সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলতে থাকা টানাপোড়েন ও একের পর এক দলত্যাগের প্রেক্ষাপটে ফের সরব হলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ‘বিদ্রোহী’ শিবির থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) -এর বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযোগ ওঠার মাঝেই ফেসবুক লাইভে এসে সরাসরি তাঁর পাশে দাঁড়ালেন তিনি। দলত্যাগীদের নিশানা করে মমতার বক্তব্য, ‘অভিষেককে খারাপ বলাটা এখন বাহানা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ তাঁর কথায়, কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও অভিষেক ‘বাঘের মতো’ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
বুধবারের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে, কারণ ওই দিনই দীর্ঘদিনের সহকর্মী মদন মিত্র (Madan Mitra) শিবির বদল করেন। নতুন রাজনৈতিক অবস্থানে গিয়েই তিনি অভিষেকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একই ধরনের অভিযোগ আগে তুলেছিলেন অনুব্রত মণ্ডলও (Anubrata Mondal)। তাঁদের দাবি, দলের বর্তমান সমস্যার নেপথ্যে রয়েছেন অভিষেক। এই ধারাবাহিক আক্রমণের জবাব দিতেই সরাসরি ময়দানে নামেন মমতা। ফেসবুক লাইভে তিনি বলেন, ‘আপনারা বলছেন অভিষেক খারাপ, কিন্তু সেটা এখন অজুহাত হয়ে গিয়েছে। যদি একটু সেটিং করত, অনেক কিছু সহজ হয়ে যেত। কিন্তু সে লড়াইয়ের পথ বেছে নিয়েছে।’ তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে অভিষেকের ব্যক্তিগত সংগ্রামের কথাও। তিনি উল্লেখ করেন, ‘একটা দেড় বছরের শিশুকে নিয়ে তাঁর স্ত্রী যদি সিবিআই অফিসে যেতে পারেন, তাহলে বোঝা যায় কী পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে পরিবারটা।’
দলত্যাগীদের উদ্দেশ্যে মমতার কটাক্ষ ছিল আরও তীব্র। তিনি বলেন, ‘আপনারা নিজেরা সিদ্ধান্ত নিয়ে যাচ্ছেন, আর দায় চাপাচ্ছেন অন্যের ঘাড়ে। এটা শুধু অজুহাত।’ তাঁর মতে, যাঁরা এখন দল ছাড়ছেন, তাঁরা পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করার বদলে সহজ পথ বেছে নিচ্ছেন। এ দিন মমতা অভিযোগ করেন, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল কর্মীদের উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, ‘অনেককে বলা হচ্ছে, হয় নির্দিষ্ট জায়গায় নাম লেখান, না হলে জেলে যেতে হবে।’ এর ফলে নিচুতলার কর্মীরা এলাকায় কাজ করতে পারছেন না বলেও দাবি করেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে কালীঘাটের (Kalighat) নিজের অফিসকে আশ্রয়স্থল হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, ‘যারা সমস্যায় পড়ছে, তাদের জন্য আমার দরজা সবসময় খোলা।’
দলত্যাগের ধাক্কা সামলাতে গিয়ে মমতা কর্মীদের মনোবল বাড়ানোর চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, ‘যারা এখনও আমার সঙ্গে আছে, তারাই আসল শক্তি। তারাই আগামী দিনে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’ নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, ‘আমি তিনটি প্রজন্ম তৈরি করেছি। যারা এখন রয়েছে, তারা আগামী ৫০ বছর রাজনীতিতে থাকবে।’ মদন মিত্রের দলত্যাগ প্রসঙ্গেও সরাসরি ইঙ্গিত দেন মমতা। নাম না করেই তিনি বলেন, ‘আজ একজন চলে গিয়েছে। আমার কোনও দুঃখ নেই। আগের দিনই আমাকে জানিয়েছিল তার পরিবারের উপর তদন্তের চাপ এসেছে। তখনই আমরা বুঝে গিয়েছিলাম কী হতে চলেছে।’ তাঁর দাবি, এই ধরনের চাপের কারণেই অনেকেই দল ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন।
নিজের রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন, ‘আমি ২০০৪ সালে একা থেকে নতুন করে শুরু করেছি। ২০২৬ সালেও সেই ক্ষমতা আমার আছে।’ বয়স নিয়ে কটাক্ষের জবাব দিতেও পিছপা হননি তিনি। তাঁর বক্তব্য, ‘বয়স দিয়ে কাউকে বিচার করবেন না। আজ যারা বলছে, তাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ কতটা সুরক্ষিত, সেটাও ভাবা উচিত।’
উল্লেখ্য, এদিন বিজেপি-এর (BJP) বিরুদ্ধেও সরব হন তৃণমূল নেত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, ভোটের ফলপ্রকাশের দিন তাঁর বিরুদ্ধে কুরুচিকর মন্তব্য করা হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘বিজেপি শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি আছি। মানুষের ভালবাসাই আমার শক্তি।’ পাশাপাশি দলত্যাগীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, ‘যারা চলে গিয়েছেন, তারাও চাইলে ফিরে আসতে পারেন।’ রাজনৈতিক অস্থিরতার এই সময়ে মমতার বার্তা স্পষ্ট, দলীয় ভাঙনের মধ্যেও নেতৃত্বে কোনও দুর্বলতা নেই। বরং তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত তৃণমূল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে রেখে আগামী দিনের রণকৌশল সাজানোর ইঙ্গিতও মিলেছে তাঁর বক্তব্যে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Sonam Wangchuk hunger strike update, Mamata Banerjee call news | যন্তরমন্তরে অনশনরত সোনম ওয়াংচুককে ফোন মমতার, ১৭ দিনে বাড়ছে উদ্বেগ, রাজনৈতিক মহলে নতুন সাড়া



