মিশে যেতে লাগল। সে এখন টিফিনের সময় জানালার বাইরে তাকায় না, বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করে, হাসে,তবু ভেতরে কোথাও একটা চুপচাপ অংশ রয়ে যায়, যে অংশটি কখনও সম্পূর্ণ মিশতে পারে না। একদিন সোমদত্তা তাকে লাইব্রেরিতে নিয়ে গেলেন।
বইয়ের তাক থেকে একটি বই বার করে বললেন, ‘এখানে মেয়েদের শরীর নিয়ে অনেক গল্প আছে।
পড়বে? এখানে কেউ তোমাকে বিচার করবে না।’ বেল্লা বইয়ের পাতাগুলো উল্টে দেখল, একটি পঙ্‌ক্তি তার চোখে আটকে গেল,
‘নারী নিজের শরীরের ভয় থেকে যতটা মুক্ত হয়, ততটাই সে পৃথিবীকে ভালোবাসতে শেখে।’
বেল্লা জানত না কেন, কিন্তু সে হাসল। মনে হল বুকের ভার যেন একটু হালকা হল। সেই রাতে মা খাওয়ার সময় বলল, ‘তুই হাসছিস কেন রে?’
বেল্লা কাঁধ ঝাঁকাল, ‘কিছু না মা, একটা গল্প পড়েছিলাম।’ মা আর কিছু জিজ্ঞেস করল না,
কিন্তু সেই হাসিটা অনেকদিন পর ঘরে আলো ফেলল। পরের দিন ক্লাসে সায়ো আবার বলল,
‘তুই শুনেছিস? সেই ম্যাসাজ পার্লারের মালিককে নাকি পুলিশ ধরেছে। ওরা মেয়েদের ভুল পথে নিয়ে যেত।’ বেল্লা কিছু না বলে শুধু বলল, ‘আমার শরীর এখন আমার নিজের। আমি আর কাউকে দেব না।’ সায়ো অবাক হয়ে তাকাল। বেল্লার গলায় একধরনের শান্ত দৃঢ়তা।
স্কুল ছুটির পর সোমদত্তা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বেল্লাকে দেখলেন। মেয়েটি মাঠের একপাশে বসে আছে, চুলে সূর্যের আলো, চোখে শান্তি। তিনি বুঝলেন, মেয়েটি বদলে গিয়েছে। একটি মেয়ে নিজের শরীরের ভয় কাটিয়ে উঠেছে, এ এক বিপ্লব।
এভাবেই বেল্লা ও সোমদত্তার মধ্যে জন্ম নেয় এক গভীর, মানবিক সম্পর্ক, মা-ছেলের নয়, প্রেমিক-প্রেমিকার নয়, একজন মানুষের সঙ্গে আরেকজন মানুষের, যেখানে ভয়কে ভাগ করে নেওয়া যায়, আর লজ্জা ধীরে ধীরে পরিণত হয় বোঝাপড়ায়। 🍁(চলবে)

 

 

🍂কবিতা 

 

রাজেশ চন্দ্র দেবনাথ -এর দু’টি কবিতা

হাড়ের ডিস্কের কলাকৌশল 

১.
সূত্রের কয়েকটি মাত্রা নিয়ে
গড়ে উঠে বিচিত্র দৃশ্যে
মালপোয়া হাওয়ায়
কংক্রিটের সীমানায় জ্বলসে যায়
হাড়ের ডিস্কের কলাকৌশল

২.
সুরের জ্যোৎস্নায় নীল রঙ
জলের আলকাতরায়
কূটনৈতিক মেঝেতে লুটিয়ে পড়ছে
হীরের উৎসব
উৎপাদনে উলুধ্বনির শ্লীলতায়
যোগব্যায়াম পথে পথে
কাটছে ডিমের কেন্দ্রবিন্দু…

 

 

আমিনা তাবাসসুম -এর একটি কবিতা 

জন্ম রহস্য 

জ্যোৎস্নার ভেতর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি তুমি ও আমি

পৃথিবী তখনও সৃষ্টি হয়নি
কেবল একটা গোলকের মধ্যে
জন্ম রহস্য

যেভাবে নদীর বুকে লেগে থাকে চিবুকের দাগ
যেভাবে ফুলের রং সবুজ-সোনালী
আর বইয়ের পাতা গোলাপ হয়ে যায়

কোনও শিলিং তবু দুঃখ ছুঁতে পারেনি

আমরা জোৎস্না খেয়ে বেড়ে ওঠি রোজ
ভালবাসা বড় হয়,
একটা ভ্যালেন্টাইন শুধু কেঁপে কেঁপে
বাতাস হয়ে যায়

 

 

গৌতম মিত্র -এর একটি কবিতা

বিবেক মরে গেছে

বিবেক তুমি জাগো
এত অন্যায় অবিচারেও
বিবেক তুমি ঘুমিয়ে আছো
মনঘোড়া দিগভ্রান্ত ছুটছে
লক্ষ্যহীন এলোমেলো ভাবে
মাঝ সমুদ্রে জাহাজ যেমন উথালি পাথালি খায়
এলোমেলো ঢেউ আছড়ে পড়ছে
তীর জনমানবের অস্তিত্ব বিলুপ্ত
চারিদিক শুধু জল আর জল
ঠিক যেমন চারিদিক শুধু হাহাকার আর আর্তনাদ
উল্লাসকারীদের লম্ফ ঝম্প
অশুভ আনন্দে পিশাচ রা
ধ্বংস লীলায় মাতোয়ারা

 

মোফাক হোসেন -এর একটি কবিতা

তোমার প্রতি প্রার্থনা

শব্দরা কখনও
স্বপ্নের উঠোনে
বসন্তের পাতা বিছিয়ে বসে
নুয়ে পড়া অন্ধকারকে
আলিঙ্গন করে না।
তেমনি জন্ম নেওয়া আলোকে
না-দেখার আকাঙ্ক্ষা
প্রতিটি সময় তাড়া করে।
বুঝি-
স্বপ্নের শরীর জুড়ে
নেমে আসে শিশির,
নবীনের বুকে
চকচক করে উঠে এক মুহূর্ত।
আর সময়ের কাছে প্রার্থনা করে-
সে যেন থমকে দাঁড়ায়,
যাতে শব্দরা ধর্ষিত না হয়,
বাক্যের শরীর থেকে
রক্তক্ষরণে যেন দেহের মৃত্যু না ঘটে।

 

গৌতম মণ্ডল -এর একটি কবিতা

বিদায় সম্বর্দ্ধনা

‘বিদায়’ মানে বিদায় তো নয়
শুধুই সম্বর্দ্ধনা।
এগিয়ে যাবার শিক্ষা পেয়ে
নতুন পথকে জানা।

সেই নতুন পথে এগিয়ে যেতে
হাতছানি দেয় ঐ…
আরও অনেক পথ হাঁটতে হবে
ডাকছে আগামী ওই …

আগামীর ডাকে সবুজ শাখে
কুঁড়ি থেকে ফুল ফোটে
সেই সে ফুল পাপড়ি মেলে
নতুন সূর্য ওঠে ….
ঐ নতুন সূর্য ওঠে ৷

জীবনের পথে এগিয়ে যেতে
ছোটো পথ হয় বড়ো ৷
সেই বড়ো পথ, রাজপথে মিশে
সুখের জীবন গড়ো
সবাই সুখের জীবন গড়ো।

‘বিদায়’ মানে, বিদায় তো নয়
শুধুই সম্বর্দ্ধনা।
এগিয়ে যাবার শিক্ষা পেয়ে
নতুন পথকে জানা।
শুধু, নতুন পথকে জানা।

 

 

চিত্ত রঞ্জন চক্রবর্তী -এর একটি কবিতা

ব্যথার স্মৃতি বুকে নিয়ে বেঁচে থাকা

ক্ষুধা আর পিপাসার মত শত্রু নেই পৃথিবীতে, আমি ভুখা পেটে উপোষ জীবন বসে আছি।

পিপাসায় বুক ফেটে যায়, অন্তহীন ক্ষুধা জ্বালাময়ী আগ্নেয়গিরি জ্বলে পেটে।

সময়ের আবর্ত, কত কিছু ভাবনা চলে যায়–
জলের স্রোতের মতো স্রোত হয়ে।
অশান্ত মনের আগুন পাইনা নিভাতে।

আমি একা বসে আছি অনুক্ষণ জীবনের সব ঋণ নিয়ে।
কেউ কি আছো প্রিয় বান্ধবী অথবা বন্ধু অথবা আপনজন?

কেউ কি আছো, সময়ের কাছে ঋণ থেকে আমাকে বাঁচাতে?
পরাভুখ সময় অনেক কিছু দিয়ে, আবার সব গেছে নিয়ে।

পরে আছে আসা যাওয়া সময়ের মাঝে স্পন্দন টুকু ব্যথার স্মৃতি হয়ে।

 

গোলাম কবির -এর একটি কবিতা

তবুও এখানে বসে 

অন্ধ সময়ের কাঁধে চড়ে নিহত স্বপ্নের
ছেঁড়া পাল সেলাই করে করে
তবুও এখানে এখনও বসে
সবুজ ফসলের মাঠে
কৃষকের সরল হাসিমুখ দেখার সাধ নিয়ে
যুবতী জ্যোৎস্নার রাতে চাষীর উঠানে
নতুন ধানের তৈরি পিঠাপুলির সৌরভ ছড়িয়ে
গ্রাম্য পালাগানের জমাট আসর!

 

 

 

🍁ধারাবাহিক উন্যাস | ২
সাশ্রয় নিউজ -এর রবিবারের সাহিত্য স্পেশাল-এ শুরু হল সাহিত্যিক মমতা রায় চৌধুরী -এর ধারাবাহিক উপন্যাস ‘হারিয়ে যাওয়া নারীর ইতিকথা’। একটি বিশেষ কালকে কেন্দ্র করে নারীদের নিয়ে এই উপন্যাস এগিয়ে যায়। নারীদের লড়াইয়ের কাহিনী পড়তে চোখ রাখুন রবিবারের সাহিত্য স্পেশাল-এ।

হারিয়ে যাওয়া নারীর ইতিকথা


মমতা রায় চৌধুরী

৩.

সুনয়নাদি 

বাপরে কত কাজ পড়ে রয়েছে এদিকে স্কুলে যেতে হবে। বুবুন সোনা আর রাগ করলে কিন্তু হবে না বলেছে না মাসি দিদা এসে তোমার সাথে বিকেলে খেলা করবে। তাহলে চটপট তোমাকে হোমওয়ার্ক গুলো করতে হবে তো তাই না? আজকে তো তোমার স্কুল ছুটি আজকে কী বার বল তো কি হল? উত্তর দিচ্ছ না মাম মাম একটা প্রশ্ন করেছে না।
একটা খেলনা গাড়ি নিয়ে কি খুলছে আবার জোড়া লাগাচ্ছে।
ছেলের এই কাণ্ড দেখে তিথি ছেলেকে কোলে তুলে নিয়ে বলল বল, আজ সাটারডে। হুম এই তো আমার বুবুন লক্ষ্মী সোনা আমার সোনা সব বলতে পারে।
মাম মাম আজকে ওই ভূতের গল্পটা শুনবো।
ভূতের গল্প আমার সোনা ভূতের গল্প শুনবে বেশ মাসি দিদার কাছ থেকে ভুতের গল্প শুনে নিও কিন্তু আমায় প্রমিস কর আমাকে গল্পটা তুমি শোনাবে।
হাতে হাত রেখে বলল, প্রমিস।
ঠিক আছে দুষ্টু করবে না, যাও গে হোমওয়ার্ক করো আর শোনো ঠাম্মামকে কিন্তু বিরক্ত করবে না ঠিক আছে। আমি রেডি হয়ে স্কুলে যাব।
ছেলেকে নামিয়ে রেখে শাশুড়ি মা’র ঘরে গিয়ে বলল, মা, আজকে তো বুবুনের স্কুল ছুটি ওর শরীরটা এবং মনটা দুটোই একটু খারাপ আছে একটু নজর রাখবেন তো।
কেন কি হয়েছে?

সেদিন রাতটা ছিল গভীর আশঙ্কার ভয়ের রাত।
পুলিশকে টাকা খাইয়ে ওরা বিয়ে করল
কিন্তু বিয়ের পর বাড়িতে ঢুকতে গিয়ে আবার বাঁধা। প্রদীপকে ওর মা বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে বলল।
চা খেতে খেতে তিথি বলল তারপর…
তারপর আর কি! প্রদীপ অনেক অনুনয়-বিনয় করল। মায়ের মন তো একটুতেই গলে যায়। চোখের ইশারাতে প্রদীপ সুনয়নাকে প্রণাম করতে বলল, সুনয়না প্রণাম করতে গেলে কোষে এক থাপ্পর বসিয়ে দিল।
সে কি গো মাসি
তবে আর কি বলছি… আমি আগে থেকেই শুনে ওকে বলেছিলাম দেখ যেখান থেকে যাচ্ছিস সঙ্গে আবার একটা তোর মেয়ে আছে, তোকে কিন্তু মেনে নেবে না। তার জন্য অপমানিত হতে পারিস কিন্তু তোকে ধৈর্য ধরে ওখানে ওদের মন জয় করতে হবে। সুনয়নাও ঠিক তাই করল।

তিথি বুঝল এখন যদি বলতে চায় তাহলে ইতিহাস খুলে বসবে তাই আগে থেকে বলল না না এখনো সুইটি আসেনি তো তাই জন্য বললাম। আমি আপনাকে পরে এসে বলব, সেরকম কিছু নয়।
তাই বলো আমাকে তো একদম ভাবিয়ে তোলো…
তিথি আর বেশি কথা বাড়াল না তিথি জানে, শুধু মুখেতেই যত বড় বড় কথা একদিন যদি সুইটি না আসে তাহলে চোখে অন্ধকার দেখেন। শুধু তাই নয় একথাও বলেন ছেলেটার জন্য আজকে স্কুল ছুটি নেওয়া যেত না।
এসব দাঁড়িয়ে ভাবলে চলবে! ঘড়ির কাঁটা সমানে চলে যাচ্ছে ঘড়ির কাঁটা থেমে থাকবে নাকি তিথির জন্য! তারপর মাথার উপর চেপে বসেছে উপন্যাসটা লিখতে হবে না…
সম্পাদক বলেন, সব হবে শুধু চেষ্টা করতে হবে আপনার ভেতরে সেই পার্টসগুলো আছে, নিষ্ক্রিয় করে রেখে দিয়েছেন এবার একটু জাগিয়ে তুলুন।
তাই আমারও সেই জাগিয়ে তোলা। আমি বেছে নিয়েছি আমার বাড়িতে যারা কাজ করে তাদের কাছ থেকেই শুনে নেবে তাদের জীবনের ইতিকথা সেটাই হবে হারিয়ে যাওয়া নারীর ইতিকথা। তবে সেই নারী যে নারী হারিয়ে গিয়েছে।

শীতের দাপট জোরালো হয়েছে হাড় হিম করা শীতে দরিদ্র মানুষের কত কষ্ট কাগজি মাসির জন্য ভীষণ কষ্ট হয়। কাগুজি মাসি জীবনে আর সুখ পেল না প্রান্তিক শ্রেণীর মানুষগুলোর জীবনযাত্রা যেন এরকমই। নুন আনতে পান্তা ফুরায় হয়তোবা ঠাণ্ডা ভাতে একটু নুনের ব্যবস্থাও ঠিক মতো হয় না।। বয়স হয়েছে এই বয়সে কি আর কাজ করে করা খাওয়ার ক্ষমতা আছে। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে তিথি স্কুলের দিকে এগুলো। স্কুলে নানা ব্যস্ততায় খবর নিতেই পারেনি। একদিকে স্কুলের ৭৫ বছর পূর্তি অন্যদিকে সরস্বতী পুজো। যেন সাজো সাজো রব। স্কুল ছুটির টাইম অনেকটা আগেই পেরিয়ে গেছে কাজের জন্য থেকে যেতে হয়েছে এবার দ্রুত পা বাড়াল বাড়ির দিকে। তিথি স্কুল থেকে ফিরে এসে দেখল, বুবুন ঘুমিয়ে আছে। তিথিকে দেখে সুইটি বলল তাহলে আমি আসি বৌদি ।
এই এক মেয়ে যখনই তিথি ঘরে ঢুকবে, ঢুকতে না ঢুকতেই পালিয়ে যাবার ধান্দা কিন্তু কিছু করার নেই ,ও ছাড়া তিথি অচল। স্কুলে যেতে পারবে না কী আর করবে মেনে নিতেই হয়। শুধু বলল, দাঁড়াও আমাকে একটু ফ্রেশ হতে দাও।
আমার একটু তাড়া আছে বৌদি।
ঠিক আছে সুইটি, তাড়া তো সবারই থাকে। একটা দিন আধটা দিন তো একটু ওয়েট করা যেতেই পারে।
সুইটি কোনও কথার উত্তর দিল না। তিথি ব্যাগ পত্র রেখে চলে গেল ওয়াশরুমে ও দু’দিন পরেই ঠাণ্ডা পড়বে অথচ স্কুল থেকে ফিরতে না ফিরতেই ক’দিন ধরেই দেখা যাচ্ছে তিথি কেমন ঘেমে যাচ্ছে। কেমন একটা অস্থির অস্থির ভাব এসি চললেও কেমন যেন একটা গরম অনুভব করে তাহলে কী তিথির প্রেসার হাই হল! এখন তো শীতকাল।
এসব তো ছিল না ওয়াশরুমে গিয়ে জলের কলটা খুলে দিয়ে ভাবতে লাগল তাহলে কী বয়স বাড়ছে এখন কি সত্যিই সমস্ত কিছু চেকআপ করে নেওয়ার দরকার? সেদিন তো এত প্রেসার হয়েছে শেষ পর্যন্ত পবিত্র ভয় পেয়ে নানারকম টেস্ট করানোর জন্য বীক্ষণে অরিন্দমদাকে ফোন করে ব্লাড নিয়ে যাওয়ার কথা বলল। ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে দেখল সুইটি গেট খুলে চলে যাচ্ছে। বলার প্রয়োজনও মনে করল না। এসব আর তিথি ধরে না। জানে, এরা এরকমই। তবে তিথি মনে মনে গল্পের আর একটা প্লট সাজিয়ে ফেলল সুইটিকে নিয়ে। ইতিমধ্যেই দেখা গেল কাগজি মাসি হাগ দিল কই আমাদের বুবন সোনা কই। তিথি চা বানিয়ে আনল এক কাপ শাশুড়ি মা কে দিল এক কাপ কাগজি মাসিকে দিল আর এক কাপ নিজে নিয়ে বসল, তখনও বুবুন ঘুমোচ্ছে।
এই নাও মাসি চা খাও
কি হল তুমি হাঁপাচ্ছো কেন?
হাঁপাব না কি সব যে হচ্ছে গো…
কি হচ্ছে গো?
ওই এস আর না কি!
তাতে তোমার ভয়ের কি আছে? এস আর হওয়া তো ভালই খারাপ কী? তোমার ২০০২ সালের ভোটের লিস্টে নাম আছে তো?
আছে তো আমাদের দুর্বার সমিতিতে তো নাম লেখানো ছিল।
তাহলে আর তোমার চিন্তার কারণ নেই আর তাছাড়া যা হবে হবে এসব ভেবে কি লাভ…
না আমার জন্য ভাবি না বৌমা ভাবি আমার ছেলেটার জন্য।
ও মাসি এইসব নিয়ে ভেবে আর কি হবে দেখবে, কিচ্ছু হবে না তোমার সব তথ্যই তুমি দিতে পারবে। এবার বল সুনয়না সম্পর্কে… আর কিছু কথা বলো না হলে তো আমি উপন্যাসের পর্ব ভরাতে পারছি না।
কি পারছ না?
তিথি ভাবল, একে বোঝানো অত সহজ না। তাই বলল, ওই তো বললাম তার পরে সুনয়নার বিয়ে হল। কিন্তু এত সহজে কি এই গলির মেয়েদের কেউ মেনে নিতে চায় বল…
সে তো ঠিক কথাই।
এক নরক যন্ত্রণার থেকে মুক্তি পেতে সুনয়নাকে যেন একরাশ মুক্তির বাতাস তার প্রাণে ছড়িয়ে দিল এবার সুনয়না প্রস্ফুটিত হবে বর্ষার কদম ফুলের মত শ্রাবণের বারিধারার মতো ঝরে পড়বে সুখের কণা শরতের ভেজা তুলোর মতো ভালবাসায় ঝরে পড়বে ওর চোখে মুখে হেমন্তের বাতাস গায়ে লাগিয়ে দিগন্তর দিকে তাকিয়ে থাকবে প্রেমিক যুগলের মতো। বসন্তের রামধনুর রং চিত্ত জুড়ে থাকবে। কৃষ্ণচূড়া পলাশ ফাগুনে আগুন হয়ে উঠবে তার হৃদয়ে।
ও মাসি বলো…
হ্যাঁ তারপর বিয়ে করে বাড়ি গেল
সেদিন রাতটা ছিল গভীর আশঙ্কার ভয়ের রাত।
পুলিশকে টাকা খাইয়ে ওরা বিয়ে করল
কিন্তু বিয়ের পর বাড়িতে ঢুকতে গিয়ে আবার বাঁধা। প্রদীপকে ওর মা বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে বলল।
চা খেতে খেতে তিথি বলল তারপর…
তারপর আর কি! প্রদীপ অনেক অনুনয়-বিনয় করল। মায়ের মন তো একটুতেই গলে যায়। চোখের ইশারাতে প্রদীপ সুনয়নাকে প্রণাম করতে বলল, সুনয়না প্রণাম করতে গেলে কোষে এক থাপ্পর বসিয়ে দিল।
সে কি গো মাসি
তবে আর কি বলছি… আমি আগে থেকেই শুনে ওকে বলেছিলাম দেখ যেখান থেকে যাচ্ছিস সঙ্গে আবার একটা তোর মেয়ে আছে, তোকে কিন্তু মেনে নেবে না। তার জন্য অপমানিত হতে পারিস কিন্তু তোকে ধৈর্য ধরে ওখানে ওদের মন জয় করতে হবে। সুনয়নাও ঠিক তাই করল।
কি আর করবে ওই রাতে ওদেরকে ঘরে তুলল না।
এ বাবা তাহলে…
তাহলে আর কি আমি যে বাসায় ভাড়া নিয়ে থাকি সেখানে গিয়ে উঠল।
আমার হল আরেক যন্ত্রণা, আমার নিজেরই থাকার জায়গা নেই, তারপর আবার ওরা
ওরা আমাকে আশ্বাস দিল, যে ওরা দ্রুত কিছু ব্যবস্থা করে এখান থেকে বেরিয়ে যাবে। 🍁 (চলবে)

 

 

🍂গল্প 

 

কুসুম মৃদু হেসে তার কথা থামিয়ে দিয়ে বলল, “আমি বুঝতে পেরেছি আপনি কী বলতে চাইছেন স্যার…! কিন্তু যে মানুষটা হাজার হাজার ছাত্রের মাথার ওপর ছায়া হয়ে ছিলেন, তাকে কোনো অচেনা আশ্রমে আমি যেতে দিতে পারি না। আমার বাড়ির ঠিক পাশের ঘরটা গত এক মাস ধরে আপনার জন্যই গুছিয়েছি। সেখানে বড় একটা বারান্দাও আছে, যেখান থেকে পাহাড় দেখা যায়।

 

সংহার


প্রিয়াঙ্কা নস্কর

পাহাড়ি মফসসল শহরের ছোট স্টেশনটার নামফলক তখন গোধূলির আলোয় ম্লান হয়ে আসছে। দীর্ঘ কুড়ি বছরের শিক্ষকতা জীবন শেষে আজই শেষবারের মতো স্কুলের চাবিটা কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিয়ে এসেছেন অবিনাশ বাবু। তার সুটকেসটা পাশে রাখা, তাতে সাজানো আছে অল্প কিছু জামাকাপড় আর একরাশ জমানো স্মৃতি। এই শহর, এই পরিচিত মুখগুলো, সবাইকে পেছনে ফেলে আজ রাতের ট্রেনেই তাকে চলে যেতে হবে এক অচেনা শহরের বৃদ্ধাশ্রমে। নিজের শেষ সম্বল বাড়িটা তিনি দান করে দিয়েছেন স্থানীয় অনাথ আশ্রমকে। তার নিজের বলতে তো কেউ নেই। স্ত্রী গত হয়েছেন প্রায় এক দশক আগে, নিঃসন্তান সংসারে একাকীত্বই ছিল তার একমাত্র নীরব সঙ্গী।

কুসুম তার সুটকেসটা নিজের হাতে তুলে নিল। স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম দিয়ে কুসুমের পাশাপাশি হাঁটতে হাঁটতে তিনি অনুভব করলেন, তার দীর্ঘদিনের একাকীত্বের ভারটা নিমিষেই কর্পূরের মতো উবে গিয়েছে। পেছনে পড়ে রইল শূন্য স্টেশন আর চলে যাওয়া ট্রেনের শব্দ।
তিনি বুঝতে পারলেন, জীবন সত্যিই এক অদ্ভুত জাদুকর। এতদিন তিনি জানতেন উপসংহার মানেই গল্পের শেষ পাতা, সমাপ্তি…

স্টেশনের বেঞ্চে বসে অবিনাশ বাবু বিষণ্ণ মনে ভাবছিলেন, এটাই কি তবে জীবনের ইতি? নিঃসঙ্গতাই কী তার গল্পের শেষ পরিচ্ছেদ? তার মনে হচ্ছিল, জীবনের বইটিতে আজ বোধহয় ‘উপসংহার’ শব্দটা বড় অক্ষরে লেখা হয়ে গেল।
ঠিক সেই সময় এক তরুণী এসে তার সামনে দাঁড়াল। হাতে একটা ছোট চারাগাছ আর একটি খাম। অবিনাশ বাবু চিনতে পারলেন, এ তো সেই ছোট্ট কুসুম! দশ বছর আগে অনাথ আশ্রম থেকে যে মেয়েটি তার কাছে টিউশনি পড়তে আসত। আজ সে বড় হয়েছে, ডাক্তার হয়েছে।
কুসুম চারাগাছ আর খামটি এগিয়ে দিয়ে হাসিমুখে বলল, “স্যার, শুনলাম আপনি নাকি আমাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছেন? এই নিন আপনার বিদায়বেলার উপহার।”
অবিনাশ বাবু কাঁপাকাঁপা হাতে সেটি ধরে খামটা খুললেন, দেখলেন ভেতরে বৃদ্ধাশ্রমের কোনো উল্লেখ নেই। তার বদলে আছে কুসুমের নিজের গড়া একটি ছোট বিদ্যালয়ের ‘প্রধান পরামর্শদাতা’ হিসেবে তার নিয়োগপত্র। খামের নিচে ছোটো হস্তাক্ষরে লেখা— “আপনার জ্ঞান আর ভালোবাসা ছাড়া আমাদের এই নতুন পথচলা অসম্পূর্ণ। আপনি না থাকলে আমরা শুরু করব কীভাবে?”
অবিনাশ বাবু কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে রইলেন, স্টেশনের দূরে কুয়াশার বুক চিরে ট্রেনের জোরালো আলো দেখা যাচ্ছে। অবাকভাবের রেশ কাটিয়ে কুসুমকে টিকিট আর বাড়িটার কথা বলতে চাইলেন, কিন্তু তৎক্ষণাৎ কুসুম তার হাতটা আলতো করে চেপে ধরল এবং স্নিগ্ধ গলায় বলল, “স্যার, ট্রেনের চিন্তা বাদ দিন না… ট্রেনটা তার নিজের গন্তব্যের পথে চলে যাবে। আপনার গন্তব্য এখন অন্য দিকে।”
অবিনাশ বাবু আমতা আমতা করে বললেন, “কিন্তু কুসুম, আমি তো সব গুছিয়ে নিয়ে চলে এসেছি। আর‌ বৃদ্ধাশ্রমের সেই ঘরটা…”
কুসুম মৃদু হেসে তার কথা থামিয়ে দিয়ে বলল, “আমি বুঝতে পেরেছি আপনি কী বলতে চাইছেন স্যার…! কিন্তু যে মানুষটা হাজার হাজার ছাত্রের মাথার ওপর ছায়া হয়ে ছিলেন, তাকে কোনো অচেনা আশ্রমে আমি যেতে দিতে পারি না। আমার বাড়ির ঠিক পাশের ঘরটা গত এক মাস ধরে আপনার জন্যই গুছিয়েছি। সেখানে বড় একটা বারান্দাও আছে, যেখান থেকে পাহাড় দেখা যায়। সেখানে অনেক গাছও বসিয়েছি আর এই নতুন চারাটা কিন্তু আপনি নিজেই লাগাবেন, এটা আমি ঠিক করে রেখেছি। আর আপনার সেই প্রিয় বইগুলোর জন্য ওই‌ বারান্দার পাশেই একটা ছোট্ট লাইব্রেরিও বানিয়েছি। আপনি সেখানে বসে প্রকৃতির সান্নিধ্য অনুভব করতে করতে নিজের প্রিয় ব‌ইগুলো পড়বেন।”
অবিনাশ বাবু নিজের অবাকভাব কাটিয়ে কিছু বলতেই যাবেন তার আগেই কুসুম বলে উঠল… “আমি আজ আপনার ছাত্রী হিসেবে নয়, আপনার মেয়ে হিসেবে অধিকার নিয়ে আপনাকে নিতে এসেছি। চলুন স্যার।”
ব্যাস অবিনাশ বাবু আর কিছু বলতে পারলেন‌ না তার চোখের কোণে জল চিকচিক করে উঠল। কুসুম তার সুটকেসটা নিজের হাতে তুলে নিল। স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম দিয়ে কুসুমের পাশাপাশি হাঁটতে হাঁটতে তিনি অনুভব করলেন, তার দীর্ঘদিনের একাকীত্বের ভারটা নিমিষেই কর্পূরের মতো উবে গিয়েছে। পেছনে পড়ে রইল শূন্য স্টেশন আর চলে যাওয়া ট্রেনের শব্দ।
তিনি বুঝতে পারলেন, জীবন সত্যিই এক অদ্ভুত জাদুকর। এতদিন তিনি জানতেন উপসংহার মানেই গল্পের শেষ পাতা, সমাপ্তি…যেখানে গল্পের সব চরিত্র বিদায় নেয়। কিন্তু আজ কুসুমের হাত ধরে এক নতুন জীবনের দিকে হাঁটতে হাঁটতে তিনি উপলব্ধি করলেন সব উপসংহার মানেই সমাপ্তি নয়, কিছু কিছু উপসংহার মানুষকে নতুন সূচনার পথেও এগিয়ে নিয়ে যায়।🍁

 

 

সম্পাদক : দেবব্রত সরকার | কার্যনির্বাহী সম্পাদক : সানি সরকার | অঙ্কন : প্রীতি দেব ও আন্তর্জালিক

 

এক নজরে 👉 সাশ্রয় নিউজ-এ আপনিও পাঠাতে পারেন স্থানীয় সংবাদ। এছাড়াও রবিবারের সাহিত্য স্পেশাল-এর জন্য উপন্যাস, কবিতা (একধিক কবিতা পাঠালে ভালো হয়। সঙ্গে একটি লেখক পরিচিতি। গল্প, প্রবন্ধ, গদ্য, পুস্তক আলোচনা (আলোচনার জন্য দুই কপি বই পাঠাতে হবে), ভ্রমণ কাহিনী। লেখার সঙ্গে সম্পূর্ণ ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর থাকতে হবে। অবশ্যই কোনও প্রিন্ট বা ডিজিটাল মাধ্যমে এমনকী  সোশ্যাল মিডিয়াতে বা পোর্টালে পূর্ব প্রকাশিত লেখা পাঠাবেন না। ই-মেল করে লেখা পাঠান। ই-মেল আই ডি : editor.sasrayanews@gmail.com

বি: দ্র: সমস্ত লেখা লেখকের নিজস্ব। দায় লেখকের নিজস্ব। কোনও বিতর্কিত বিষয় হলে সংবাদ সংস্থা কোনওভাবেই দায়ী থাকবে না এবং সমর্থন করে না। কোনও আইনি জটিলতায় সাশ্রয় নিউজ চ্যানেল থাকে না। লেখক লেখিকা প্রত্যেকেই লেখার প্রতি দ্বায়িত্ববান হয়ে উঠুন। লেখা নির্বাচনে (মনোনয়ন ও অমনোনয়ন) সম্পাদকমণ্ডলীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

সম্পাদকীয় ঋণ : মহামিলনের কথা’ বিভাগের লেখা ও স্বামী বিবেকানন্দ-এর চিঠি আন্তর্জাল থেকে সংকলিত।

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন