Khaleda Zia Funeral: Jaishankar Hands Over India’s Condolence to Tarique Rahman | খালেদা জিয়ার শেষযাত্রায় মানুষের ঢল, ঢাকায় তারেক রহমানের হাতে ভারতের শোকবার্তা

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ ঢাকা : বাংলাদেশের রাজনীতির দীর্ঘ অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া-এর (Khaleda Zia) শেষযাত্রায় ঢাকাজুড়ে মানুষের ঢল নেমেছে। রাজপথ থেকে জাতীয় সংসদ ভবন চত্বর, সর্বত্র শোক, আবেগ আর স্মৃতিচারণ। এই আবহেই বুধবার ঢাকায় পৌঁছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান (Tarique Rahman) -এর হাতে ভারতের শোকবার্তা তুলে দিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar)। দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক স্তরে এই সাক্ষাৎকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক মহল।

মঙ্গলবারই ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছিল, খালেদা জিয়ার শেষকৃত্যে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সেই ঘোষণা অনুযায়ী বুধবার সকালে তিনি ঢাকায় পৌঁছন। স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ ভারতীয় বায়ুসেনার বিশেষ বিমানে তিনি অবতরণ করেন বাশার (Bashar) বাংলাদেশ বায়ুসেনা ঘাঁটিতে। তাঁকে স্বাগত জানান বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের সচিব এম ফরহদ হোসেন (M Farhad Hossain)। বিমানবন্দর থেকেই বিদেশমন্ত্রী যান জাতীয় সংসদ ভবনের দিকে।
উল্লেখ্য, বুধবার দুপুরে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবনে জয়শঙ্করের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। সেখানেই ভারতের তরফে প্রেরিত শোকবার্তা তারেকের হাতে তুলে দেন জয়শঙ্কর। সূত্রের খবর, এই সাক্ষাতে শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক শোকজ্ঞাপনই নয়, তা খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকা এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের নানা অধ্যায় নিয়েও সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi), পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সহ ভারতের একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ইতিমধ্যেই খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন।

ঢাকায় বুধবার সকাল থেকেই শোকের আবহ স্পষ্ট। সকাল ১১টা নাগাদ গুলশানের (Gulshan) বাসভবন থেকে খালেদা জ়িয়ার মরদেহ শেষবারের মতো বাইরে আনা হয়। জাতীয় পতাকায় মোড়া গাড়িতে তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ (Manik Mia Avenue) -এর দিকে। বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেখানে মানুষের ঢল নামে। বাংলাদেশের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘প্রথম আলো’ (Prothom Alo)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সকাল থেকেই হাজার হাজার মানুষ পায়ে হেঁটে, কেউ বা বাসে-রিকশায় করে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের দিকে আসতে শুরু করেন। কেউ এসেছেন খুলনা (Khulna) থেকে, কেউ মহাখালী (Mohakhali) বা নারায়ণগঞ্জ (Narayanganj) থেকে। সকলের মুখেই একটাই কথা, ‘শেষবার নেত্রীকে দেখতে এসেছি।’ জাতীয় সংসদ ভবন মাঠ এবং মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ সংলগ্ন এলাকাগুলিতে ভিড় সামাল দিতে প্রশাসনের তরফে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস (Muhammad Yunus) -এর প্রেস সচিব শফিকুল আলম (Shafiqul Alam) জানিয়েছেন, নিরাপত্তার জন্য প্রায় ১০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (Armed Police Battalion) -এর সদস্যরাও রয়েছেন। পাশাপাশি, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পয়েন্টে সেনাবাহিনীর সদস্যদেরও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পুরো এলাকা নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।

দুপুর ২টো নাগাদ (বাংলাদেশের স্থানীয় সময় অনুযায়ী) খালেদা জ়িয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে বিকেল সাড়ে ৩টে নাগাদ তাঁকে সমাধিস্থ করা হয় ঢাকার জিয়া উদ্যান (Zia Udyan) -এ, তাঁর স্বামী ও বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান (Ziaur Rahman) -এর সমাধির পাশেই। বিএনপি সূত্রে খবর, জানাজা ও দাফনের সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য যে, মঙ্গলবার ভোর ৬টা নাগাদ ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হয় খালেদা জিয়ার। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি একাধিক শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অন্তর্বর্তী সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। আজ বুধবার অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে এবং বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে শোক পালন করা হবে। প্রসঙ্গত, খালেদা জ়িয়ার মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি। তাঁর শেষযাত্রায় যে বিপুল মানুষের সমাগম দেখা যায়, তা তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের প্রভাব ও গ্রহণযোগ্যতারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। ঢাকায় এস জয়শঙ্করের উপস্থিতি এবং তারেক রহমানের হাতে ভারতের শোকবার্তা তুলে দেওয়ার ঘটনা দুই দেশের পারস্পরিক কূটনৈতিক সৌজন্য ও সম্পর্কের দিকটিও নতুন করে তুলে ধরল।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Khaleda Zia vs Sheikh Hasina, Bangladesh political history | বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনা-খালেদা জিয়ার চার দশকের দ্বন্দ্বের পূর্ণ ইতিহাস

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন