সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ তাহেরপুর : নদীয়া জেলার তাহেরপুরে আগামী ২০ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) -এর নির্ধারিত জনসভাকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রস্তুতি তুঙ্গে। এই গুরুত্বপূর্ণ সভার আগে বুধবার জনসভার জন্য নির্ধারিত মাঠ পরিদর্শন করেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দলের জেলা নেতৃত্ব ও স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা। মাঠ পরিদর্শনের পাশাপাশি নিরাপত্তা, জনসমাগম, মঞ্চ নির্মাণ এবং সভার সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।

বিজেপি সূত্রে খবর, লোকসভা নির্বাচনের আবহে এই জনসভাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে গেরুয়া শিবির। নদীয়া জেলা দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এখানে দলীয় সংগঠন আরও মজবুত করতে এবং কেন্দ্রের সরকারের বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেই প্রধানমন্ত্রী নিজে সভা করতে আসছেন বলে মত রাজনৈতিক মহলের।
মাঠ পরিদর্শনের সময় শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী -এর সভা মানেই শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচী নয়, এটা উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার একটি বড় মঞ্চ। তাহেরপুরের এই সভা থেকে সারা নদীয়া তথা দক্ষিণবঙ্গের মানুষ স্পষ্ট দিশা পাবেন।’ তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, এই সভার মাধ্যমে বিজেপি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন গতি আনতে চাইছে। পরিদর্শনের সময় মাঠের পরিকাঠামো, প্রবেশ ও প্রস্থান পথ, দর্শকদের বসার ব্যবস্থা, জরুরি পরিষেবা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হয়। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় কয়েক লক্ষ মানুষের জমায়েত হতে পারে এই সভায়। সেই কারণেই কোনও রকম ত্রুটি না রাখতে প্রশাসনিক ও দলীয় স্তরে সমন্বয় রেখে কাজ করা হচ্ছে।
শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) আরও জানান, ‘আমরা চাই, প্রত্যন্ত এলাকা থেকে শুরু করে শহরের মানুষ, সকলেই নির্বিঘ্নে সভায় অংশ নিতে পারেন। মহিলা, প্রবীণ নাগরিক এবং তরুণদের কথা মাথায় রেখে আলাদা আলাদা পরিকল্পনা করা হচ্ছে।’ তাঁর কথায়, সভার দিন কোনও বিশৃঙ্খলা বা অসুবিধা যাতে না হয়, তার জন্য আগাম প্রস্তুতি অত্যন্ত জরুরি। উল্লেখ্য যে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নদীয়া জেলায় বিজেপির এই সভা তৃণমূল কংগ্রেসের জন্যও বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। কারণ, এই জেলা একাধিক বিধানসভা ও লোকসভা আসনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল মাথায় রেখে এখন থেকেই রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের শক্তি প্রদর্শনে নেমে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) -এর উপস্থিতি বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করবে বলেই মনে করা হচ্ছে। এদিন মাঠ পরিদর্শনের পাশাপাশি শমীক ভট্টাচার্য স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বৈঠকও করেন। সেখানে তিনি কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সভা মানেই আমাদের কাছে বড় দায়িত্ব। মানুষের মধ্যে যে প্রত্যাশা রয়েছে, তার মর্যাদা রাখতে হবে। সংগঠনের শৃঙ্খলা বজায় রেখে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।’ তাঁর এই বার্তা কর্মীদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ জোগায়।
স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, ইতিমধ্যেই সভার প্রস্তুতি প্রায় শেষের পথে। পোস্টার, ব্যানার, প্রচার গাড়ি এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রচার শুরু হয়ে গিয়েছে। গ্রাম থেকে শহর সর্বত্রই এই সভা নিয়ে আলোচনা চলছে। অনেকেই মনে করছেন, তাহেরপুরের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী রাজ্য ও কেন্দ্রের নানা উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কথা তুলে ধরবেন, পাশাপাশি রাজ্য সরকারের সমালোচনাও করতে পারেন। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে কড়া। সভাস্থল ও আশপাশের এলাকায় বাড়তি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হতে পারে। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও জরুরি পরিষেবার জন্য আলাদা পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে। যদিও এই বিষয়ে সরকারি স্তরে এখনও চূড়ান্ত ঘোষণা হয়নি। বস্তুত, ২০ ডিসেম্বরের তাহেরপুর সভা যে শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং রাজ্য রাজনীতির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে চলেছে, তা বলাই যায়। মাঠ পরিদর্শনের মাধ্যমে শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) স্পষ্ট করে দিলেন, এই সভা নিয়ে কোনও রকম ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না। এখন নজর ২০ ডিসেম্বরের দিকে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) -এর বক্তব্য কী বার্তা দেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Samik Bhattacharya | মন্দারমণির অবৈধ রিসোর্ট থেকে রাজবংশী-কামতাপুরি ভাষা স্বীকৃতি : রাজ্যসভায় দ্বিমুখী ইস্যুতে সরব শমীক ভট্টাচার্য




