Burdwan lottery winner, West Bengal lottery news | ৩৫ টাকার লটারি বদলে দিল জীবনের চাকা: ডাক্তার দেখিয়ে ফেরার পথে কোটিপতি হলেন ডলি বিবি

SHARE:

শারীরিক অসুস্থতার কারণে ডলি বিবি সেদিন গুসকরা (Guskara) শহরে ডাক্তার দেখাতে গিয়েছিলেন। চিকিৎসা সেরে বাড়ি ফেরার পথে সন্ধ্যার দিকে বড়া চৌমাথা মোড়-এ (Bara Choumatha More) দাঁড়িয়ে থাকা একটি লটারি কাউন্টারে তাঁর চোখ পড়ে।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ পূর্ব বর্ধমান : ভাগ্য কখন যে দরজায় কড়া নাড়ে, তা কেউই আগে থেকে জানে না। পূর্ব বর্ধমানের (Purba Burwdan) আউসগ্রাম থানার (Ausgram Police Station) অন্তর্গত বেলাড়ি (Belari) গ্রামের গৃহবধূ ডলি বিবির (Dolly Bibi) জীবনে ঠিক তেমনই একটি অবিশ্বাস্য মুহূর্ত ধরা দিল শনিবার সন্ধ্যায়। মাত্র ৩৫ টাকার একটি লটারি টিকিটই রাতারাতি বদলে দিল তাঁর পরিবারের ভাগ্য। সাধারণ একজন রাজমিস্ত্রি পরিবারের গৃহবধূ থেকে এক ঝটকায় কোটিপতি হয়ে উঠলেন ডলি বিবি, এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা এলাকায় শুরু হয়েছে আলোচনা।

ঘটনার সূত্রপাত শনিবার। শারীরিক অসুস্থতার কারণে ডলি বিবি সেদিন গুসকরা (Guskara) শহরে ডাক্তার দেখাতে গিয়েছিলেন। চিকিৎসা সেরে বাড়ি ফেরার পথে সন্ধ্যার দিকে বড়া চৌমাথা মোড়-এ (Bara Choumatha More) দাঁড়িয়ে থাকা একটি লটারি কাউন্টারে তাঁর চোখ পড়ে। হঠাৎ করেই ৩৫ টাকা দিয়ে ডলি একটি লটারি টিকিট কেনার সিদ্ধান্ত নেন। তখনও তাঁর মনে কোনও বিশেষ প্রত্যাশা ছিল না। প্রতিদিনের মতোই সেটিকে সাধারণ একটি টিকিট ভেবেই বাড়ি ফিরে যান। বাড়ি ফিরে রাত সাড়ে আটটা নাগাদ যখন লটারির ফলাফল (Lottery Result) প্রকাশিত হয়, তখনই ঘটে যায় চমক। নম্বর মিলিয়ে দেখতেই ডলি বিবি বুঝতে পারেন, তাঁর কেনা টিকিটেই উঠেছে প্রথম পুরস্কার, এক কোটি টাকা। প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারেননি। পরিবারের লোকজনকেও বারবার ডেকে নম্বর দেখান। তারপর ধীরে ধীরে নিশ্চিত হওয়া যায়, সত্যিই তাঁদের জীবনে নেমে এসেছে এক অভাবনীয় সৌভাগ্য।

আরও পড়ুন : West Bengal Voting-politics: পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতি: এগিয়ে কে-বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম না কংগ্রেস (আজ আঠেরো-তম কিস্তি)

এই খবর মুহূর্তের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে গোটা গ্রামে। ডলি বিবির পরিবারে নেমে আসে আনন্দের জোয়ার। দীর্ঘদিনের অভাব-অনটনের জীবনে এমন সুখের খবর যেন বিশ্বাস করাই কঠিন হয়ে উঠেছিল তাঁদের কাছে। ডলি বিবির পরিবারে রয়েছেন তাঁর স্বামী, এক ছেলে ও এক মেয়ে। স্বামী পেশায় রাজমিস্ত্রি (Mason)। প্রায় ১৫ বছর ধরে এই কাজ করেই কোনওমতে সংসার চালিয়ে আসছেন তিনি। অনিয়মিত রোজগার, কখনও কাজ আছে তো কখনও নেই, এই পরিস্থিতির মধ্যেই তাঁদের জীবন কেটেছে বছরের পর বছর। পরিবারের আয়ের আরেকটি ভরসা ছিল মাত্র ১৫ কাঠা জমিতে ভাগচাষ (Sharecropping)। সেই জমিতে চাষ করে যা সামান্য ফসল হতো, তাতেই চলত সংসারের প্রয়োজন। বহু বছরের কঠোর পরিশ্রমের পর তাঁরা একটি ছোট পাকা বাড়ি তৈরি করতে পেরেছিলেন। কিন্তু আর্থিক অনিশ্চয়তা কখনওই পিছু ছাড়েনি। সেই জায়গা থেকেই ডলি বিবির কোটিপতি হওয়ার খবর স্থানীয়দের কাছে যেন এক রূপকথার গল্প। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ডলি বিবি বলেন, “সত্যিই এটা আমার কাছে স্বপ্নের মতো। আমি কখনও ভাবিনি এমন কিছু হতে পারে। ডাক্তার দেখিয়ে ফেরার পথে এমনিই একটা টিকিট কেটেছিলাম। কোনও আশা, কোনও পরিকল্পনা ছিল না। কিন্তু যখন শুনলাম আমার টিকিটেই এক কোটি টাকা উঠেছে, তখন বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না।” তাঁর কথায় স্পষ্ট, এই অর্থ শুধু ভাগ্যের দান নয়, বরং তাঁদের ভবিষ্যৎ গড়ার এক বড় সুযোগ।

ডলি বিবি আরও জানান, এই টাকা দিয়ে তিনি প্রথমেই তাঁর ছেলে-মেয়ের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে চান। পড়াশোনা যাতে কোনওদিন বাধার মুখে না পড়ে, সেটাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি ভবিষ্যতের কথা ভেবে কিছু জমি কেনার ইচ্ছার কথাও জানান তিনি। দীর্ঘদিনের দারিদ্র্যের অভিজ্ঞতা তাঁকে শিখিয়েছে, টাকা এলেও তা পরিকল্পনা করে ব্যবহার করাই সবচেয়ে জরুরি। এদিকে, ৩৫ টাকার লটারি টিকিটে কোটিপতি হওয়ার এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই বড়া চৌমাথা মোড়ের ওই লটারি কাউন্টারে (Lottery Counter) ভিড় উপচে পড়ছে। ভাগ্য বদলের আশায় বহু মানুষ সেখানে টিকিট কাটতে ভিড় জমাচ্ছেন। স্থানীয় দোকানদারদের কথায়, ডলি বিবির জয়ের পর লটারির চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। কেউ কেউ বলছেন, “ভাগ্য যদি এমনই হয়, তাহলে চেষ্টা করতে ক্ষতি কী!” ওয়াকিবহাল মহল মনে করিয়ে দিচ্ছেন, লটারি সম্পূর্ণই ভাগ্যের খেলা। একজনের ভাগ্য খুললেও সকলের ক্ষেত্রে যে একই ফল হবে, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। তবুও ডলি বিবির গল্প সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে। কঠিন বাস্তবের মধ্যেও যে ভাগ্যের দরজা হঠাৎ খুলে যেতে পারে, এই ঘটনাই তার বড় প্রমাণ। প্রসঙ্গত, বর্ধমানের এই ঘটনা শুধু একটি লটারি জয়ের খবর নয়, তা গ্রামীণ জীবনের সংগ্রাম, আশা ও আকস্মিক সৌভাগ্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। আজ ডলি বিবির নাম শুধু তাঁর পরিবারেই নয়, গোটা এলাকাতেই আলোচনার কেন্দ্রে। ৩৫ টাকার একটি টিকিট যে এক রাজমিস্ত্রি পরিবারের জীবনে এমন আমূল পরিবর্তন আনতে পারে, তা হয়তো কেউ কল্পনাও করেননি।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Purbasthali : নতুন পাখি দেখতে ভিড় বেলগাছিতে

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন