Election Commission India | ভোটার তালিকা বিতর্কে রাজ্যের উপর চাপ বাড়াল নির্বাচন কমিশন, ‘চার আধিকারিকের জবাব চাইতেই হবে’ : কড়া চিঠি মুখ্যসচিবকে

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: ভোটার তালিকা সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ফের অসন্তোষ প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। চারজন নির্বাচনী আধিকারিকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের গৃহীত প্রক্রিয়াকে অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করছে কমিশন। মুখ্যসচিবকে পাঠানো কড়া চিঠিতে পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কমিশনের নির্দিষ্ট নির্দেশ মেনেই শাস্তি দিতে হবে অভিযুক্ত ইআরও (ERO) ও এইআরও-দের (AERO)। একই সঙ্গে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, বারবার এফআইআর করার নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও কেন রাজ্য সরকার সেই নির্দেশ কার্যকর করেনি।নির্বাচন কমিশনের তরফে এই চিঠি প্রথম পাঠানো হয়েছিল গত বছরের আগস্ট মাসে। অভিযোগ ছিল, বেআইনিভাবে ভোটার তালিকায় নাম তোলার ঘটনায় পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না (Moyna) এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্ব (Baruipur East) এলাকার সংশ্লিষ্ট ইআরও ও এইআরওদের ভূমিকা। সেই সময় কমিশনের তরফে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, শুধু প্রশাসনিক ব্যবস্থা নয়, প্রয়োজনে ফৌজদারি পদক্ষেপ অর্থাৎ এফআইআরও করতে হবে। কিন্তু রাজ্যের তরফে তখন যে পদক্ষেপ করা হয়, তা কমিশনের মতে যথেষ্ট নয়।

আরও পড়ুন : Elon Musk Ryanair Poll | স্টারলিংক বিতর্কে নতুন মোড়, সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘রায়ানএয়ার কিনে নেওয়া উচিত কি না’ : ভোটাভুটি খুলে দিলেন ইলন মাস্ক

ওই সময় রাজ্যের মুখ্যসচিব ছিলেন মনোজ পন্থ (Manoj Pant)। কমিশনের চিঠির পর তিনি দিল্লিতে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকও করেন। তবে বৈঠকের পর রাজ্য সরকার যে সিদ্ধান্ত নেয়, তাতে অভিযুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কেবল সাময়িক বরখাস্ত বা সাসপেনশনের পথেই হাঁটা হয়। এফআইআর দায়ের করা হয়নি। এখানেই মূলত অসন্তুষ্ট নির্বাচন কমিশন। কমিশনের দাবি, ভোটার তালিকা গণতন্ত্রের মেরুদণ্ড। সেখানে ইচ্ছাকৃত বা বেআইনি হস্তক্ষেপ কোনওভাবেই হালকা অপরাধ হিসেবে দেখা যায় না। সেই কারণেই কমিশনের নির্দেশ ছিল, প্রয়োজন অনুযায়ী ফৌজদারি মামলা রুজু করতে হবে। কিন্তু রাজ্যের তরফে সেই নির্দেশ কার্যকর না হওয়ায় ফের নতুন করে চিঠি পাঠিয়ে বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিল কমিশন।

চলতি বছরের শুরুতেই নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে দেয়, জেলা নির্বাচন আধিকারিকরা (DEO) প্রয়োজনে এফআইআর করার ক্ষমতা রাখেন। এরপর নবান্ন থেকে একটি চিঠি পাঠিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়, ‘লঘু পাপে গুরুদণ্ড কেন?’ রাজ্যের যুক্তি ছিল, কী এমন গুরুতর অপরাধ হয়েছে যার জন্য এফআইআর করা আবশ্যক। এই যুক্তিরই পাল্টা জবাবে নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দেয়, শাস্তির মাত্রা ঠিক করার অধিকার রাজ্য সরকারের নয়, কমিশনের। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। এই প্রেক্ষিতেই কমিশনের সাম্প্রতিক চিঠিতে আরও একবার রাজ্য সরকারকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, দ্রুততার সঙ্গে চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ করতে হবে এবং কেন আগের নির্দেশ মানা হয়নি, তার ব্যাখ্যাও লিখিত ভাবে জানাতে হবে। কমিশনের মতে, নির্দেশ অমান্য করা শুধু প্রশাসনিক গাফিলতি নয়, বরং নির্বাচন ব্যবস্থার উপর সরাসরি আঘাত।

উল্লেখ্য, যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাঁরা হলেন তথাগত মণ্ডল (Tathagata Mondal), দেবোত্তম দত্তচৌধুরী (Debottam Dutta Chowdhury), বিপ্লব সরকার (Biplab Sarkar) এবং সুদীপ্ত দাস (Sudipta Das)। বেআইনি ভাবে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির অভিযোগে নির্বাচন কমিশন তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছিল। যদিও রাজ্যের তরফে তাঁদের সাসপেন্ড করা হয়, কিন্তু ফৌজদারি মামলা দায়েরের বিষয়টি কার্যকর হয়নি। সেই কারণেই কমিশন আবারও মুখ্যসচিবকে চিঠি পাঠিয়ে চাপ বাড়াল। এই বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar) বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনকে নাক-দন্তহীন প্রতিষ্ঠান ভাবলে চলবে না। যদি মুখ্যসচিব কমিশনের নির্দেশ না মানেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধেও কী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।’ তাঁর মতে, কমিশনের কর্তৃত্ব বজায় রাখতে হলে কড়া পদক্ষেপ জরুরি।

রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার (Joyprakash Majumdar) আরও কটাক্ষ করে বলেন, ‘যাঁরা মানুষের ভোটের অধিকার রক্ষা করতে পারেন না, বরং কেড়ে নেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। অথচ রাজ্য সরকার বিষয়টিকে হালকা করে দেখছে।’ তাঁর অভিযোগ, ভোটার তালিকা নিয়ে কারচুপি গণতন্ত্রকে দুর্বল করে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য সরকারের মধ্যে এই টানাপড়েন নতুন নয়, তবে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয় হওয়ায় এর গুরুত্ব অনেক বেশি। কমিশনের কড়া অবস্থান স্পষ্ট করে দিচ্ছে, আগামী দিনে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও অনিয়মই হালকা ভাবে নেওয়া হবে না। এখন দেখার, রাজ্য সরকার এই চিঠির পর কী পদক্ষেপ করে এবং চার অভিযুক্ত আধিকারিকের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত এফআইআর দায়ের হয় কি না।

ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : Mamata Banerjee Election Commission letter | ‘এসআইআরে রাজ্যভেদে দ্বিচারিতা!’ ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ফের চিঠি মমতার

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন