সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ ওয়াশিংটন : টেসলা এবং স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্ক (Elon Musk) আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তবে এইবার কারণ কোনও নতুন রকেট উৎক্ষেপণ বা বৈদ্যুতিক গাড়ি নয়, আমেরিকায় অভিবাসন নীতি নিয়ে তাঁর স্পষ্ট এবং সাহসী মন্তব্য। নিখিল কামাথ (Nikhil Kamath) জিরোধা-এর (Zerodha) সহ-প্রতিষ্ঠাতা সম্প্রতি তাঁর পডকাস্টে মাস্ককে সাক্ষাৎকার নেন। প্রায় দুই ঘণ্টার এই দীর্ঘ আলাপচারিতার শেষদিকে উঠে আসে অভিবাসন প্রসঙ্গ, আর সেখানেই মাস্ক জানালেন, প্রতিভাবান ভারতীয়দের অবদান ছাড়া আমেরিকার প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এত দ্রুত সম্ভব হতো না।
ইলন মাস্ক। ছবি সংগৃহীত /Getty Images
পডকাস্টে নিখিল যখন আমেরিকায় বহু বছরের অভিবাসন ইতিহাস তুলে ধরেন এবং বলেন যে বহু দক্ষ, শিক্ষিত, মেধাবী মানুষ সে দেশে গিয়ে নিজেদের ক্যারিয়ার তৈরি করেছেন, তখনই মাস্ক বিনা দ্বিধায় মন্তব্য করেন, ‘হ্যাঁ, যে প্রতিভাবান ভারতীয়েরা আমেরিকায় গিয়েছেন, তাঁদের থেকে আমেরিকা ভীষণ উপকৃত হয়েছে।’
মাস্কের এই মন্তব্যের পর দু’জনেই সংক্ষিপ্ত হাসি ভাগ করে নেন। যদিও নিখিল সামান্য কৌতুকের ঢঙে প্রশ্ন করেন, ‘এখন কি পরিস্থিতি বদলে যায়নি?’ ইলন মাস্ক স্পষ্ট করেন যে তাঁর অবস্থান একেবারেই বদলায়নি। তাঁদের মতে, আমেরিকার উন্নয়ন বহু দিক থেকেই ভারতীয় প্রতিভার ওপর নির্ভরশীল। এখানেই থামেননি মাস্ক। তিনি আমেরিকার বর্তমান অভিবাসন নীতির সমালোচনাও করেন। তাঁর কথায়, জো বাইডেন (Joe Biden) -এর শাসনকালে সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়ে, যার ফলে ব্যাপক হারে অবৈধ অনুপ্রবেশ বেড়ে যায়। মাস্ক বলেন, ‘বাইডেনের আমলে সীমান্ত কার্যত সবার জন্য খুলে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলেই সমস্যার সৃষ্টি হয়।’ তাঁর মতে, এই পরিস্থিতি আমেরিকার নাগরিকদের মধ্যে এক ধরনের অভিবাসন-বিরোধী মনোভাব তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে। তবে একইসঙ্গে তিনি জোর দিয়ে জানান যে প্রতিভাবান বিদেশিদের বিরুদ্ধে এই মনোভাব কোনওভাবেই যথাযথ নয়। আমেরিকায় দক্ষ কর্মীর অভাব সবসময়ই বড় সমস্যা, এ কথা স্পষ্ট করেই বলেন মাস্ক। তাঁর ব্যাখ্যা, ‘প্রতিভাবান লোকের অভাব সবসময়ই থাকে। কঠিন কাজগুলির জন্য মেধাবী কর্মী খুঁজে পাওয়া সহজ নয়। তাই যত বেশি প্রতিভাবান মানুষ পাওয়া যায়, ততই ভালো।’ তাঁর মতে, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ বজায় রাখতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মেধাবীদের যুক্ত হওয়া জরুরি।
সাক্ষাৎকারে উঠে আসে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার প্রসঙ্গও। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) -এর প্রশাসন সম্প্রতি এই ভিসা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এনেছে। প্রতি বছর এইচ-১বি ভিসা নেওয়ার জন্য আমেরিকান সংস্থাগুলিকে এক লক্ষ ডলার ফি দিতে হবে, এমন সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে চলেছে প্রশাসন। স্বভাবতই, এই নিয়ম পরিবর্তনের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে ভারতীয় এবং চীনা কর্মীদের উপর, কারণ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আমেরিকায় এই ভিসার সুবিধা সবচেয়ে বেশি পান ভারতীয়রাই। ইলন মাস্ক এই প্রসঙ্গে খোলাখুলি বলেন যে, কিছু সংস্থা এইচ-১বি ভিসার ‘অপব্যবহার’ করেছে, আর এ ধরনের অপব্যবহার অবশ্যই বন্ধ হওয়া উচিত। তবে তিনি করে জানান, এই ভিসা ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্যই হল আমেরিকায় দক্ষ কর্মীর ঘাটতি পূরণ করা, এবং প্রতিভাবান বিদেশিরা আমেরিকার অর্থনীতি ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রের জন্য এক অমূল্য সম্পদ।
নিখিল কামাথের প্রশ্নোত্তরের সময় একাধিকবার উঠে আসে আমেরিকায় কর্মসংস্থান সংকোচনের প্রসঙ্গও। কিছু লোক মনে করেন বিদেশিরা এসে আমেরিকানদের চাকরি কেড়ে নেয়। কিন্তু মাস্ক এ ধারণাকে ‘বাস্তবসম্মত নয়’ বলে মন্তব্য করেন। মাস্কের বক্তব্য, অত্যন্ত দক্ষ, উচ্চমানের কাজের ক্ষেত্রে ঘাটতি পূরণ করতে বিদেশি প্রতিভার বিকল্প নেই। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাস্কের এই মন্তব্য শুধু অভিবাসন নীতি নিয়েই নয়, ভারতীয় মেধার গ্লোবাল ভূমিকা নিয়েও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আমেরিকার টেক মহলে ভারতীয়দের সাফল্যের ইতিহাস দীর্ঘ, এবং মাস্কের প্রশংসা সেই বাস্তবতাকেই আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরল। প্রসঙ্গত, যে সময়ে অভিবাসন-নীতি নিয়ে বিভক্ত আমেরিকা, সেই সময় বিশ্বের বৃহত্তম প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছ থেকে ভারতীয়দের প্রতি এমন প্রশংসা নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। এক বড় অংশ মনে করছেন, মাস্কের মন্তব্য ভবিষ্যতে আমেরিকার ট্যালেন্ট-ভিত্তিক অভিবাসন কাঠামো তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
Indian Talent in USA, Elon Musk Immigration Comment | আমেরিকার উন্নয়নে ভারতীয়দের বিশাল অবদান : অভিবাসন নিয়ে ইলন মাস্কের মন্তব্য আলোচনায়
Sasraya News
FOLLOW US:
SHARE:
সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ ওয়াশিংটন : টেসলা এবং স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্ক (Elon Musk) আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তবে এইবার কারণ কোনও নতুন রকেট উৎক্ষেপণ বা বৈদ্যুতিক গাড়ি নয়, আমেরিকায় অভিবাসন নীতি নিয়ে তাঁর স্পষ্ট এবং সাহসী মন্তব্য। নিখিল কামাথ (Nikhil Kamath) জিরোধা-এর (Zerodha) সহ-প্রতিষ্ঠাতা সম্প্রতি তাঁর পডকাস্টে মাস্ককে সাক্ষাৎকার নেন। প্রায় দুই ঘণ্টার এই দীর্ঘ আলাপচারিতার শেষদিকে উঠে আসে অভিবাসন প্রসঙ্গ, আর সেখানেই মাস্ক জানালেন, প্রতিভাবান ভারতীয়দের অবদান ছাড়া আমেরিকার প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এত দ্রুত সম্ভব হতো না।
পডকাস্টে নিখিল যখন আমেরিকায় বহু বছরের অভিবাসন ইতিহাস তুলে ধরেন এবং বলেন যে বহু দক্ষ, শিক্ষিত, মেধাবী মানুষ সে দেশে গিয়ে নিজেদের ক্যারিয়ার তৈরি করেছেন, তখনই মাস্ক বিনা দ্বিধায় মন্তব্য করেন, ‘হ্যাঁ, যে প্রতিভাবান ভারতীয়েরা আমেরিকায় গিয়েছেন, তাঁদের থেকে আমেরিকা ভীষণ উপকৃত হয়েছে।’
আরও পড়ুন : Mobile Recharge Cost in India | মোবাইল রিচার্জের বাড়তি চাপ: সংকটে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবার, জরুরি পদক্ষেপের দাবি
মাস্কের এই মন্তব্যের পর দু’জনেই সংক্ষিপ্ত হাসি ভাগ করে নেন। যদিও নিখিল সামান্য কৌতুকের ঢঙে প্রশ্ন করেন, ‘এখন কি পরিস্থিতি বদলে যায়নি?’ ইলন মাস্ক স্পষ্ট করেন যে তাঁর অবস্থান একেবারেই বদলায়নি। তাঁদের মতে, আমেরিকার উন্নয়ন বহু দিক থেকেই ভারতীয় প্রতিভার ওপর নির্ভরশীল। এখানেই থামেননি মাস্ক। তিনি আমেরিকার বর্তমান অভিবাসন নীতির সমালোচনাও করেন। তাঁর কথায়, জো বাইডেন (Joe Biden) -এর শাসনকালে সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়ে, যার ফলে ব্যাপক হারে অবৈধ অনুপ্রবেশ বেড়ে যায়। মাস্ক বলেন, ‘বাইডেনের আমলে সীমান্ত কার্যত সবার জন্য খুলে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলেই সমস্যার সৃষ্টি হয়।’ তাঁর মতে, এই পরিস্থিতি আমেরিকার নাগরিকদের মধ্যে এক ধরনের অভিবাসন-বিরোধী মনোভাব তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে। তবে একইসঙ্গে তিনি জোর দিয়ে জানান যে প্রতিভাবান বিদেশিদের বিরুদ্ধে এই মনোভাব কোনওভাবেই যথাযথ নয়। আমেরিকায় দক্ষ কর্মীর অভাব সবসময়ই বড় সমস্যা, এ কথা স্পষ্ট করেই বলেন মাস্ক। তাঁর ব্যাখ্যা, ‘প্রতিভাবান লোকের অভাব সবসময়ই থাকে। কঠিন কাজগুলির জন্য মেধাবী কর্মী খুঁজে পাওয়া সহজ নয়। তাই যত বেশি প্রতিভাবান মানুষ পাওয়া যায়, ততই ভালো।’ তাঁর মতে, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ বজায় রাখতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মেধাবীদের যুক্ত হওয়া জরুরি।
আরও পড়ুন : Narendra Modi Parliament remark | অধিবেশন শুরুর দ্বারেই মোদীর কড়া বার্তা: ‘সংসদ নাটকের মঞ্চ নয়’, পাল্টা তোপ প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর
সাক্ষাৎকারে উঠে আসে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার প্রসঙ্গও। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) -এর প্রশাসন সম্প্রতি এই ভিসা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এনেছে। প্রতি বছর এইচ-১বি ভিসা নেওয়ার জন্য আমেরিকান সংস্থাগুলিকে এক লক্ষ ডলার ফি দিতে হবে, এমন সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে চলেছে প্রশাসন। স্বভাবতই, এই নিয়ম পরিবর্তনের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে ভারতীয় এবং চীনা কর্মীদের উপর, কারণ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আমেরিকায় এই ভিসার সুবিধা সবচেয়ে বেশি পান ভারতীয়রাই। ইলন মাস্ক এই প্রসঙ্গে খোলাখুলি বলেন যে, কিছু সংস্থা এইচ-১বি ভিসার ‘অপব্যবহার’ করেছে, আর এ ধরনের অপব্যবহার অবশ্যই বন্ধ হওয়া উচিত। তবে তিনি করে জানান, এই ভিসা ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্যই হল আমেরিকায় দক্ষ কর্মীর ঘাটতি পূরণ করা, এবং প্রতিভাবান বিদেশিরা আমেরিকার অর্থনীতি ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রের জন্য এক অমূল্য সম্পদ।
নিখিল কামাথের প্রশ্নোত্তরের সময় একাধিকবার উঠে আসে আমেরিকায় কর্মসংস্থান সংকোচনের প্রসঙ্গও। কিছু লোক মনে করেন বিদেশিরা এসে আমেরিকানদের চাকরি কেড়ে নেয়। কিন্তু মাস্ক এ ধারণাকে ‘বাস্তবসম্মত নয়’ বলে মন্তব্য করেন। মাস্কের বক্তব্য, অত্যন্ত দক্ষ, উচ্চমানের কাজের ক্ষেত্রে ঘাটতি পূরণ করতে বিদেশি প্রতিভার বিকল্প নেই। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাস্কের এই মন্তব্য শুধু অভিবাসন নীতি নিয়েই নয়, ভারতীয় মেধার গ্লোবাল ভূমিকা নিয়েও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আমেরিকার টেক মহলে ভারতীয়দের সাফল্যের ইতিহাস দীর্ঘ, এবং মাস্কের প্রশংসা সেই বাস্তবতাকেই আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরল। প্রসঙ্গত, যে সময়ে অভিবাসন-নীতি নিয়ে বিভক্ত আমেরিকা, সেই সময় বিশ্বের বৃহত্তম প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছ থেকে ভারতীয়দের প্রতি এমন প্রশংসা নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। এক বড় অংশ মনে করছেন, মাস্কের মন্তব্য ভবিষ্যতে আমেরিকার ট্যালেন্ট-ভিত্তিক অভিবাসন কাঠামো তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Elon Musk Partner Indian Origin | মাস্ক জানালেন তাঁর সঙ্গিনীর শিকড় ভারতে, ‘ইন্ডিয়ান অরিজিন’ পরিচয় ঘিরে আলোচনা তুঙ্গে
Author: Sasraya News
DilipGhosh, AgnimitraPaul, DeputyCM: দিলীপ ঘোষ ও অগ্নিমিত্রা পাল উপ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন | বাংলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ
West Bengal BJP CM oath, Suvendu Adhikari cabinet | ব্রিগেডে ঐতিহাসিক শপথ, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রথম সরকার, মন্ত্রিসভায় পাঁচ মুখ, দফতর বণ্টন এখনও বাকি
Suvendu Adhikari CM: বাংলার নব মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী | ঐতিহাসিক দিন
Narendra Modi Brigade Rally: ব্রিগেডে গ্র্যান্ড এন্ট্রি! শুভেন্দু-শমীককে সঙ্গে নিয়ে হুডখোলা গাড়িতে এলেন মোদী