Bhupender Yadav, Delhi Metro expansion | দিল্লির দূষণ রুখতে কড়া রূপরেখা: দীর্ঘমেয়াদের ও সমন্বিত পরিকল্পনায় জোর কেন্দ্র-রাজ্যের, ২০২৬ থেকেই শুরু কঠোর নজরদারি

SHARE:

বিনীত শর্মা, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : দিল্লি ও জাতীয় রাজধানী অঞ্চলের (এনসিআর) ক্রমবর্ধমান বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে এবার দীর্ঘমেয়াদি, সমন্বিত ও বৈজ্ঞানিক পদক্ষেপের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করল কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার। সম্প্রতি দিল্লির বায়ুদূষণ মোকাবিলার কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনা করতে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেন কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব (Bhupender Yadav) এবং দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে যানবাহন, শিল্প ও ধূলিদূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণকে দূষণ কমানোর মূল চাবিকাঠি হিসেবে তুলে ধরা হয়। বৈঠকে ভূপেন্দ্র যাদব বলেন, ‘দিল্লি ও এনসিআরের বায়ুদূষণ কোনও একক শহরের সমস্যা নয়, এটি একটি আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা, তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত এবং সকল অংশীজনের দায়িত্বশীল ভূমিকা অপরিহার্য।’ তাঁর কথায়, শুধুমাত্র জরুরি পরিস্থিতিতে অস্থায়ী পদক্ষেপ নয়, পরিবহণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, শিল্প নিয়ন্ত্রণ ও জনসচেতনতার ক্ষেত্রে ধারাবাহিক সংস্কারই স্থায়ীভাবে দূষণ কমাতে পারে।

আরও পড়ুন : Mukhyamantri Mahila Udyamita Abhiyan, Himanta Biswa Sarma | বজালীতে নারীর ক্ষমতায়নের নতুন অধ্যায়, ২৮ হাজারের বেশি উপভোক্তাকে চেক প্রদান শুরু করলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা

বৈঠকে দিল্লির গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার রূপরেখা তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে দিল্লি মেট্রো সম্প্রসারণ ও শহরের বাস পরিষেবা বৃদ্ধির উপর জোর দেওয়া হয়েছে। দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন (Delhi Metro Rail Corporation) আগামী কয়েক বছরে মেট্রো নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের বিস্তারিত পরিকল্পনা উপস্থাপন করে। পাশাপাশি দিল্লি পরিবহণ দপ্তর জানায়, নির্ধারিত ১৪ হাজার বাস অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনার মধ্যে ইতিমধ্যেই সিইএসএল (CESL) -এর মাধ্যমে মোট ৩,৩৫০টি বৈদ্যুতিক বাসের অর্ডার দেওয়া হয়েছে। এই ই-বাসগুলি দিল্লি মেট্রোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে চলবে, যাতে আবাসিক এলাকা, বাণিজ্যিক অঞ্চল ও জনবহুল এলাকায় গণপরিবহণের সহজলভ্যতা বাড়ে। কেন্দ্রের দাবি, এই পদক্ষেপের ফলে ব্যক্তিগত গাড়ির উপর নির্ভরতা কমবে এবং শহরে যানবাহনজনিত নির্গমন উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। পাশাপাশি ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ১০টি বড় মেট্রো স্টেশনে ই-অটো, বাইক ট্যাক্সি ও ফিডার ক্যাবের পরীক্ষামূলক সংযুক্তিকরণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে, যা ‘লাস্ট মাইল কানেক্টিভিটি’ উন্নত করবে।বৈঠকে দিল্লির পুরনো বর্জ্য পাহাড় বা লিগ্যাসি ওয়েস্ট সমস্যার অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়। ওখলা (Okhla) বর্জ্যস্থলের জন্য জুলাই ২০২৬, ভলস্বা (Bhalswa) অক্টোবর ২০২৬ এবং গাজিপুর (Ghazipur) ডিসেম্বর ২০২৭ -এর সময়সীমা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রতি ৫×৫ কিলোমিটার গ্রিড অনুযায়ী বর্জ্য সংগ্রহ কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে এবং অ্যাপ-ভিত্তিক বর্জ্য সংগ্রহ পরিষেবার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে। এছাড়া প্রতিদিন ৪,৬০০ মেট্রিক টন নতুন পৌর বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের পরিকাঠামো ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে। নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য থেকে শক্তি উৎপাদনকারী প্ল্যান্টও ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

শিল্প দূষণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও কড়া বার্তা দিয়েছে কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ সিপিসিবি (Central Pollution Control Board) নির্গমন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা স্থাপন না করায় ৮৮টি শিল্প সংস্থাকে নোটিস জারি করেছে। জানানো হয়েছে, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে এই শিল্পগুলির বিরুদ্ধে বন্ধের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এদিকে বায়ুদূষণের উৎস চিহ্নিত করতে বৈজ্ঞানিক গবেষণার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। বায়ু মান ব্যবস্থাপনা কমিশন সিএকিউএম (Commission for Air Quality Management) জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে টেরি (TERI), আইআইটি দিল্লি (IIT Delhi), আইআইটিএম পুনে (IITM Pune) এবং আরএআরআই (ARAI) -এর সহযোগিতায় একটি সমীক্ষা শুরু হয়েছে। এই গবেষণার মাধ্যমে দিল্লি-এনসিআরে দূষণের প্রকৃত উৎসগুলি চিহ্নিত করে লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বৈঠকে আরও জানানো হয়, কোভিড লকডাউন বাদ দিলে ২০১৮ সালের পর ২০২৫ সালেই দিল্লিতে সর্বোত্তম এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) রেকর্ড করা হয়েছে। এটি সাম্প্রতিক বছরগুলিতে গৃহীত নীতিগত পদক্ষেপগুলির ইতিবাচক প্রভাবের ইঙ্গিত দেয়। তবে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন, এই উন্নতি ধরে রাখতে ও আরও এগিয়ে যেতে জনসচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। তাই একটি গভীর ও বিস্তৃত তথ্য-শিক্ষা-যোগাযোগ (IEC) প্রচার অভিযান চালানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে।বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ মন্ত্রকের সচিব, সিএকিউএম-এর চেয়ারম্যান, পরিবেশ মন্ত্রক ও দিল্লি সরকারের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা। এছাড়া সিপিসিবি, দিল্লি দূষণ নিয়ন্ত্রণ কমিটি (Delhi Pollution Control Committee), এনডিএমসি (NDMC), দিল্লি মেট্রো, দিল্লি পুলিশ ও পূর্ত দপ্তরের প্রতিনিধিরাও বৈঠকে অংশ নেন। সকলের সম্মিলিত মত, এনসিআরের প্রতিটি রাজ্য সরকার যদি লক্ষ্যভিত্তিক ও সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে, তবে চলতি বছরের শেষের মধ্যেই বায়ুর মানে ১৫–২০ শতাংশ উন্নতি সম্ভব।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Malda Modi rally | নতুন বছরের শুরুতেই বঙ্গমুখী প্রধানমন্ত্রী, জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে জোড়া জনসভা ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা

Sasraya News
Author: Sasraya News