Delhi NCR dense fog | ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকল দিল্লি-এনসিআর, দৃষ্টিসীমা কমে ব্যাহত সড়ক ও রেল চলাচল, সতর্ক প্রশাসন

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: শীতের দাপটের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বৃহস্পতিবার ভোরে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে গেল দিল্লি-এনসিআর (Delhi-NCR)। রাজধানী দিল্লি (Delhi) ও তার আশপাশের গুরগাঁও (Gurugram), নয়ডা (Noida), গাজিয়াবাদ (Ghaziabad), ফরিদাবাদ (Faridabad) -সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ভোররাতে দৃশ্যমানতা হঠাৎ করেই অনেকটা কমে যায়। বহু জায়গায় দৃষ্টিসীমা নেমে আসে মাত্র কয়েক দশ মিটারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে সড়ক ও রেল চলাচলের উপর। অফিসযাত্রী, দূরপাল্লার যাত্রী এবং পণ্যবাহী গাড়ির চালকদের চরম সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোর চারটে থেকে ছ’টার মধ্যে কুয়াশার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ছিল। একাধিক প্রধান সড়ক ও এক্সপ্রেসওয়েতে যান চলাচল অত্যন্ত ধীরগতির হয়ে পড়ে। অনেক জায়গায় হেডলাইট ও ফগ লাইট জ্বালিয়েও সামনে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছিল না। এই পরিস্থিতিতে দুর্ঘটনা এড়াতে ট্রাফিক পুলিশ (Traffic Police) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে নজরদারি বাড়ায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার ঘোষণা করা হয়, অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে এবং প্রয়োজন হলে ধীরগতিতে গাড়ি চালাতে।

রেল চলাচলেও কুয়াশার প্রভাব স্পষ্ট। উত্তর রেল (Northern Railway) সূত্রে জানা গেছে, বেশ কয়েকটি দূরপাল্লার ট্রেন নির্ধারিত সময়ের তুলনায় দেরিতে চলেছে। যদিও বড় কোনও দুর্ঘটনার খবর নেই, তবুও যাত্রীদের ভোগান্তি কম হয়নি। এক রেলযাত্রী বলেন, ‘ভোরে ট্রেন ধরার কথা ছিল, কিন্তু কুয়াশার জন্য প্রায় এক ঘণ্টা দেরি হল। শীত আর অপেক্ষা, দু’টো মিলিয়ে কষ্টই বলতে হবে।’

দিল্লি-এনসিআরের সড়ক পরিস্থিতিও ছিল চ্যালেঞ্জিং। দিল্লি-মেরঠ এক্সপ্রেসওয়ে (Delhi-Meerut Expressway) ও নয়ডা-গ্রেটার নয়ডা এক্সপ্রেসওয়ে (Noida-Greater Noida Expressway)-এ বিশেষভাবে সতর্কতা জারি করা হয়। ট্রাফিক পুলিশের এক আধিকারিক জানান, ‘কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে গেলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। তাই চালকদের গতি কম রাখতে এবং লেন শৃঙ্খলা মেনে চলতে বলা হয়েছে।’ আবহাওয়া দফতর (India Meteorological Department – IMD)-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, শীতকাল আরও জাঁকিয়ে বসায় দিল্লি-এনসিআরে আগামী কয়েকদিন ভোরের দিকে ঘন কুয়াশা অব্যাহত থাকতে পারে। আবহাওয়াবিদদের মতে, রাতের তাপমাত্রা কমে যাওয়া, বাতাসের গতি হ্রাস এবং আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকার ফলেই এই ঘন কুয়াশা তৈরি হচ্ছে। এক আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘শীতের এই সময়ে উত্তর ভারতের সমভূমিতে কুয়াশা স্বাভাবিক ঘটনা। তবে চলতি মরশুমে কুয়াশার স্থায়িত্ব কিছুটা বেশি দেখা যাচ্ছে।’

কুয়াশার সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডার অনুভূতিও বাড়ছে। ভোরের দিকে তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষকে গরম পোশাক ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, এই আবহাওয়ায় সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট এবং চোখের জ্বালার মতো সমস্যা বাড়তে পারে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে নাগরিকদের উদ্দেশে একাধিক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। গাড়ি চালানোর সময় ফগ লাইট ব্যবহার, পর্যাপ্ত দূরত্ব বজায় রাখা এবং হঠাৎ ব্রেক না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, কুয়াশার সময় হাইওয়েতে গাড়ি থামিয়ে না রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক জেলা প্রশাসনিক আধিকারিক বলেন, ‘সতর্ক থাকলেই দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। আমরা সবাইকে ট্রাফিক অ্যাডভাইজরি মেনে চলার অনুরোধ করছি।’ দিল্লি-এনসিআরের বাসিন্দাদের একাংশের মতে, প্রতি বছর শীত এলেই এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে যাত্রীদের দাবি, আরও উন্নত সতর্কতা ব্যবস্থা ও আগাম তথ্য দিলে ভোগান্তি কিছুটা কমানো সম্ভব। এক অফিসযাত্রী বলেন, ‘যদি আগেভাগে স্পষ্ট করে জানানো হয় কোন রাস্তায় কুয়াশা বেশি, তাহলে আমরা বিকল্প পথ বেছে নিতে পারি।’
বস্তুত, ঘন কুয়াশা ও শীতের যুগল প্রভাবে দিল্লি-এনসিআরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা আপাতত কিছুটা হলেও ব্যাহত। প্রশাসন ও আবহাওয়া দফতরের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। আগামী কয়েকদিন একই রকম আবহাওয়া বজায় থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, সতর্কতা ও ধৈর্যই এখন নাগরিকদের সবচেয়ে বড় ভরসা।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : TMC Gears Up for SIR Second Phase, Mamata to Address BLA Meet | এসআইআরের দ্বিতীয় পর্বে তৃণমূলের মাস্টারপ্ল্যান: নেতাজি ইন্ডোরে বিএলএ বৈঠকে বুথ স্তরকে শক্ত করার বার্তা দিতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন