সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও কূটনীতির ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ছুঁল ভারত। সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) জানালেন, ভারত ও নিউজিল্যান্ডের (New Zealand) সম্পর্কের ইতিহাসে এটি এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগকে আরও শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করানোর লক্ষ্যে ভারত–নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (India-New Zealand Free Trade Agreement) চূড়ান্ত হওয়াকে তিনি ‘ঐতিহাসিক সাফল্য’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘ভারত-নিউজিল্যান্ড সম্পর্কের জন্য এটি এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, যা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগে জোরদার গতি আনবে।’ তিনি জানান, এই চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন (Christopher Luxon) -এর সঙ্গে তাঁর একটি ‘খুব ভাল ও ফলপ্রসূ’ আলোচনা হয়েছে। সেই কথোপকথনেই দুই দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্পর্কের রূপরেখা আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে ইঙ্গিত দেন মোদী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, মাত্র ন’মাসের মধ্যেই এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হওয়া দুই দেশের দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও পারস্পরিক আস্থার প্রতিফলন। তাঁর ভাষায়, ‘মাত্র ন’মাসে এই চুক্তি সম্পন্ন হওয়া প্রমাণ করে যে ভারত ও নিউজিল্যান্ড উভয় দেশই অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’ আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের মতে, সাধারণত এ ধরনের চুক্তি সম্পন্ন হতে বহু বছর লেগে যায়। সেখানে এত অল্প সময়ে চুক্তি হওয়া ভারতীয় কূটনীতির বড় সাফল্য হিসেবেই ধরা হচ্ছে।
এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে বাজারে প্রবেশের সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই জানিয়েছেন, এই চুক্তির ফলে ‘এনহ্যান্সড মার্কেট অ্যাক্সেস’ নিশ্চিত হবে। অর্থাৎ দুই দেশের পণ্য ও পরিষেবার জন্য নতুন নতুন বাজার খুলে যাবে, যা সরাসরি ব্যবসায়িক কার্যকলাপ বাড়াতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও আসবে নতুন গতি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই এফটিএ ডিপার ইনভেস্টমেন্ট ফ্লোজ় নিশ্চিত করবে’, যার ফলে দুই দেশের শিল্প, পরিকাঠামো এবং স্টার্টআপ ক্ষেত্র উপকৃত হবে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই চুক্তির সবচেয়ে বড় লাভ হবে ভারতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগীদের জন্য। প্রধানমন্ত্রী মোদী নিজেও তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেছেন যে, এই এফটিএ উদ্ভাবক, উদ্যোক্তা, কৃষক, এমএসএমই (MSME), পড়ুয়া ও যুবসমাজের জন্য ‘নিউমেরাস অপারচুনিটিজ়’ বা অসংখ্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে। বিশেষ করে ভারতের কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প নিউজিল্যান্ডের উন্নত প্রযুক্তি ও বাজারের সুবিধা পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।নিউজিল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরেই কৃষি ও দুগ্ধ শিল্পে বিশ্বনেতৃত্বকারী দেশগুলির মধ্যে অন্যতম। অন্যদিকে ভারত কৃষিক্ষেত্রে বিপুল উৎপাদন ক্ষমতা ও বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজারের অধিকারী। এই চুক্তির ফলে দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তি বিনিময়, যৌথ উদ্যোগ এবং গবেষণার পথ আরও প্রশস্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভারতের আইটি, পরিষেবা ক্ষেত্র ও শিক্ষাক্ষেত্রও নিউজিল্যান্ডে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর পোস্টে যে বিষয়টির ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন, তা হল যুবসমাজ ও পড়ুয়াদের সুযোগ। তাঁর মতে, এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি শিক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াবে, ফলে ভারতীয় ছাত্রছাত্রীরা নিউজিল্যান্ডে পড়াশোনা ও গবেষণার ক্ষেত্রে আরও বেশি সুযোগ পাবেন। একইভাবে নিউজিল্যান্ডের ছাত্রছাত্রীরাও ভারতের শিক্ষা ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে আগ্রহী হয়ে উঠবেন। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই চুক্তি শুধু অর্থনৈতিক নয়, কৌশলগত দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের ভূমিকা শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। এই এফটিএ সেই সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ভবিষ্যতে প্রতিরক্ষা, সাইবার সিকিউরিটি এবং জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়েও দুই দেশের সহযোগিতা বাড়তে পারে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঘোষণায় স্পষ্ট যে ভারত-নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদের অংশীদারিত্বের একটি শক্ত ভিত। বাজার সম্প্রসারণ থেকে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কৃষক থেকে তরুণ উদ্যোক্তা-সব ক্ষেত্রেই এই চুক্তির ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলও এই চুক্তিকে দক্ষিণ এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ভারসাম্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Indian Economy, Insurance News | বিমা ক্ষেত্রে যুগান্তকারী মোড়: ১০০ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগের প্রস্তাব লোকসভায়, সরকার- বিরোধী তুমুল তরজা


