সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক উত্তাপ ফের চড়ে গেল বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-এর একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে কেন্দ্র করে। বৃহস্পতিবার নিজের এক্স (X) অ্যাকাউন্টে তিনি এমন মন্তব্য করেছেন, যা মুহূর্তে চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যের এক মন্ত্রীর সভায় নাকি প্রকাশ্যেই চুরি হয়েছে সোনার হার, আর এই ঘটনাকে তিনি তুলনা করেছেন বৃহত্তর দুর্নীতি ও লুটের ঘটনার সঙ্গে। তাঁর পোস্টকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই শাসক-বিরোধী তরফে নতুন রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারী তাঁর পোস্টে লেখেন, “পুলিশ মন্ত্রী মাননীয়ার রাজত্বে এমনিতেই চোর জোচ্চোরদের ছড়াছড়ি। তারপরে ওনার সভা তো চোর, বাটপার, দুষ্কৃতীদের আখড়া। সেখানে সোনার হার চুরি হবে, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি সরাসরি ইঙ্গিত করেন যে, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাকি চরম শোচনীয় অবস্থায় পৌঁছেছে এবং মন্ত্রীর সভা নাকি ‘চোরদের নিরাপদ জায়গায়’ পরিণত হয়েছে। তিনি এখানেই থামেননি। আরও কটাক্ষ করে লেখেন, “যেখানে চাকরি চোর থেকে রেশন চোর, কয়লা,গরু, বালি, পাথর পাচারকারীরা আসে অনুপ্রেরণার টানে, সেই সভায় গেলে মা-বোন-দিদিদের বলব সাবধানে থাকবেন, সচেতন থাকবেন।” তাঁর বক্তব্য, সাধারণ মানুষ সেখানে গেলে চুরি হওয়া খুবই স্বাভাবিক, আর তা নিয়ে অবাক হওয়ার কোনও সুযোগ নেই।
তাঁর সবচেয়ে আক্রমণাত্মক মন্তব্যটি ছিল রাজ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, “যেখানে রাজ্যের যুবকদের ভবিষ্যৎ চুরি হয়ে যাচ্ছে, সেখানে সোনার হার চুরি তো সামান্য বিষয়।” তীব্র ভাষায় তিনি এই অভিযোগ তুলে ধরেন যে, নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে বিভিন্ন পাচার কাণ্ড- এসবই নাকি রাজ্যকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। শুভেন্দুর এই মন্তব্যের পর অঙ্গনে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। শাসক শিবিরের তরফে কেউ প্রতিক্রিয়া জানালেও এই অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক অসত্য এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আক্রমণ’ বলেই দাবি করছে তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ সূত্র। তাঁদের যুক্তি, বিরোধী দলনেতা সবসময়ই অতিরঞ্জিত মন্তব্য করে মানুষের মধ্যে ভুল বার্তা ছড়ানোর চেষ্টা করেন। তবে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, আগামী কয়েক মাসে একাধিক রাজনৈতিক কর্মসূচি, সভা ও নির্বাচনী প্রস্তুতিকে কেন্দ্র করে কট্টর আক্রমণের পথই ধরেছে বিজেপি। শুভেন্দুর এই পোস্ট সেই কৌশলকেই আরও এক ধাপ এগিয়ে দিল। বিশেষ করে “সোনার হার চুরি” প্রসঙ্গটিকে পুরোপুরি রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করার প্রয়াস দেখা যাচ্ছে। বিরোধী শিবিরের লক্ষ্য-আইনশৃঙ্খলা নিয়ে মানুষের ভয়ের জায়গাটি কাজে লাগানো।
এই প্রসঙ্গে রাজ্যের একটি অংশের সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। বহু মানুষ মন্তব্য করেছেন যে, রাজনৈতিক দলের সভায় ভিড় থাকলে ছোটখাটো অপরাধ ঘটতেই পারে। আবার অন্য অংশের দাবি, এটি একেবারেই নিরাপত্তাজনিত ব্যর্থতা, যা মন্ত্রী ও প্রশাসনের দায়িত্বেই পড়ে। তবে এও ঠিক যে, শুভেন্দুর বক্তব্যের তীব্রতা বিষয়টিকে নতুন মাত্রায় তুলে দিয়েছে।
রাজনৈতিক মহলে এখন প্রশ্ন, এই মন্তব্যের পাল্টা জবাব কী দেবে শাসকদল? তাঁরা কি এই মন্তব্যকে হালকা করে দেখবেন, নাকি পাল্টা আক্রমণের পথে হাঁটবে তৃণমূল কংগ্রেস? পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে যেভাবে আক্রমণ- প্রতিআক্রমণ চলছে, তাতে আগামী কয়েক দিনে এই ইস্যু আরও গরম হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, শুভেন্দু অধিকারীর এই বক্তব্য শুধুই সোশ্যাল মিডিয়ার দুনিয়ায় সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি তা নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Five Lakh People Chant Gita at Kolkata Brigade, Statement by Suvendu Adhikari | ব্রিগেডে পাঁচ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ: শুভেন্দু অধিকারী বললেন, কলকাতার আকাশ আজ গীতার শ্লোকে মুখরিত




