সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : আন্তর্জাতিক কূটনীতির মঞ্চে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যুক্ত হল ভারতের বিদেশ নীতিতে। বুধবার গভীর রাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) এবং ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ আলি (Abiy Ahmed Ali) -এর মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর ভারত ও ইথিওপিয়া তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ‘স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ বা কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিল। প্রধানমন্ত্রীর দফতর (PMO India) -এর পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় জানানো হয়, দুই দেশের মধ্যে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে।
PMO সূত্রে জানানো হয়েছে, এই আলোচনায় খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য নিরাপত্তা, দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলি বিশেষ গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি ওষুধ শিল্প, মেডিক্যাল ট্যুরিজম, শক্তি ক্ষেত্র এবং ক্রিটিক্যাল মিনারেলস বা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের মতো ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশের নেতারা একমত হয়েছেন। কূটনৈতিক মহলের মতে, আফ্রিকা মহাদেশে ভারতের প্রভাব বাড়ানোর ক্ষেত্রে ইথিওপিয়ার সঙ্গে এই কৌশলগত অংশীদারিত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) এবং প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ আলি (Abiy Ahmed Ali) -এর আলোচনায় বিশেষভাবে উঠে আসে খাদ্য ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তার প্রসঙ্গ। বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তন, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে খাদ্য নিরাপত্তা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত ও ইথিওপিয়া একে অপরের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি ভাগ করে নিয়ে এই সমস্যার মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও ভ্যাকসিন উৎপাদন, চিকিৎসা পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রশিক্ষণের উপর জোর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার সহযোগিতার বিষয়টিও এই বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ভারত ইতিমধ্যেই ডিজিটাল ইন্ডিয়া, ইউপিআই (UPI), আধার (Aadhaar) এবং সরকারি ডিজিটাল পরিষেবার মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। ইথিওপিয়া এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নিজেদের ডিজিটাল ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করতে আগ্রহী। PMO সূত্রের দাবি, ভবিষ্যতে এই ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ ও প্রযুক্তিগত সহায়তার পথ খুলে গেল। ওষুধ শিল্প ও মেডিক্যাল ট্যুরিজম ক্ষেত্রেও ভারত-ইথিওপিয়া সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ভারতের ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্প বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও বিশ্বাসযোগ্য শিল্প হিসেবে পরিচিত। ইথিওপিয়ায় সাশ্রয়ী ও মানসম্মত ওষুধ সরবরাহ এবং যৌথ উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি, ইথিওপিয়ার নাগরিকদের জন্য ভারতে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা ও মেডিক্যাল ট্যুরিজমের সুযোগ আরও বাড়ানো হতে পারে।
শক্তি ও ক্রিটিক্যাল মিনারেলস ক্ষেত্রেও এই বৈঠক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বৈদ্যুতিক যান, নবীকরণযোগ্য শক্তি এবং আধুনিক প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের উপর বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতা বাড়ছে। এই প্রেক্ষিতে ইথিওপিয়ার সঙ্গে ভারতের সহযোগিতা ভবিষ্যতের শক্তি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এদিকে, কূটনৈতিক বৈঠকের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক সৌহার্দ্যের ছবিও ধরা পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) নিজে তাঁর অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে জানান, আদ্দিস আবাবা বিমানবন্দরে তিনি প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ আলি (Abiy Ahmed Ali) -এর সঙ্গে ইথিওপিয়ার ঐতিহ্যবাহী কফি অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তিনি লেখেন, ‘এই কফি সেরেমনি ইথিওপিয়ার সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সুন্দরভাবে তুলে ধরে।’
আন্তর্জাতিক কুটনৈতিক মহল সূত্রে খবর, আফ্রিকার কৌশলগত দেশগুলির সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক মজবুত করার নীতিরই অংশ এই উদ্যোগ। ইথিওপিয়া আফ্রিকান ইউনিয়নের সদর দফতরের দেশ হওয়ায় আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তার গুরুত্ব আলাদা। ভারতের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব ইথিওপিয়াকে যেমন আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী করবে, তেমনই আফ্রিকা মহাদেশে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থানও আরও দৃঢ় হবে। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) ও প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ আলি (Abiy Ahmed Ali) -এর এই বৈঠক ভারত-ইথিওপিয়া সম্পর্ককে এক নতুন দিশা দেখাল। কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, বরং দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা, উন্নয়নমূলক কূটনীতি এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ক্ষেত্রেও এই অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতে বড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Modi Ranaghat Matua Vote Bengal Rally | রানাঘাটে মোদীর জনসভা: মতুয়া ভোটব্যাঙ্কে নজর রেখে বাংলায় প্রচারের সূচনা বিজেপির




