সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : শুক্রবার রাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্ট করে ভারত-রাশিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত তুলে ধরলেন। অনুষ্ঠিত ২৩তম ভারত-রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ বৈঠকের পর মোদী তাঁর বার্তায় জানান, দুই দেশের কৌশলগত, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও বৈশ্বিক সহযোগিতা আগামী দিনে কীভাবে নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে। প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, ‘আজকের ২৩তম ভারত-রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ বৈঠক দুই দেশের সহযোগিতার নানাদিক নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করার সুযোগ এনে দিয়েছে। আমরা ২০৩০ সাল পর্যন্ত একটি অর্থনৈতিক সহযোগিতা কর্মসূচিতে সম্মত হয়েছি, যার লক্ষ্য হলো আমাদের বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রকে আরও বিস্তৃত ও বিচিত্র করা। আমরা সংযোগ উন্নয়ন, জাহাজ নির্মাণ শিল্প, দক্ষতা বৃদ্ধি, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং আরও বহু বিষয়ে আলোচনা করেছি।’
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) পরবর্তী অংশে দুই দেশের মানুষে-মানুষে সম্পর্ক ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি লিখেছেন, ‘ভারত-রাশিয়ার বন্ধুত্বের একটি মূল স্তম্ভ আমাদের সাংস্কৃতিক ও জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক। রাশিয়ায় দুটি নতুন ভারতীয় কনস্যুলেট চালু হওয়া এবং সাম্প্রতিক সময়ে পবিত্র বৌদ্ধবস্তুর প্রদর্শনী এই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছে। শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণের মতো ক্ষেত্রেও আমাদের সামনে অনেক সম্ভাবনা রয়েছে।’ উল্লেখ্য যে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও যুদ্ধবিষয়ক প্রশ্নেও মোদীর বক্তব্য ছিল স্পষ্ট ও জোরাল। তিনি লেখেন, ‘রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে আলোচনায় বৈশ্বিক বিষয়গুলি গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেয়েছে। আমি ইউক্রেনে সংঘাতের বিষয়ে ভারতের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছি, যে আমরা শান্তির পক্ষে, এবং দীর্ঘস্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে। আমরা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যৌথভাবে লড়াই চালানোর প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দিয়েছি।’ এছাড়া বহুপাক্ষিক মঞ্চেও দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে ঘনিষ্ঠভাবে সহযোগিতা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারেও সম্মত হয়েছি।’
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই পোস্ট স্পষ্ট করে দিচ্ছে, ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক শুধু প্রতিরক্ষা বা জ্বালানির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তা আগামী দশকে তা বাণিজ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি, জাহাজশিল্প, খনিজ সম্পদ ও ভূ-রাজনৈতিক সহযোগিতার মতো বহু ক্ষেত্রেই আরও গভীর হবে। এই বৈঠক ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষত ইউক্রেন ইস্যুতে ভারতের শান্তি-ভিত্তিক অবস্থান এবং রাশিয়ার সঙ্গে একযোগে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ের কথা জোর দিয়ে বলায় এই সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। রাজনৈতিক মহলের মতে, ‘ইকনমিক কোঅপারেশন প্রোগ্রাম ২০৩০’ আগামী কয়েক বছরে ভারত-রাশিয়া বাণিজ্যকে বহুগুণ বাড়িয়ে তুলতে পারে। সংযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের ক্ষেত্রে সহযোগিতাও ভারতের কৌশলগত স্বার্থকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
শুক্রবার মোদীর রাতের পোস্ট প্রকাশের পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তা ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই মনে করছেন এই নতুন রূপরেখা ভারত-রাশিয়া সম্পর্ককে আরও গতি দেবে এবং বিশ্ব রাজনীতিতে ভারতের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করবে।পরবর্তী কয়েক মাসে এই সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন কোন গতিতে এগোয় এবং ২০৩০ -এর কৌশলগত পরিকল্পনা কত দ্রুত কার্যকর হয়, এটাই এখন কূটনৈতিক দৃষ্টিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : The Purple Fair organised by Ramakrishna Mission Blind Boys’ Academy, Narendrapur




