Samik Bhattacharya 2026 Election | ২০২৬ ভোটের আগে বিজেপি কর্মীদের ঝাঁপানোর ডাক শমীক ভট্টাচার্যের

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: ভোটের নির্ঘণ্ট এখনও ঘোষণা হয়নি, কিন্তু রাজ্যের রাজনৈতিক ময়দানে উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। এই আবহে বিজেপির নেতা-কর্মীদের স্পষ্ট বার্তা দিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে প্রত্যাশিত সাফল্য না এলেও, এবার আর পিছিয়ে থাকার জায়গা নেই, এমনই দৃঢ় বার্তা শোনা গেল তাঁর বক্তব্যে। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন, আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনই বিজেপির কাছে ‘শেষ লড়াই’।

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ি -এর (Atal Bihari Vajpayee) ১০১তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে শনিবার কলকাতার ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে (National Library) আয়োজিত ‘সুশাসন দিবস’ কর্মসূচীতে এই মন্তব্য করেন শমীক ভট্টাচার্য বলে উল্লেখ। মঞ্চে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপির দুই প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar) ও রাহুল সিনহা (Rahul Sinha)। এছাড়াও ছিলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এবং বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা সুনীল বনসল (Sunil Bansal)। উপস্থিত নেতাদের সামনে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট আহ্বান জানানো হয়, এবার সংগঠনের প্রতিটি স্তরকে সক্রিয় হতে হবে। নিজের বক্তব্যে শমীক বলেন, ‘২০২৬ সালের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) ক্ষমতা হারাবে, এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।’ তাঁর দাবি, ‘শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Syama Prasad Mukherjee) মাটিতে, অটলবিহারী বাজপেয়ির জন্মশতবর্ষে বিজেপির সরকার প্রতিষ্ঠা হবেই।’ শমীকের কথায়, তৃণমূলের বিদায় সময়ের অপেক্ষা মাত্র, এবং কোনও শক্তিই সেই পরিণতি ঠেকাতে পারবে না। তিনি আরও বলেন, ‘ধরে নিন এই মুহূর্তে এসআইআর বন্ধ করে দেওয়া হল। ধরে নিন এই মুহূর্তে ইডি, সিবিআইয়ের অফিসে তালা লাগানো হল। এমনকি যদি ঘোষণা করা হয় আর কোনও নোটিস যাবে না, তারপরও তৃণমূল হারবে।’ এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, প্রশাসনিক চাপ বা কেন্দ্রীয় তদন্ত বন্ধ হলেও রাজ্যের রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলাবে না।

আরও পড়ুন : Mamata Banerjee voter list controversy | ভোটার তালিকা নিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মমতা, এআই কারচুপির আশঙ্কা

কিন্তু, একই সঙ্গে দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে সতর্কবার্তাও দেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি। তিনি বলেন, ‘এখন চুপ করে বসে থাকার সময় নয়। এসআইআর নিয়ে তৃণমূল বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। আমাদের ঐতিহ্যবাহী ভোটব্যাঙ্কে ভাগ বসানোর চেষ্টা হচ্ছে।’ শমীকের দাবি, এসআইআর ইস্যুতে বিজেপির প্রতিটি কর্মীকে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। তিনি বলেন, ‘আপনি কোন পদে রয়েছেন, সেটা বড় কথা নয়। এই লড়াইয়ে সবাইকে অংশ নিতে হবে।’ রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গেও সরব হন তিনি। শমীক বলেন, ‘রোহিঙ্গা বা বাংলাদেশি খুঁজে বের করা সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু এখন শুধু বক্তৃতা দিলে হবে না। মানুষ তৈরি করতে হবে বিজেপিকে ভোট দেওয়ার জন্য।’ তাঁর মতে, এই নির্বাচন শুধুই ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং ‘ডবল ইঞ্জিন সরকার’ গঠনের লড়াই। ‘গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত বিজেপির সরকার গড়ার নির্বাচন এটি,’ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এদিনের বক্তব্যে শমীক ভট্টাচার্য তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন বামফ্রন্ট ও সিপিআইএম-কেও (CPIM)। শমীক বলেন, ‘১৯৪৭ সালের ২০ জুন বাংলাভাগের প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন বামেদের নেতারা। ভিতরে ভোট দিয়ে বাইরে এসে নাটক করেছেন।’ তাঁর দাবি, এই দ্বিচারিতাই বামপন্থীদের রাজনৈতিক চরিত্রের পরিচয় দেয়। ‘এই মিথ্যাচারের জবাব দেওয়ার সময় এসে গিয়েছে,’ তিনি বলেন। সবচেয়ে আবেগঘন অংশে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘টিকিট পাই বা না পাই, আমি মারা যাওয়ার পর যেন বিজেপির পতাকা আমার বুকের উপর থাকে।’ তাঁর কথায়, বিজেপির কর্মীদের ব্যক্তিগত লাভ-লোকসানের ঊর্ধ্বে উঠে দলের জন্য লড়াই করতে হবে। তিনি স্পষ্ট করেন, ‘আমরা বহুদিন হারার মানসিকতা নিয়ে রাজনীতি করেছি। কিন্তু এবার জিততে এসেছি। কারণ এটাই শেষ সুযোগ।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শমীকের এই বক্তব্য বিজেপির ভবিষ্যৎ কৌশলের স্পষ্ট ইঙ্গিত। একদিকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে আক্রমণ, অন্যদিকে বামেদের অতীত টেনে এনে রাজনৈতিক লড়াইয়ের মেরুকরণ, সব মিলিয়ে বিজেপি যে ২০২৬-এর নির্বাচনে সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপাতে চাইছে, তা স্পষ্ট। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই রাজ্য রাজনীতিতে যে উত্তাপ তৈরি হচ্ছে, শমীক ভট্টাচার্যের এই ‘শেষ লড়াই’ -এর ডাক সেই উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Samik Bhattacharya on rail development, Amrit Bharat Station Scheme West Bengal | অমৃত ভারত স্টেশন স্কিম-এ নতুন রূপ পেতে চলেছে বাংলার ১০১ রেলস্টেশন, সংসদে জানাল রেলমন্ত্রক

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন