Mamata Banerjee Mega Rally : ৩০ ডিসেম্বর বাঁকুড়ায় মেগা সভা, তার আগেই নিউটাউনে দুর্গাঙ্গনের শিলান্যাস

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: বছর শেষের মুখে রাজনীতির ময়দানে বড়সড় বার্তা দিতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। আগামী ৩০ ডিসেম্বর বাঁকুড়ার বড়জোড়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) এক বিশাল জনসভায় যোগ দেবেন তিনি। বড়জোড়া কলেজ মাঠে এই সভার আয়োজন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই সভাস্থল সাজানোর কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। দলের জেলা নেতৃত্ব থেকে শুরু করে রাজ্য স্তরের নেতারা এই সভাকে ঘিরে তৎপর হয়ে উঠেছেন।

রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা ভোটের আগে হাতে আর কয়েক মাস সময়। তার মধ্যেই পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে সংগঠন আরও মজবুত করতে চাইছে তৃণমূল। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুরের মতো এলাকাগুলিতে সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিজেপি (BJP) শক্ত টক্কর দিয়েছে। সেই কারণেই এই অঞ্চল থেকে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য কী হয়, তা নিয়ে আগ্রহ তুঙ্গে। গত কয়েক মাসে একাধিক জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India) এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। বিশেষ করে ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর ইস্যুতে তিনি বারবার বিজেপিকে নিশানা করেছেন। বড়জোড়ার সভা থেকেও রাজনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে পারেন তিনি, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

তৃণমূলের এক শীর্ষ নেতা জানান, ‘এই সভা শুধুমাত্র জনসমাবেশ নয়, এটি দলের শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ। পশ্চিমাঞ্চলের কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করাই মূল লক্ষ্য।’ দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সভায় জেলার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলি থেকেও বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ৩০ ডিসেম্বরের সভার আগেই আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে যোগ দিতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ২৯ ডিসেম্বর তিনি রাজারহাট নিউটাউনে (Rajarhat New Town) দুর্গাঙ্গনের শিলান্যাস করবেন। এই প্রকল্পের ঘোষণা তিনি করেছিলেন চলতি বছরের ২১ জুলাই শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে। পরে অগস্ট মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই প্রকল্পে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়। অবশেষে বছরের শেষ প্রান্তে এসে সেই পরিকল্পনা বাস্তব রূপ পেতে চলেছে।

নিউটাউনে এই দুর্গাঙ্গন নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছে হিডকো (HIDCO)। সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে আছেন রাজ্যের অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya)। হিডকোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২৯ ডিসেম্বর বিকেল ৪টেয় মুখ্যমন্ত্রী এই প্রকল্পের শিলান্যাস করবেন। নিউটাউনের ইকোপার্কের (Eco Park) সংলগ্ন এলাকায়, রামকৃষ্ণ মিশনের (Ramakrishna Mission) জমির পাশেই এই দুর্গাঙ্গন নির্মিত হবে। উল্লেখ্য, প্রকল্পের মোট বরাদ্দ প্রায় ২৬১ কোটি ৯৯ লক্ষ টাকা। তবে এটি শুধুমাত্র একটি মন্দির নির্মাণের কাজ নয়। রাজ্য প্রশাসনের এক আধিকারিকের কথায়, ‘দুর্গাঙ্গনকে একটি পূর্ণাঙ্গ দুর্গাপীঠ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এখানে দুর্গাপুজোর ইতিহাস, পৌরাণিক কাহিনি, বাংলার শিল্প ও সংস্কৃতির নানা দিক তুলে ধরা হবে।’ আধুনিক স্থাপত্যের সঙ্গে ঐতিহ্যের মেলবন্ধন ঘটিয়ে এই দুর্গাঙ্গন রাজ্যের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

নিউটাউন ইতিমধ্যেই কলকাতার (Kolkata) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আধুনিক শহর হিসেবে পরিচিত। সেখানে দুর্গাঙ্গনের মতো একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে উঠলে রাজ্যের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পর্যটকরা এখানে আসবেন, এমনটাই মত পর্যটন মহলের। এর ফলে স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বছরের শেষ দু’দিনে এই দুই কর্মসূচির মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিক বার্তা দিতে চাইছেন। একদিকে বাঁকুড়ার সভা থেকে রাজনৈতিক লড়াইয়ের রূপরেখা, অন্যদিকে নিউটাউনে দুর্গাঙ্গনের শিলান্যাসের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক ও উন্নয়নমূলক রাজনীতির দিকটি তুলে ধরা। এই দুই মেলবন্ধনই তৃণমূলের রাজনৈতিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তৃণমূলের একাংশ মনে করছে, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে উন্নয়ন ও সংস্কৃতিকে হাতিয়ার করেই মাঠে নামতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী। বছরের শেষ লগ্নে এই কর্মসূচিগুলি সেই কৌশলেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের শেষ সপ্তাহে রাজ্য রাজনীতিতে যে উত্তাপ বাড়তে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। বড়জোড়ার মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য এবং নিউটাউনের দুর্গাঙ্গন প্রকল্প, দু’টিই আগামী দিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে চলেছে।

ছবি : সংগৃহীত 

আরও পড়ুন : Lionel Messi in Kolkata, Mamata Banerjee apologises after Salt Lake Stadium chaos | কলকাতায় লিয়োনেল মেসি : যুবভারতী কাণ্ডে তোলপাড়, দর্শক ও ফুটবল-তারকার কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন