Indian Deportation, Saudi Arabia | ভারতীয় বিতাড়নে শীর্ষে সৌদি আরব! পাঁচ বছরের সরকারি পরিসংখ্যানে চমকপ্রদ তথ্য প্রকাশ

SHARE:

গত পাঁচ বছরে ভারতীয় নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর তালিকায় আমেরিকা নয়, শীর্ষে সৌদি আরব। বিদেশ মন্ত্রকের পরিসংখ্যানে প্রকাশ চমকপ্রদ তথ্য। জানুন বিস্তারিত।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : অভিবাসন নীতি নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে আমেরিকার নাম বারবার উঠে এলেও, বাস্তব চিত্র যে অনেকটাই ভিন্ন, তা স্পষ্ট করল নতুন দিল্লির সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান। গত পাঁচ বছরে কোন দেশ থেকে সবচেয়ে বেশি ভারতীয় নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছে, সেই প্রশ্নের উত্তরে দেখা যাচ্ছে, তালিকার শীর্ষে রয়েছে সৌদি আরব (Saudi Arabia)। আমেরিকা (United States of America) এই তালিকায় অনেকটাই নিচে। কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য বলছে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সময়ে সৌদি আরব থেকেই সবচেয়ে বেশি ভারতীয়কে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

বিদেশ থেকে ভারতীয় নাগরিকদের বিতাড়ন সংক্রান্ত একটি প্রশ্নের লিখিত উত্তরে এই তথ্য সংসদে তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় বিদেশ প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিংহ (Kirti Vardhan Singh)। তাঁর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, শুধু সৌদি আরব থেকেই গত পাঁচ বছরে প্রায় পঞ্চাশ হাজারের কাছাকাছি ভারতীয় নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যা অন্য যে কোনও দেশের তুলনায় অনেক বেশি। উল্লেখ্য, রিয়াধে অবস্থিত ভারতীয় মিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ সালে সৌদি সরকার ৮,৮৮৭ জন ভারতীয় নাগরিককে দেশছাড়া করে। ২০২২ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১০,২৭৭। ২০২৩ সালে ফেরত পাঠানো হয় ১১,৪৮৬ জনকে। ২০২৪ সালে সংখ্যাটি কিছুটা কমে ৯,২০৬ হলেও, ২০২৫ সালে এখনও পর্যন্ত ৭,০১৯ জন ভারতীয় নাগরিককে সৌদি আরব থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। অর্থাৎ, ধারাবাহিক ভাবে সৌদি আরবই ভারতীয় বিতাড়নের ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে।

আরও পড়ুন : Himanta Biswa Sarma | উপাসনাস্থলের সুরক্ষা থেকে সীমান্ত উদ্বেগ : একদিনে দুই বার্তা, হিমন্ত বিশ্ব শর্মার পোস্ট ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক চর্চা

এই পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে আসার পর স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি আমেরিকার কঠোর অভিবাসন নীতির প্রভাব অতিরঞ্জিত? বাস্তব তথ্য বলছে, আমেরিকা থেকেও ভারতীয় নাগরিকদের ফেরত পাঠানো হয়েছে ঠিকই, তবে সংখ্যার বিচারে তা সৌদি আরবের তুলনায় অনেক কম। ওয়াশিংটনে অবস্থিত ভারতীয় মিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে আমেরিকার রাজধানী ওয়াশিংটন (Washington DC) থেকে ৮০৫ জন ভারতীয়কে ফেরত পাঠানো হয়। ২০২২ সালে এই সংখ্যা ছিল ৮৬২, ২০২৩ সালে ৬১৭, ২০২৪ সালে ১,৩৬৮ এবং ২০২৫ সালে এখনও পর্যন্ত ৩,৪১৪ জন ভারতীয় নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ওয়াশিংটনের পাশাপাশি সান ফ্রান্সিসকো (San Francisco), নিউ ইয়র্ক (New York), আটলান্টা (Atlanta), হিউস্টন (Houston) এবং শিকাগো (Chicago) থেকেও ভারতীয়দের ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেই সংখ্যা ৫০০-এর নিচেই থেকেছে। সব মিলিয়ে আমেরিকা থেকে বিতাড়নের মোট সংখ্যা সৌদি আরবের তুলনায় অনেক কম বলে চিহ্নিত হয়েছে সরকারি হিসেবেই।

সৌদি আরব ও আমেরিকা ছাড়াও আরও কয়েকটি দেশ থেকে ভারতীয় নাগরিকদের ফেরত পাঠানো হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে মালয়েশিয়া (Malaysia), মায়ানমার (Myanmar), সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (United Arab Emirates), বাহরিন (Bahrain), থাইল্যান্ড (Thailand) এবং কম্বোডিয়া (Cambodia)। বিদেশ মন্ত্রকের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বিতাড়নের প্রধান কারণগুলির মধ্যে রয়েছে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও সংশ্লিষ্ট দেশে থেকে যাওয়া, কাজের অনুমতি বা ওয়ার্ক পারমিটের (Work Permit) মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়া, কিংবা স্থানীয় শ্রম আইন লঙ্ঘন করা। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মত, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে বিপুল সংখ্যক ভারতীয় শ্রমিক কাজ করেন। নির্মাণ, পরিষেবা, গৃহস্থালি কাজ-সহ নানা ক্ষেত্রে ভারতীয় কর্মীদের উপস্থিতি বেশি হওয়ায় নিয়ম লঙ্ঘনের সংখ্যা তুলনামূলক ভাবে বেশি চোখে পড়ে। তারই প্রভাব পড়ছে বিতাড়নের পরিসংখ্যানে। সৌদি আরবের ক্ষেত্রে এই বাস্তবতা আরও স্পষ্ট, কারণ সেখানে শ্রম আইন অত্যন্ত কঠোর এবং নিয়ম ভাঙলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এই বিতাড়নের পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে এলেও ভারত-সৌদি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক যে তাতে ক্ষতিগ্রস্ত, এমনটা নয়। তা সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক মহল। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সশস্ত্র সংঘাতের সময় মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়েছিল সৌদি আরব। সৌদি প্রতিনিধিরা ভারত সফরেও এসেছিলেন এবং দুই দেশকেই উত্তেজনা কমিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা মেটানোর বার্তা দিয়েছিলেন।যদিও পরে পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি আরব একটি বিশেষ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে, যা নিয়ে ভারতে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। ওই চুক্তিতে বলা হয়েছিল, তৃতীয় কোনও দেশ এই দুই দেশের একটিকে আক্রমণ করলে তা উভয়ের উপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে। তবে সৌদি সরকার পরে স্পষ্ট করে জানায়, এই চুক্তির লক্ষ্যবস্তু ভারত নয় এবং ভারতের সঙ্গে তাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট থাকবে। উল্লেখ্য যে, বিদেশ থেকে ভারতীয় নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর প্রশ্নে আবেগ নয়, পরিসংখ্যানই বাস্তব চিত্র তুলে ধরছে। আমেরিকার নাম যতটা আলোচনায় থাকে, বাস্তবে সৌদি আরবই গত পাঁচ বছরে সবচেয়ে বেশি ভারতীয়কে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। এই তথ্য আগামী দিনে অভিবাসন নীতি ও প্রবাসী ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবনার খোরাক জোগাবে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক কুটনৈতিকরা।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi Vocal for Local speech | উৎসবের মরশুমে স্বদেশী ঝড় : ‘ভোকাল ফর লোকাল’-এর নয়া ডাক দিয়ে আত্মনির্ভরতার বার্তা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন