125 days work guarantee, rural employment scheme | ১০০ দিনের সীমা ভাঙল গ্রামীণ রোজগার, রাষ্ট্রপতির সইয়ে আইনে ‘জিরামজি’ : মনরেগার জায়গায় নতুন যুগের কর্মগ্যারান্টি?

SHARE:

মনরেগার বদলে জিরামজি আইন কার্যকর। ১০০ নয়, এবার ১২৫ দিনের কাজের গ্যারান্টি। রাষ্ট্রপতির সইয়ে আইনে পরিণত নতুন গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্প।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: দেশের গ্রামীণ কর্মসংস্থানের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যুক্ত হল। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর স্বাক্ষরের মাধ্যমে আইনে পরিণত হল মোদী সরকারের আনা ‘বিকশিত ভারত-গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’ বিল। সংক্ষেপে যাকে বলা হচ্ছে ‘জিরামজি’ (JIRAMGI)। এতদিন যে মনরেগা (MGNREGA) সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত ছিল ‘১০০ দিনের কাজ’ হিসেবে, সেই কাঠামোতেই বড়সড় বদল আনল কেন্দ্র। নতুন আইনে কাজের ন্যূনতম গ্যারান্টি বেড়ে হল ১২৫ দিন, আর বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে ১৫০ দিন পর্যন্ত।

আরও পড়ুন : Narendra Modi receives Order of Oman | ভারত-ওমান সম্পর্ক : সুলতান হাইথাম বিন তারিকের সঙ্গে বৈঠকের পর ‘অর্ডার অফ ওমান’ সম্মানে ভূষিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে লোকসভায় পাশ হয়েছিল জিরামজি বিল। মধ্যরাতে রাজ্যসভায় অনুমোদন পাওয়ার পর তা পাঠানো হয় রাষ্ট্রপতির কাছে। রবিবার রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের মাধ্যমে আইনে পরিণত হল এই বিল। মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যেই সংসদের দুই কক্ষ পেরিয়ে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন—এই দ্রুতগতিই রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রে। মনমোহন সিং (Manmohan Singh) সরকারের আমলে চালু হওয়া মহাত্মা গান্ধী ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি অ্যাক্ট বা মনরেগাকে কার্যত সরিয়ে এনে নতুন আইনি কাঠামো দাঁড় করাল মোদী সরকার। কেন্দ্রের দাবি, ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করাতেই এই আইন। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু দিন বাড়ানোই নয়, রোজগার ও আজীবিকার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করাই জিরামজির মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু বিরোধীদের প্রশ্ন, সত্যিই কি এই আইন গ্রামীণ মানুষের জীবন বদলাবে, নাকি এটি মনরেগার আত্মাকে দুর্বল করবে?

নতুন আইনের ধারা ৫(১) অনুযায়ী, এবার আর ১০০ দিনের কাজের নিশ্চয়তা নয়, উপভোক্তারা পাবেন ন্যূনতম ১২৫ দিনের কাজের গ্যারান্টি। তফসিলি উপজাতিভুক্ত নাগরিকদের ক্ষেত্রে, বিশেষত যাঁরা বনাঞ্চলে বসবাস করেন, তাঁদের জন্য এই সীমা বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৫০ দিন। পাশাপাশি ফসল কাটার মরসুমে অতিরিক্ত ৬০ দিনের কাজের ছাড়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। বাকি সময়ের মধ্যে পূর্ণ হবে নির্ধারিত ১২৫ দিনের কর্মসংস্থান। কেন্দ্রের দাবি, এই কাঠামো গ্রামীণ মানুষের হাতে নিয়মিত আয় নিশ্চিত করবে এবং মৌসুমি বেকারত্ব কমাবে। তবে এখানেই আপত্তি তুলছে বিরোধী দলগুলি। তাদের যুক্তি, কাজের দিন বাড়ালেই কী সমস্যার সমাধান হয়? বছরের পর বছর ধরে মনরেগার মজুরি প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে বলে অভিযোগ। জিরামজি আইনে মজুরি কাঠামো নিয়ে স্পষ্ট কোনও দিশানির্দেশ নেই বলেই বিরোধীদের দাবি। ফলে কাজের দিন বাড়লেও প্রকৃত আয় বাড়বে কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

আরও বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে, অর্থ বরাদ্দের কাঠামো ঘিরে। এতদিন মনরেগার সম্পূর্ণ অর্থের দায়িত্ব ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের। নতুন জিরামজি আইনে সেই অনুপাত বদলে ৬০:৪০ করা হয়েছে, ৬০ শতাংশ কেন্দ্র দেবে, ৪০ শতাংশ দিতে হবে রাজ্যকে। কংগ্রেস (Congress) সহ একাধিক বিরোধী দল বলছে, এর মাধ্যমে রাজ্যগুলির উপর আর্থিক চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে কেন্দ্র। বিশেষ করে আর্থিকভাবে দুর্বল রাজ্যগুলির পক্ষে এই অতিরিক্ত বোঝা বহন করা কঠিন হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এই বিল আইনে পরিণত হওয়ার আগের দিনই কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধী (Sonia Gandhi) জিরামজিকে ‘কালো আইন’ বলে আখ্যা দেন। তাঁর অভিযোগ, একদিকে মহাত্মা গান্ধীর নাম সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে কর্মসংস্থানের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি কেন্দ্রের হাতে কুক্ষিগত করা হচ্ছে। কারা কাজ পাবেন, কতদিন কাজ পাবেন, কোথায় কাজ হবে, এই সব সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রাজ্য ও স্থানীয় স্তর থেকে সরিয়ে কেন্দ্র নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিরোধীদের আরও একাংশের মতে, মনরেগা শুধু একটি কর্মসংস্থান প্রকল্প ছিল না, এটি ছিল গ্রামীণ মানুষের সামাজিক নিরাপত্তার প্রতীক। জিরামজি আইনে সেই সামাজিক সুরক্ষার জায়গাটি কতটা বজায় থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যদিও কেন্দ্রের পাল্টা যুক্তি, নতুন আইন আরও বেশি কর্মদিবস, আরও বিস্তৃত কাজের ক্ষেত্র এবং দীর্ঘমেয়াদি আজীবিকার সুযোগ এনে দেবে। উল্লেখ্য যে, রাজনৈতিক তরজার মাঝেই পরিষ্কার, জিরামজি আইন কার্যকর হলে দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড়সড় প্রভাব পড়তে চলেছে। ১০০ দিনের গণ্ডি পেরিয়ে ১২৫ দিনের কর্মগ্যারান্টি, এটি যেমন সরকারের কাছে উন্নয়নের প্রতীক, তেমনই বিরোধীদের কাছে কেন্দ্রীয়করণের নতুন উদাহরণ। বাস্তবে এই আইন গ্রামীণ মানুষের জীবনে কতটা স্বস্তি আনতে পারে, তার উত্তর মিলবে প্রয়োগের ময়দানেই।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Mamata Banerjee on JIRAMJI Bill | শীতকালীন অধিবেশনে তীব্র বিতর্কের মাঝেই লোকসভায় পাশ ‘জিরামজি’ বিল, মনরেগা বদলের পথে নতুন গ্রামীণ রোজগার আইন ঘিরে রাজনৈতিক ঝড়

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন