Gangasagar Holy Dip Security | গঙ্গাসাগর পুণ্যস্নান ২০২৬: অগ্নিকাণ্ডের পর কড়া নিরাপত্তা, প্রশাসনের বাড়তি সতর্কতা

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : আগামী বুধবার পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে গঙ্গাসাগর (Gangasagar) -এ পুণ্যস্নানের তিথি। সেই দিনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই সাগরদ্বীপে (Sagar Island) তীর্থযাত্রীদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। রবিবার ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত, পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal), বিহার (Bihar), উত্তরপ্রদেশ (Uttar Pradesh), ঝাড়খণ্ড (Jharkhand) ও ওড়িশা (Odisha) থেকে পুণ্যার্থীরা দলে দলে সাগরদ্বীপে পৌঁছচ্ছেন। প্রশাসনের অনুমান, এ বছর কুম্ভস্নান না থাকায় গঙ্গাসাগরে পুণ্যার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়তে পারে। সেই প্রেক্ষিতেই শুক্রবার গভীর রাতে মেলাপ্রাঙ্গণে পুলিশের অস্থায়ী শিবিরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে আরও কড়া অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। প্রশাসন সূত্রে খবর, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর থেকেই মেলা এলাকাজুড়ে ‘জিরো রিস্ক’ নীতিতে কাজ চলছে। মেলাচত্বরের প্রতিটি বৈদ্যুতিক তার, সংযোগ ও অস্থায়ী লাইন নতুন করে খতিয়ে দেখা হয়েছে। কোথাও পুরনো বা ঝুঁকিপূর্ণ তার থাকলে তা সঙ্গে সঙ্গে বদলে ফেলা হয়েছে। এক আধিকারিকের কথায়, ‘ভিড়ের মধ্যে সামান্য ত্রুটিও বড় বিপদের কারণ হতে পারে, তাই কোনও ঝুঁকি নেওয়া হচ্ছে না।’ অস্থায়ী তাঁবু, হোগলাপাতার ছাউনি ও স্টলগুলির ক্ষেত্রেও অগ্নিনির্বাপণ সংক্রান্ত নির্দেশিকা কঠোর ভাবে মানতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন : Celebrating Cleanliness and Conservation at Mahakumbh

দমকল বিভাগ (Fire and Emergency Services) -এর তরফে মেলা এলাকায় অতিরিক্ত অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে। স্থায়ী ও অস্থায়ী দমকল ইউনিটের পাশাপাশি মোবাইল ফায়ার টেন্ডারও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আগুন লাগার সম্ভাবনা বেশি এমন এলাকায় বাড়ানো হয়েছে দমকলকর্মীদের টহল। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত শিবির ও তাঁবুগুলির পুনর্নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে, যাতে তীর্থযাত্রী, পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের থাকার কোনও অসুবিধা না হয়। প্রশাসনের দাবি, ‘পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’ নিরাপত্তার পাশাপাশি ভিড় নিয়ন্ত্রণেও জোর দেওয়া হয়েছে। পুলিশ (Police), সিভিল ডিফেন্স (Civil Defence), বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (Disaster Management Force) এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয়েছে একাধিক স্তরের নজরদারি ব্যবস্থা। কাকদ্বীপ (Kakdwip) থেকে সাগরদ্বীপ পর্যন্ত ফেরিঘাটগুলিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য তৈরি করা হয়েছে আলাদা ট্রাফিক প্ল্যান, যাতে জরুরি পরিষেবার গাড়ি দ্রুত যাতায়াত করতে পারে। ফেরি পরিষেবা নির্বিঘ্ন রাখতে নৌ পরিবহণ দফতরকে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রেও প্রস্তুতি তুঙ্গে। মেলা এলাকায় অস্থায়ী হাসপাতাল, মেডিক্যাল ক্যাম্প ও অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা হয়েছে। ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা, রক্তচাপ, শ্বাসকষ্ট বা আঘাতের মতো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত ওষুধ ও চিকিৎসক দল প্রস্তুত রয়েছে। একজন স্বাস্থ্য আধিকারিকের কথায়, ‘বয়স্ক তীর্থযাত্রীদের কথা মাথায় রেখে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।’ পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানীয় জল, স্যানিটেশন ও শৌচাগারের ব্যবস্থাও বাড়ানো হয়েছে, যাতে সংক্রমণের ঝুঁকি কমে। উল্লেখ্য, রাজ্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তর থেকেও নজরদারি চলছে বলে উল্লেখ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) -এর নির্দেশে রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী ও শীর্ষ আধিকারিক ইতিমধ্যেই কাকদ্বীপ ও সাগরে উপস্থিত থেকে মেলা পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন। কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোনও অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটলে যাতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়, সে জন্য সব দফতরকে ‘রিয়েল-টাইম’ সমন্বয়ে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে ড্রোন নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। মেলাপ্রাঙ্গণ, স্নানঘাট ও যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ রুটে ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে ভিড়ের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরার সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। কোনও জায়গায় অতিরিক্ত ভিড় জমলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশকে।

পুণ্যার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রশাসনের আবেদন, তাঁরা যেন নির্দেশিকা মেনে চলেন এবং গুজবে কান না দেন। ‘নির্ধারিত রুট ব্যবহার করুন, ভিড় এড়িয়ে চলুন এবং জরুরি প্রয়োজনে নিকটবর্তী সাহায্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করুন’ এই আহ্বান প্রচারের জন্য মাইকিং ও ডিজিটাল ডিসপ্লে ব্যবহার করা হচ্ছে। স্বেচ্ছাসেবকেরাও পুণ্যার্থীদের পথনির্দেশ ও সহায়তায় সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছেন। অন্যদিকে, গঙ্গাসাগর মেলা (Gangasagar Mela) বাংলার অন্যতম বৃহৎ সামাজিক সমাবেশও বটে। লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগমে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য প্রশাসনের লক্ষ্য একটাই, শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ পুণ্যস্নান নিশ্চিত করা। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর বাড়তি সতর্কতা এবং বহুমুখী প্রস্তুতির মাধ্যমে সেই লক্ষ্য পূরণে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে প্রশাসন। পুণ্যার্থীদের আশা, সমস্ত ব্যবস্থাপনার সুফল মিলবে বুধবারের পুণ্যস্নানে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Gangasagar Mela Babughat | বাবুঘাটে প্রস্তুতি, ‘গঙ্গাসাগর মেলা’ ঘিরে প্রশাসনের কড়া নজরদারি ও বাড়তি পরিকাঠামো

Sasraya News
Author: Sasraya News