সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ পাটনা : বিহারে নর্তকীকে তুলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুর্ণিয়া জেলায় শনিবার রাতে ঘটে যাওয়া এই নৃশংস ঘটনায় এক অভিযুক্তের মোবাইল ফোন থেকেই পুলিশকে ফোন করে নিজের প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেন নির্যাতিতা। পুলিশের দ্রুত তৎপরতায় একটি পরিত্যক্ত গুদাম থেকে গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে তিনি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা সঙ্কটজনক বলে জানিয়েছে চিকিৎসক মহল। ঘটনাটি শুধু নৃশংস অপরাধ নয়, বরং সমাজের নিরাপত্তা ও নারী সুরক্ষা নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাত আনুমানিক ৯টা নাগাদ ওই নর্তকীকে দু’জন যুবক অপহরণ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁকে জোর করে একটি গাড়িতে তুলে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি পরিত্যক্ত গুদামে আগে থেকেই আরও চার জন অপেক্ষা করছিলেন। নির্যাতিতার বয়ান অনুযায়ী, গুদামে নিয়ে যাওয়ার পর তাঁকে জোর করে মদ্যপান করানো হয়। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তাঁকে নাচতে বাধ্য করা হয় এবং তার পর একের পর এক ছ’জন মিলে তাঁকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ। নির্যাতিতার দাবি, এই সময় তাঁকে মারধরও করা হয়।
এই ভয়াবহ নির্যাতনের পর অভিযুক্তরা পরিস্থিতি সামাল না দিয়ে গুদামেই তাঁকে আটকে রেখে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ। তবে ছ’জনের মধ্যে এক জন এতটাই মত্ত ছিলেন যে, তিনি সেখানেই ঘুমিয়ে পড়েন। এই সুযোগেই নিজের জীবন বাঁচানোর শেষ চেষ্টা করেন নির্যাতিতা। তাঁর দাবি, ঘুমিয়ে পড়া অভিযুক্তের মোবাইল ফোন নিয়ে তিনি ১১২ নম্বরে ফোন করেন এবং কাঁপা গলায় পুরো ঘটনা জানান। সঙ্গে গুদামের আনুমানিক ঠিকানাও দেন। পুলিশের এক আধিকারিক জানান, ‘ফোনে একজন নারীর অস্পষ্ট কিন্তু আতঙ্কিত কণ্ঠ শুনে আমরা দ্রুত দল পাঠাই।’ পুলিশ সূত্রে খবর, রাত সওয়া ১২টা নাগাদ পুলিশের একটি দল গুদামের কাছে পৌঁছয়। বাইরে থেকে তালাবদ্ধ দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে গুরুতর আহত অবস্থায় নর্তকীকে উদ্ধার করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। গুদাম থেকেই ঘুমন্ত অবস্থায় এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃত যুবক স্থানীয় বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে গণধর্ষণ, অপহরণ ও মারধরের মতো একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
পুর্ণিয়ার পুলিশ সুপার সুইটি শেরাওয়াত (Sweety Sahrawat) জানান, ‘এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নির্যাতিতার বয়ান অনুযায়ী আরও কয়েক জনের খোঁজ চলছে। যে গাড়িতে অপহরণ করা হয়েছিল, সেটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ধৃতকে জেরা করে আমরা মানবপাচার চক্রের সম্ভাব্য যোগসূত্রের হদিস পেয়েছি। সেই দিকটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ পুলিশের বক্তব্য, এই ঘটনায় শুধু ব্যক্তিগত অপরাধ নয়, সংগঠিত অপরাধচক্র জড়িত থাকতে পারে। নির্যাতিতার সামাজিক অবস্থানও এই ঘটনাকে আরও করুণ করে তুলেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর স্বামী প্রায় এক বছর আগে পথদুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন। তিনি একাই থাকতেন এবং জীবিকার তাগিদে নাচের কাজ করতেন। তদন্তকারীদের মতে, এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েই অপরাধীরা তাঁকে টার্গেট করে থাকতে পারে। একজন পুলিশ আধিকারিকের কথায়, ‘নির্যাতিতা একা থাকতেন, সেটাই হয়তো অপরাধীদের সাহস জুগিয়েছে।’ অন্যদিকে, ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। নারী অধিকার সংগঠনগুলি দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছে। তাঁদের বক্তব্য, ‘একজন নারী নিজের জীবন বাঁচাতে অভিযুক্তের ফোন নিয়ে পুলিশকে ডাকতে বাধ্য হচ্ছেন, এটাই সমাজের ব্যর্থতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।’ একই সঙ্গে গুদাম ও পরিত্যক্ত স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবিও উঠেছে।
আইনজ্ঞদের মতে, এই ঘটনায় ভারতীয় দণ্ডবিধি এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষ আইনের একাধিক কঠোর ধারা প্রযোজ্য হবে। নির্যাতিতা সুস্থ হলে তাঁর বিস্তারিত বয়ান আদালতে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হবে। একজন আইনজীবীর মন্তব্য, ‘এই ধরনের মামলায় দ্রুত চার্জশিট ও সাক্ষ্য সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। তবেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব।’
তবে বিহারের পুর্ণিয়ায় গণধর্ষণের ঘটনা সমাজের অন্ধকার দিকটি ফের সামনে এনেছে। এক অভিযুক্তের ফোন থেকেই পুলিশের কাছে সাহায্যের আবেদন পৌঁছনো যেন এক ভয়ংকর বাস্তবতার নিদর্শন। পুলিশ জানিয়েছে, বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে এবং নির্যাতিতাকে সব রকম চিকিৎসা ও আইনি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষের একটাই প্রত্যাশা, এই নৃশংসতার দোষীরা দ্রুত ধরা পড়ুক এবং কঠোর শাস্তি পাক, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : Haryana gang rape, moving vehicle rape | চলন্ত গাড়িতে গণধর্ষণ হরিয়ানায়, গুরুগ্রাম-ফরিদাবাদ রোডে নারকীয় ঘটনা




