Narendra Modi Parliament remark | অধিবেশন শুরুর দ্বারেই মোদীর কড়া বার্তা: ‘সংসদ নাটকের মঞ্চ নয়’, পাল্টা তোপ প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: শুরু হল সংসদের শীতকালীন অধিবেশন। আর প্রথম দিনেই রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছে গেল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) এবং বিরোধীপক্ষের দ্বন্দ্বে। অধিবেশন শুরু হওয়ার ঠিক আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মোদী যে সুরে বিরোধীদের উদ্দেশ্যে আক্রমণ শানালেন, তা নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সরাসরি মন্তব্য করেন, সংসদ আলোচনার জায়গা, নাটক করার নয়। তাঁর কথায়, “নাটক করার অনেক প্ল্যাটফর্ম আছে। কিন্তু সংসদ সেই জায়গা নয়। এখানে জনগণের পরিষেবা দেওয়াই প্রধান দায়িত্ব।”

প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যে একদিকে যেমন আলোচনার গুরুত্বের উপর জোর দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে বিরোধীদের আচরণকেও কটাক্ষ করা হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের অভিমত। বিহার বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে মোদী বলেন, “বিহার নির্বাচন আমাদের গণতন্ত্রের শক্তির সবচেয়ে উজ্জ্বল উদাহরণ। কিন্তু কিছু দল এখনও পরাজয়কে মেনে নিতে পারেনি। ধারাবাহিক পরাজয় সংসদে আলোচনার বিষয় হতে পারে না।” পাশাপাশি তাঁর আরও সংযোজন, “যদি বিরোধীরা চান, আমি ওদের কিছু টোটকা বলে দিতে পারি—কীভাবে মানুষকে পাশে পাওয়া যায়!” মোদীর (Narendra Modi) দাবি, বিহার নির্বাচনে ফলাফল বিরোধী দলগুলির কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। অনেক দলেরই জনগণের আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন বলে তাঁর মন্তব্য। তাঁর মতে, “সংসদের মতো পবিত্র জায়গায় দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন। এখানে নাটক করার সুযোগ নেই, বরং দেশের উন্নয়নই হওয়া উচিত প্রথম লক্ষ্য।” এই বক্তব্যের পরই বিরোধী নেতাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করার ভাষা ব্যবহার করছেন।

প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের জবাব দিতে এক মুহূর্তও দেরি করেননি কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা (Priyanka Gandhi Vadra)। সংসদ চত্বরে দাঁড়িয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “জনস্বার্থে যে বিষয়গুলি তোলা হয়, সেগুলো নাটক নয়। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কথা বলতে না দিলে সেটাই প্রকৃত নাটক।” এর পাশাপাশি দূষণ, ভোটার তালিকায় বিশেষ সংশোধন (SIR), দিল্লি বিস্ফোরণসহ জরুরি জাতীয় ইস্যু নিয়ে সরকার আলোচনায় আগ্রহ দেখাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, “কেন আমাদের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে দেওয়া হবে না? কেনই বা বিরোধীদের বক্তব্যকে নাটক বলা হবে?”

সোমবার থেকে শুরু হওয়া শীতকালীন অধিবেশন চলবে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত। মোট ১৫ কার্যদিবসের এই অধিবেশন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বিরোধীপক্ষ। সাধারণত এই অধিবেশন ২০ দিনের হয়। কংগ্রেস-সহ বহু বিরোধী দল অভিযোগ তুলেছে, কেন্দ্র ইচ্ছাকৃতভাবে অধিবেশনের সময় কমিয়ে দিচ্ছে যেন জাতীয় ইস্যুগুলি এড়িয়ে যাওয়া যায়।অধিবেশন শুরুর আগের দিন অর্থাৎ রবিবার কেন্দ্র সর্বদল বৈঠক ডেকেছিল। সেই বৈঠকেই বিরোধীরা দাবি করে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision) এবং দিল্লি বিস্ফোরণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হোক। বিরোধী দলের বক্তব্য, এসআইআর ইস্যুতে বহু মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ গেছে, যা গণতন্ত্রের ভিত্তিকে দুর্বল করতে পারে। এই প্রসঙ্গে বিরোধীরা একাধিক তথ্য তুলে ধরে সরকারের কাছে জবাবদিহি দাবি করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোদীর বক্তব্য মূলত বিরোধীদের কোণঠাসা করার কৌশল। তিনি বিহারের ফলাফল উল্লেখ করে এই পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন যে, বিরোধীরা বারবার জনসমর্থন হারাচ্ছে, আর সেই হতাশা সংসদে ‘নাটক’ করে ঢাকতে চাইছে। অন্যদিকে বিরোধীরা অভিযোগ করছেন, নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারের ব্যর্থতা আড়াল করতেই মোদী এমন ভাষা ব্যবহার করেছেন। সংসদীয় গণতন্ত্রে মতপার্থক্য স্বাভাবিক। কিন্তু এবার শীতকালীন অধিবেশনের শুরুতেই যে পরিমাণ রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা ইঙ্গিত দিচ্ছে, আগামী দিনে সংসদ আরও উত্তপ্ত হতে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে নজর এখন সংসদের আসন্ন অধিবেশনের দিকে। দেশের বিভিন্ন সমস্যায় আলোচনা হবে কি না, তা নিয়েই বর্তমানে সবচেয়ে বেশি কৌতূহল রাজনৈতিক মহলে। মোদী (Narendra Modi) যেখানে চান ‘আলোচনা হোক, নাটক নয়’, সেখানে বিরোধীরা বলছেন, আলোচনায় বাধা দিচ্ছে সরকারই। এই দুই অবস্থানের সংঘর্ষই শীতকালীন অধিবেশনকে কেন্দ্র করে তৈরি করেছে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ।

ছবি : সংগৃহীত 

আরও পড়ুন : PM Narendra Modi Vocal for Local speech | উৎসবের মরশুমে স্বদেশী ঝড় : ‘ভোকাল ফর লোকাল’-এর নয়া ডাক দিয়ে আত্মনির্ভরতার বার্তা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন