Hanskhali gang rape case, Nadia rape murder verdict | হাঁসখালির নৃশংসতা মামলায় নজিরবিহীন রায়, তৃণমূল নেতার পুত্র-সহ তিন জনের আমৃত্যু কারাদণ্ডে কাঁদল নদীয়া

SHARE:

হাঁসখালি রেপ কেসে সাজা ঘোষণা

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ রানাঘাট : নদীয়ার (Nadia) হাঁসখালি (Hanskhali) গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় বহু প্রতীক্ষিত ও কঠোর রায় ঘোষণা করল রানাঘাট মহকুমা আদালত (Ranaghat Sub-Divisional Court)। তৃণমূল নেতার পুত্র সোহেল ওরফে ব্রজ গয়ালি (Sohel alias Braj Gayali) -সহ মোট তিন জনকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা দিল আদালত। পাশাপাশি অপরাধে সহযোগিতা ও প্রমাণ লোপাটের দায়ে আরও কয়েক জনকে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সাজা ঘোষণার সময় আদালত চত্বরে কান্নায় ভেঙে পড়েন নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যেরা। এই রায় ফের একবার গোটা রাজ্যে হাঁসখালির সেই ভয়াবহ ঘটনার স্মৃতি উসকে দিল।

ছবি : প্রতীকী

সোমবারই এই মামলায় মোট ৯ জনকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল আদালত। মঙ্গলবার বিচারক দোষীদের সাজা ঘোষণা করেন। গণধর্ষণের মূল অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়া সোহেল গয়ালি ছাড়াও প্রভাকর পোদ্দার (Prabhakar Poddar) এবং রণজিৎ মল্লিককে (Ranjit Mallick) আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, অপরাধের নৃশংসতা ও সামাজিক প্রভাবের কথা মাথায় রেখেই এই সর্বোচ্চ কঠোর সাজা দেওয়া হল। এছাড়া তৃণমূল নেতা সমরেন্দ্র গয়ালি (Samarendra Gayali), দীপ্ত গয়ালি (Diptta Gayali) এবং আরও এক অভিযুক্তকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ ছিল অপরাধমূলক কাজে সহযোগিতা এবং প্রমাণ লোপাট। আদালতের মতে, গণধর্ষণ ও মৃত্যুর পর দ্রুত দেহ সৎকারের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা চাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।

এই মামলায় প্রতিবেশী অংশুমান বাগচীর (Anshuman Bagchi) ভূমিকাও গুরুতর বলে উল্লেখ করেছে আদালত। নির্যাতিতার পরিবারকে ভয় দেখানো, নাবালিকার দেহ শ্মশানে নিয়ে যেতে বাধ্য করা এবং সম্মিলিত ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগে তাঁকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপর দিকে, দোষী সাব্যস্ত হওয়া দুই নাবালক অভিযুক্তকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দিয়েছে আদালত। তবে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আগামী এক বছরের মধ্যে তাঁরা কোনও অপরাধমূলক কাজে যুক্ত হলে রায় পুনর্বিবেচনা করা হবে।হাঁসখালি গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনাটি ঘটে ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে। রানাঘাট পুলিশ জেলার (Ranaghat Police District) হাঁসখালি থানায় ১০ এপ্রিল এই সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতার বাবা-মা। অভিযোগে বলা হয়, ৫ এপ্রিল স্থানীয় এক তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের পুত্রের জন্মদিনের পার্টিতে আমন্ত্রিত ছিল ওই নাবালিকা। সেই পার্টিতেই পঞ্চায়েত সদস্যের পুত্র ও তাঁর কয়েক জন বন্ধু মিলে নাবালিকাকে গণধর্ষণ করে।

ছবি :প্রতীকী

অভিযোগ অনুযায়ী, নির্যাতনের পর রক্তাক্ত অবস্থায় নাবালিকাকে বাড়ির সামনে ফেলে রেখে যাওয়া হয়। পরে তার মৃত্যু হলে দ্রুত দেহ সৎকার করে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করা হয়। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই গোটা রাজ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। প্রশাসন ও পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। নির্যাতিতার পরিবার পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে কলকাতা হাই কোর্টে (Calcutta High Court) মামলা দায়ের করে। হাই কোর্টের নির্দেশে এই ঘটনার তদন্তভার দেওয়া হয় সিবিআইকে (CBI)। একই সঙ্গে নির্যাতিতার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয় আদালত। তদন্ত শেষে সিবিআই চার্জশিট জমা দেয় এবং দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার পর রানাঘাট মহকুমা আদালত ৯ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে।

আরও পড়ুন : Samsherganj murder case | ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদ ঘিরে রক্তাক্ত শমসেরগঞ্জ, পিতা-পুত্র খুনে ১৩ জনের যাবজ্জীবন, পরিবারকে ১৫ লক্ষ ক্ষতিপূরণের নির্দেশ আদালতের

উল্লেখ্য, সাজাপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু হয়েছিল। সোহেল, প্রভাকর এবং রণজিৎ-র বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির (Indian Penal Code) ১২০বি, ৩৪, ২০১, ৫০৬, ৩০৪(২), ৩৭৬ ধারার পাশাপাশি পকসো আইনের (POCSO Act) ৬ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়। সুরজিৎ (Surajit) ও আকাশ (Akash) -এর বিরুদ্ধে ১২০বি, ৩৪ এবং ৫০৬ ধারায় মামলা চলে। সমরেন্দ্র, দীপ্ত ও পীযূষকান্তির (Piyushkanti) বিরুদ্ধে ৫০৬, ২০১, ১২০বি ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। অংশুমান বাগচীর বিরুদ্ধে ১২০বি, ৩৪ ও ২০১ ধারায় মামলা দায়ের হয়েছিল। রায় ঘোষণার পর আসামীপক্ষের আইনজীবী রাজা ধর (Raja Dhar) জানান, ‘এই মামলায় অভিযুক্তদের সক্ষমতার পরীক্ষা বা পোটেন্সি টেস্ট করানো হয়নি। সিবিআই তদন্তে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে। আমরা উচ্চ আদালতে যাব।’ তবে সরকারি আইনজীবীদের দাবি, তদন্ত ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই আদালত এই কঠোর রায় দিয়েছে। অন্যদিকে, হাঁসখালি মামলার এই রায় শুধু একটি আইনি সিদ্ধান্ত নয়, বরং সমাজে নাবালিকার উপর অপরাধের বিরুদ্ধে শক্ত বার্তা বলেই মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এই মামলার রায় নির্যাতিতার পরিবারের কাছে কিছুটা হলেও ন্যায়বিচারের অনুভূতি এনে দিল, এমনটাই মত নাগরিক সমাজের একাংশের।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Samsherganj murder case | ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদ ঘিরে রক্তাক্ত শমসেরগঞ্জ, পিতা-পুত্র খুনে ১৩ জনের যাবজ্জীবন, পরিবারকে ১৫ লক্ষ ক্ষতিপূরণের নির্দেশ আদালতের

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন